ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১০ ফাল্গুন ১৪৩০

মানবধর্মের মাহাত্ম্য

তৈয়বা খানম

প্রকাশিত: ২১:০৯, ২৯ নভেম্বর ২০২৩

মানবধর্মের মাহাত্ম্য

মানবিকতা বোধের কারণে মানুষকে আশরাফুল মখলুকাত তথা শ্রেষ্ঠ জীব বলা হয়

মানবিকতা বোধের কারণে মানুষকে আশরাফুল মখলুকাত তথা শ্রেষ্ঠ জীব বলা হয়। আচরণগত বৈশিষ্ট্যে, বিবেকবোধ ও মনুষ্যত্ব ইত্যাদির উপস্থিতি মানুষকে অন্যান্য প্রাণী থেকে পৃথক করে। কিন্তু মানুষ হিসেবে শ্রেষ্ঠত্বের মাপকাঠি আজ প্রশ্নবিদ্ধ মানবিকতার কাছে। 
এই তীব্র শীতে রেললাইনের দুইপাশে দৃষ্টি নিক্ষেপ করলেই বহু পরিবারের মানবেতর জীবন-যাপনের চিত্র লক্ষণীয়। তাদের পরিধানের উষ্ণ পোশাক নেই। আগুনকেই সঙ্গ দিয়ে তারা উষ্ণতা খুঁজে। ছোট শিশুটির জীবন বাঁচাতে বাবা-মা খাবারের অপ্রতুলতায় কুড়িয়ে কিংবা ডাস্টবিনের ফেলে দেওয়া উচ্ছিষ্ট খাবার সংগ্রহ করেন; এমনকি ব্যস্তনগরীর অলিতে-গলিতে তাদের ঠাঁই মেলে সেটাও ক্ষণিকের। আমাদের জন্য শীত আরামের হলেও তাদের জন্য তা জীবনযুদ্ধ। সমাজের উঁচু মঞ্চে বসে তাদের জীবন পর্যালোচনার ফুসরত হয়তো আমাদের কখনোই হয়ে ওঠে না। আত্মচিন্তা থেকে বেরিয়ে এসে আমরা চাইলেই তাদের পাশে দাঁড়াতে পারি।

আমরা চাইলেই আমাদের অপ্রয়োজনীয় শীতবস্ত্র দিয়ে তীব্র শীতে কষ্ট পাওয়া মানুষদের পাশে দাঁড়াতে পারি। রেস্তোরাঁতে খাবার নষ্ট না করে চাইলেই তা ক্ষুধায় কাতর মানুষটিকে দিয়ে সাহায্য করতে পারি। এটাই তো মানবিকতা। সেই সময় তাদের আত্মতৃপ্তি আপনি কোনো কিছু দিয়ে সংজ্ঞায়ন করতে পারবেন না। আমরা তো প্রত্যেকেই হন্যে হয়ে সুখের পেছনে ছুটছি। অথচ এই কাজগুলোর মাঝে সুখ নিহিত। আপনি তাদের পাশে দাঁড়িয়ে যে ভালোবাসাটুকু অনুভব করবেন সমগ্র বিশ্ব তন্নতন্ন করলেও অন্য কোথাও তা বিরল। মানবধর্মই তো শ্রেষ্ঠ ধর্ম। যা সকল ভেদাভেদ ভুলে সাম্যের মালা গাঁথে। সৃষ্টির সেবাতে আত্মনিয়োগ করে স্রষ্টাকে উপলব্ধি করা যায়, বৈরাগ্য সাধনা করার তাকে পাওয়া যায় না। সমাজের পথে-প্রান্তরে ফুটে থাকা এই অসহায় ফুলগুলোর যত্ন নিন। একদিন এর বৃহৎ বাগান আপনাকে সুবাসিত করবে।

হাটহাজারী, চট্টগ্রাম থেকে

×