ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ১৪ জুন ২০২৪, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

অরক্ষিত রেলক্রসিং

প্রকাশিত: ২০:২৯, ৩১ মার্চ ২০২৩

অরক্ষিত রেলক্রসিং

.

অরক্ষিত রেলক্রসিংয়ের কারণে দুর্ঘটনা বাড়ার বিষয়টি উদ্বেগজনক। গত সপ্তাহে মালিবাগ রেলক্রসিংয়ে সংঘটিত ঘটনায় ইতোমধ্যে তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। সংক্রান্ত জনকণ্ঠের প্রতিবেদনে প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণে যা উঠে এসেছে সেটি রাজধানীবাসীর জন্য সতর্কতামূলক। শুধু ঢাকাতেই নয়, বিভিন্ন জেলা-উপজেলায়ও রয়েছে অরক্ষিত রেলক্রসিং, যা বিপজ্জনক এবং হতাহতের কারণ। আমরা মানি আর নাই মানি, রেলক্রসিংয়ে দুর্ঘটনার একটি বড় কারণ জনসাধারণের উদাসীনতা। যেহেতু মানুষ সচেতন নয়, সেহেতু দু-একজন গেটম্যান দিয়ে রেলক্রসিং এলাকার শৃঙ্খলা রক্ষা করা সম্ভব নয়। ট্রেন আসার আগমুহূর্তে রেলক্রসিংয়ে বার ফেলা হলেও সিগন্যাল অমান্য করে পথচারী, মোটরবাইক চালক, এমনকি হাল্কা যানবাহনও পারাপারের চেষ্টা করে। দেখা যায়, ট্রেন আসছে অথচ মোবাইল ফোনে কথা বলতে বলতে বা গান শুনতে শুনতে রেললাইন অতিক্রম করছে পথচারী।

দেশে রেলপথে মোট ক্রসিং আছে দুই হাজার ৮৫৬টি। এর মধ্যে প্রায় এক হাজার ৩৬১টির অনুমোদন নেই। আর এক হাজার ৪৯৫টি বৈধ ক্রসিংয়ের মধ্যে ৬৩২টির গেটম্যান নেই। অবৈধ ক্রসিংয়ের বেশিরভাগ রাস্তাই স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ (এলজিইডি) ইউনিয়ন পরিষদের। বিগত এক যুগে রেলওয়েতে এক লাখ ৬৩ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হলেও লেভেল ক্রসিংগুলো নিরাপদ করা হয়নি। যে কারণে একটি দুর্ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতে আরেকটি দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে। অরক্ষিত রেলক্রসিংয়ে ছোট একটি সতর্কীকরণ নোটিস টাঙিয়ে কর্তৃপক্ষ দায় সারে। কিন্তু একবারও ভাবে না যে এটি ক্রসিং নামের মৃত্যুফাঁদ। যখনই দুর্ঘটনা ঘটে তখন দায়ী ব্যক্তিকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। গঠন করা হয় তদন্ত কমিটি। তবে তদন্ত কমিটির রিপোর্টের সুপারিশ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার বিশেষ নজির নেই।

রেলপথের একটি নির্দিষ্ট এলাকার মধ্যে সাধারণ মানুষের প্রবেশ আইনত দণ্ডনীয়। আইন বাংলাদেশের মতো দেশের মানুষ কতটুকু মেনে চলছে, তা দেখার কেউ নেই। রেলওয়ে অধ্যাদেশ ১৮৯০ অনুসারে বিনা অনুমতিতে রেলপথের ওপর দিয়ে হাঁটলে গ্রেফতারসহ দুই বছরের কারাদণ্ডের বিধান আছে। প্রশ্ন হচ্ছে, আর কত মানুষের প্রাণ গেলে লেভেল ক্রসিংয়ে দুর্ঘটনার মৃত্যুর মিছিল থামবে।

যেহেতু দেশে ট্রেন দুর্ঘটনার একটি বড় কারণ অবৈধ অরক্ষিত রেলক্রসিং, সেহেতু নিয়ে আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সমস্যার সমাধানে তৎপর হবে, এটাই ছিল প্রত্যাশিত। বাস্তবে এর বিপরীত ঘটনাই ঘটে। স্থানীয় প্রভাবশালীদের কেউ কেউ অবৈধ রেলক্রসিংগুলো সুরক্ষার পুরো দায় রেল কর্তৃপক্ষের ওপর চাপাতে চায়। তাদের ধারণা, রেল কর্তৃপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি করলেই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। স্থানীয় প্রভাবশালীদের মনে রাখতে হবে, ধরনের কথা বলে এলাকাবাসীর মন জয় করার চেষ্টা করে মূলত এলাকাবাসীর ক্ষতিই করছে তারা। অবিলম্বে অবৈধ লেভেল ক্রসিং বন্ধ করা চাই। জননিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সামগ্রিকভাবে রেল ক্রসিং-ব্যবস্থা নিয়ে নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন। এর আগ পর্যন্ত প্রতিটি ক্রসিংয়ে গেটম্যান প্রতিবন্ধক বার নিশ্চিত করতে হবে।  

×