ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ২১ এপ্রিল ২০২৪, ৮ বৈশাখ ১৪৩১

বিভক্তির সমাধানে ফল শূন্য

ওবায়দুল কবির

প্রকাশিত: ২০:৩৮, ২৮ জানুয়ারি ২০২৩

বিভক্তির সমাধানে ফল শূন্য

জটিলতা নিরসনে সহজ উপায় ভাগ করে দেওয়া

জটিলতা নিরসনে সহজ উপায় ভাগ করে দেওয়া। বিভাজনের এই প্রক্রিয়ায় বাঙালি সমাজে যৌথ পরিবারের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে গেছে। সামাজিক বিভক্তিতে পাড়া, মহল্লাসহ আঞ্চলিক ইজম এখন বিলুপ্তপ্রায়। বিভাজন নীতিতে আক্রান্ত দেশের রাজনীতি। অন্য দল দূরের কথা উপদলীয় কোন্দলে দুর্বল হয়ে পড়ছে রাজনৈতিক দলগুলো। উদার রাজনৈতিক সংস্কৃতি এখন কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি।

সরকারের কিছু অপরিকল্পিত বিভাজন নীতি দুর্বল করে দিয়েছে অনেক প্রশাসনিক কাঠামো। ধর্মীয় বিভাজন অনেক পুরনো এবং সবচেয়ে বেশি। সকল ধর্মীয় সংগঠন ও মতবাদেই বিভাজন তীব্র। বিভাজন নীতিতে ক্ষুণœ হচ্ছে ধর্মীয় ভাবমূর্তি। সর্বশেষ উদাহরণ এক সময় মুসলিম উম্মার খুবই মর্যাদাশীল সম্মেলন বিশ^ ইজতেমা।    
সম্প্রতি দুই দফায় বিশ^ ইজতেমা সমাপ্ত হয়েছে সফলভাবে। লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসল্লি সমবেত হয়েছিলেন টঙ্গীর তুরাগ পাড়ে ইজতেমা প্রাঙ্গণে। করোনার কারণে মাঝখানে দুই বছর বন্ধ ছিল বিশে^র দ্বিতীয় বৃহত্তম এই ইসলামী সম্মেলন। এবার দুই দফায় অনুষ্ঠিত হলেও লোক সমাগম হয়েছে প্রচুর। বিভক্তির কারণে সম্মেলনের ঐতিহ্য ছিল অনেকটাই ম্লান। কেন্দ্রীয় তবলিগ জামাতের বিভক্তির প্রভাবে বিভক্তি এসেছে সারাবিশে^র মুসলিম উম্মার এই বিশাল আয়োজনে।

বিভিন্ন দেশের মুসলমানদের কাছে বিশ্ব ইজতেমার সেই ভাবমূর্তি আর নেই। মুসলিম দেশগুলোর প্রতিনিধিত্ব এখন নেই বললেই চলে। ঐক্যবদ্ধ ইজতেমায় সারাবিশ্ব থেকে হাজার হাজার মুসল্লি যোগদান করতেন। বিশ^ মসুলিম সম্প্রদায়ের এই মিলনমেলা এখন আঞ্চলিক রূপ ধারণ করেছে।

বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে বারবার ঐক্যের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এবারও দুই পক্ষকে এক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বাংলাদেশের বিভক্ত তবলিগ জমাতের দুই অংশের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তারা একমত হতে না পারায় আবারও বিভক্ত ইজতেমাই অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিভক্ত নেতারা নিজেরা আলোচনা করে ঠিক করেছেন কারা আগে আর কারা পরে ইজতেমা করবেন।

ভারতের মাওলানা মোহাম্মদ সাদ কান্দালভীর একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ২০১৭ সালে বিশ্ব ইজতেমার আয়োজক তবলিগ জামাতের নেতাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি হয়েছিল। এরপর  থেকে বাংলাদেশে দুই গ্রুপে আলাদা হয়ে দুই পর্বে ইজতেমা আয়োজন করছেন। 
টঙ্গীতে তুরাগ নদির তীরে ১৯৬৭ সাল থেকে প্রতি বছর নিয়মিত তবলিগ জামাতের বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এতে বিশে^র সকল মুসলিম দেশের প্রতিনিধিই অংশ নিয়ে থাকেন। মুসলমানদের সবচেয়ে বড় জমায়েত হজের পর এটি অন্যতম বড় সমাবেশ বলে বিবেচনা করা হয়। তবলিগ জামতের উদ্যোগে এই সমাবেশ হয়ে চলেছে যুগ যুগ ধরে। বিশ্ব মুসলিম উম্মায় এই ইজতেমার গুরুত্ব ছিল হজের পরই। সুন্নি মুসলমানদের বৃহত্তম সংগঠন তবলিগ জামাতের মধ্যে দ্বন্দ্ব প্রথম প্রকাশ্য রূপ নেয় ২০১৭ সালে। সাদ কান্দালভী বেশ আগে থেকেই তবলিগ জামাতের কিছু সংস্কারের কথা বলছিলেন। ২০১৭ সালের শেষদিকে তিনি বলেন, ‘ধর্মীয় শিক্ষা বা ধর্মীয় প্রচার কোনোভাবেই অর্থের বিনিময়ে হওয়া উচিত নয়।’ তিনি আরও বলেন, মাদ্রাসা শিক্ষকদের মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়া উচিত, মাদ্রাসার ভিতরে নয়। এতে মানুষের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ বাড়তে পারে।’

তার এই বক্তব্যে ভারতে তবলিগ জামাতের একাংশকে ক্ষুব্ধ করে  তোলে। তারা মনে করেন, এই বক্তব্যের মাধ্যমে মিলাদ বা ওয়াজ মাহফিলের মতো কর্মকাণ্ড অর্থের বিনিময়ে পরিচালনার বিপক্ষে বলা হয়েছে। দারুল উলুম দেওবন্দ অনুসারীরা মনে করছেন মাদ্রাসার মধ্যে নামাজ পড়তে নিষেধ করে কান্দালভী আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের বিশ্বাস ও আকিদার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন।

দিল্লি তবলিগের এই বিভক্তির প্রভাব পড়ে বাংলাদেশেও। বিভক্ত হয়ে পড়েন বাংলাদেশের তবলিগ জামাতের শীর্ষ  নেতারা। ২০১৮ সালের জুলাই মাসে তবলিগ জামাতের সাদবিরোধী অংশকে আনুষ্ঠানিক সমর্থন দিয়েছিলেন  হেফাজতে ইসলামের তৎকালীন নেতা আহমদ শফী। হেফাজতে ইসলাম এখনো সাদবিরোধী অবস্থানে রয়েছে। তখন থেকেই বাংলাদেশে সাদবিরোধী অংশটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন মাওলানা জুবায়ের আহমেদ। সাদপন্থিদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন মাওলানা ওয়াসিফুল ইসলাম। এই বিভক্তিতে তবলিগ জামাতের মূল কেন্দ্র কাকরাইলে দুই দলের কর্মীদের মধ্যে হাতাহাতি হয়। কাকরাইল মসজিদের দখল নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। দুই পক্ষের নেতাদের নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একাধিক বৈঠক করেন। বিরোধ মেটাতে ইসলামি চিন্তাবিদদের নিয়ে সরকার একটি উপদেষ্টা কমিটি গঠন করে দিয়েছিল। কমিটি অনেক চেষ্টা করেও সফল হতে পারেনি। কেন্দ্রীয় তাবলিগ জামাতের দ্বন্দ্বে বিশ^ মুসলমানদের মিলনমেলাও বিভক্তি হয়ে পড়ে। ভাবমূর্তি নষ্ট হয় এই সমাবেশের। 
শুধু বিশ^ ইজতেমাই নয়, বিভক্তির ফল কোনো ক্ষেত্রেই ভালো হয় না। এক্ষেত্রে আরও একটি উদাহরণ দেওয়া যায় রাজধানী ঢাকাকে দুই ভাগে বিভক্ত করা। একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে রাজধানী শহরকে দুই ভাগে বিভক্ত করে দুটি সিটি করপোরেশন করা হয়। একটি শহরে দুজন মেয়র, দুটি প্রশাসন সমান্তরালভাবে স্থাপন করা হয়। রাজধানীর সকল সেবা ও প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানকে একত্রিত করে ‘সিটি গভর্নরের’ দাবি ছিল দীর্ঘদিনের। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয়ের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে সেবাবঞ্চিত হচ্ছেন নগরবাসী। সিটি গভর্নর দূরের কথা, সরকার এর উল্টোদিকে অবস্থান নেয়।

একটি নগরীর প্রশাসনকে ভাগ করে দুই ভাগে। এখন একটি রাস্তা তৈরি থেকে শুরু করে নগরীতে নতুন পাবলিক পরিবহন চালু করতে হলে দুই সিটিকে একসঙ্গে বসে সমন্বয় করতে হয়। দুই মতের কারণে অনেক ক্ষেত্রেই তা বিঘিœত হয়। দুই শীর্ষ ব্যক্তির দুই মত, বাস্তবায়নে প্রশাসনের দুই প্রক্রিয়া যে কোনো সহজ কাজকেও কঠিন করে দিচ্ছে।  দুই সিটির এই বিভক্তির ফল ভোগ করছে নগরবাসী।
একই সঙ্গে বলা যায় রাজধানীর ট্রাফিক বিভাগ এখন আট ভাগে বিভক্ত। উত্তর-দক্ষিণ ও পূর্ব-পশ্চিম।

আট বিভাগের সমন্বয় করার জন্য কেন্দ্রীয় কোনো কর্তৃপক্ষ নেই। ডিএমপি কমিশনারকে রাজধানীর আইনশৃঙ্খলার পাশাপাশি আট ট্রাফিক বিভাগের মধ্যে সমন্বয় করতে হয়। অতীতে রাজধানীতে ট্রাফিক বিভাগ ছিল একটি শাসনের অধীনে। একজন উপ-কমিশনার ট্রাফিক বিভাগ পরিচালনা করতেন। শুরুতে এটি ভেঙে দুটি এবং আরও পরে আটটি বিভাগ করা হলেও একটি প্রশাসন কায়েমে ট্রাফিক কশিনারের কোনো পদ সৃষ্টি করা হয়নি। স্বাভাবিকভাবেই আট বিভাগের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব পরিলক্ষিত হয়। কারণে-অকারণে রাজধানীর তীব্র যানজট, ট্রাফিক বিশৃঙ্খলা এরই ফল।

দুই সিটি করপোরেশন, আটটি ট্রাফিক বিভাগের মধ্যে সমন্বয়ের অভাবে রাজধানীতে একটি আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাও গড়ে উঠেনি। গড়ে ওঠেনি একটি আধুনিক পাবলিক পরিবহন ব্যবস্থা। বিশে^র সকল বড় শহরে মনুষ্যবিহীন ট্রাফিক ব্যবস্থা কায়েম হয়েছে। ডিজিটাল বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় চলছে আদিম যুগের ট্রাফিক ব্যবস্থা। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে কোনো গবেষণা নেই, প্রযুক্তি ব্যবহারের কোনো উদ্যোগ নেই।

দেখে-শুনে মনে হয় এ নিয়ে কেউ খুব একটা চিন্তা-ভাবনাও করেন না। ওপরের মহল থেকেও এনিয়ে কোনো নির্দেশ দেয়া হয় না। ডিজিটাল বাংলাদেশের পর স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিদেনপক্ষে ডিজিটাল করার চিন্তাও কেউ করছেন না।
রাজধানীর পাবলিক পরিবহন বলতে ভাঙাচুরা বাস। বিশে^র অতি দরিদ্র কোনো দেশেও এমন বাসের দেখা মিলে না। আমাদের রাজধানীতে এগুলো চলছে নির্বিঘেœ। মাঝে-মধ্যে সিটি করপোরেশন থেকে অভিযান পরিচালনা করা হলে রাস্তায় দেখা দেয় বাসশূন্যতা। অর্থাৎ বাসগুলো রাজধানীতে চলাচলের উপযুক্ত নয়। গোপন জায়গায় নিয়ে বাসের গায়ে রং মেখে এরা আবার নেমে পড়ে রাস্তায়। বাসের ড্রাইভার, কন্ডাক্টরের আচরণ এমন যে, কোনো ভদ্র যাত্রী এসব বাসে চড়তে সাহসী হয় না। দিন শেষে জমার টাকা তুলতে বাসের ড্রাইভাররা নামছে গতির প্রতিযোগিতায়।

বাসগুলোর এই সর্বনাশা প্রতিযোগিতায় প্রতিনিয়ত প্রাণ হারাচ্ছে নিরীহ পথচারী। অশুভ প্রতিযোগিতায় যানজট লেগে থাকছে সকল রাস্তায়। আদিম যুগের এনালগ পদ্ধতির ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় ট্রাফিক সার্জনদের ইচ্ছে আইনে জিম্মি হয়ে পড়ছে নগরীর সকল যানবাহন। সুযোগ পেলেই তাই আইন ভঙ্গ করছে যানবাহনের ড্রাইভাররা। পরিণতিতে ট্রাফিক জ্যাম।
মধ্যবিত্ত শ্রেণির নাগরিকদের পক্ষে রাজধানীতে চলাচলকারী বাসে চড়া কোনোভাবেই সম্ভব হচ্ছে না। স্বাভাবিকভাবেই রাস্তায় বাড়ছে প্রাইভেট কারের দাপট। একই সঙ্গে বাড়ছে ট্রাফিক জ্যাম। সম্ভবত বিশে^র একমাত্র রাজধানী শহর যেখানে গড়ে ওঠেনি ট্যাক্সি ব্যবস্থা। সিএনজিচালিত অটোরিক্সা মধ্যবিত্ত যাত্রীদের একমাত্র ভরসা। এই সুযোগে অটোরিক্সা যাত্রীদের জিম্মি করে যথেচ্ছ অর্থ আদায় করছে। কোনো নীতিমালা না থাকায় ইচ্ছেমতো ভাড়া আদায় করছে ‘অ্যাপস’ ভিত্তিক পরিবহনগুলো।

সম্প্রতি দুই সিটির দুই মেয়র প্রচুর বৈঠক, অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং পরিবহন মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে দুটি রুটে দুটি বাস কোম্পানি চালু করার চেষ্টা করেছেন। বাস মালিকদের অসহযোগিতা, সঠিক তদারকির অভাবে এগুলো চলছে না ঠিকভাবে। যাত্রীরা মনে করেন সঠিক নির্দেশনা না মানা এবং ইচ্ছেমতো যাত্রী পরিবহনের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে। এভাবে চললে এই বাসের ভবিষ্যৎও অনিশ্চিত।
নাগরিকের জন্য সরকারের সেবা নিশ্চিত করতে প্রশাসন বিকেন্দ্রীকরণের কথা বলা হয়। বিকেন্দ্রীকরণ মানে প্রশাসনকে মানুষের কাছে নিয়ে যাওয়া, বিভক্ত করা নয়। বিকেন্দ্রীকরণ নীতিতে দেশের ১৯ জেলা ভেঙে ৬৪ জেলা করা হয়েছে। সারাদেশের থানাগুলোকে উন্নীত করা হয়েছে উপজেলায়। এগুলো সঠিকভাবে কাজ করতে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে প্রশাসনিক চেইন অব কমান্ড।

একটি শহরকে উত্তর-দক্ষিণে ভাগ করে প্রশাসনে চেইন অব কমান্ড প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। সেবা মানুষের দোরগোড়ায় নিয়ে যেতে সিটি করপোরেশনকে ওয়ার্ডে ভাগ করা হয়েছে। ওয়ার্ড কাউন্সিলরের নেতৃত্বে এসব ইউনিট পরিচালিত হয়। প্রয়োজনে সেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর ইউনিট পাড়া-মহল্লায় পর্যন্ত ছড়িয়ে দিতে হবে। ভাগ নয়, নিয়ন্ত্রণ থাকতে হবে একটি কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠান এবং একজন প্রশাসকের হাতে। তবেই নাগরিক সেবা শতভাগ নিশ্চিত করা সম্ভব। 
বিভক্তির এই ধারা শুরু হয়েছিল রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে। নেতাদের মূল্যায়ন করতে বড় শহর, বড় জেলাকে দুভাবে বিভক্ত করে সাংগঠনিক জেলা তৈরি করা হয়। যেমন ঢাকা উত্তর-ঢাকা দক্ষিণ, চট্টগ্রাম উত্তর-চট্টগ্রাম দক্ষিণ, কুমিল্লা উত্তর-কুমিল্লা দক্ষিণ সাংগঠনিক জেলা ইত্যাদি। এই প্রক্রিয়ায় বেশি সংখ্যক নেতাকে দলের কমিটিগুলোতে সম্পৃক্ত করার সুযোগ পাওয়া যায়। রাজনৈতিক দলগুলো এই বিভক্তিতে তাদের সমস্যা সমাধান করলেও সাংগঠনিক ক্ষতির মুখোমুখি হতে হয় না।

একই চেইন অব কমান্ডে পরিচালিত হয় সকল রাজনৈতিক দল। বেশি ইউনিটে বিভক্তি অনেক ক্ষেত্রে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের মতো দলগুলোর জন্যও সুফল বয়ে আনে। প্রতিযোগিতামূলক সাংগঠনিক কর্মকা-ে দল শক্তিশালী হয়। প্রশাসনিক কাঠামোয় এই প্রক্রিয়া সফল হয় না। বিভক্ত প্রশাসনের মধ্যে দেখা দেয় সমন্বয়হীনতা। চিন্তার বৈপরীত্য এবং অনেক ক্ষেত্রে ইগোর কারণে সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। কাজের গতি শ্লথ হয়ে যায়।

দুর্বল করে দেয় প্রশাসনিক কাঠামোকে। দুর্বল প্রশাসনিক কাঠামো দিয়ে নাগরিক সেবা এবং উন্নয়ন কোনোটাই নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না। সামাজিক পরিস্থিতি বিবেচনায় হয়ত যৌথ পরিবার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। ধর্মীয় বিভাজন দূর করাও কঠিন কাজ। প্রশাসনিক বিভক্তির নেতিবাচক দিকগুলো সরকারের নীতি নির্ধারকরা ভেবে দেখতে পারেন।               
লেখক : নির্বাহী সম্পাদক, জনকণ্ঠ

×