ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ১৩ মার্চ ২০২৬, ২৯ ফাল্গুন ১৪৩২

ফারহানা ইয়াসমিন

মুক্তচিন্তা ও কথা বলার শৈল্পিক প্রয়োগ

প্রকাশিত: ১৯:৫৮, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২১

মুক্তচিন্তা ও কথা বলার শৈল্পিক প্রয়োগ

জ্ঞান চর্চার জন্য যত উপায় আমাদের সামনে আছে তার মধ্যে অন্যতম হলো মুক্তচিন্তা করা। মানুষের মাঝে সেই চিন্তার বিস্তার ঘটে মুক্তচিন্তার বই পড়ে, ভ্রমণ করে, বিখ্যাত মানুষের সঙ্গে মিশে, বিনোদন ও সোশ্যাল জগতের সাহায্যে। কিন্তু এগুলোর মধ্যে উত্তম উপায় হলো বইপড়া। কারণ, ঘরে বসে বিশ্বের যে কোন বিষয় সম্পর্কিত বই পড়ে সহজেই এবং নির্দ্বিধায় মুক্তচিন্তা চর্চা করা যায়। অনেক সময় দেখা যায় একজন ব্যক্তির ইচ্ছা থাকলেও সামর্থ্যরে অভাবে দেশবিদেশে ভ্রমণ করতে পারে না। আবার সুযোগ সুবিধামতো বিখ্যাত ব্যক্তিদের শরণাপন্নও হতে পারে না এবং বিনোদন জগতের অন্যতম উৎস সোশ্যাল মিডিয়াকে সঠিকভাবে ব্যবহার করে অজানা তথ্য জেনেও মুক্তচিন্তা করতে অপারগ হয়। তাই গ্রন্থ জগতে বিচরণের বিকল্প নেই। তবে শুধু বই পড়লে হবে না, লেখার মাধ্যমে বই থেকে জ্ঞান আহরণ অনুশীলনে পরিণত করতে হবে। দিনের শুরুতে অথবা রাতের শুরুতে লেখালেখি ও অনুশীলনের জন্য সময় নির্ধারণ করা যেতে পারে। দিনের কর্মময় যান্ত্রিক পরিবেশে প্রবেশ করার আগে খুব ভোরে অথবা রাতের কাজ শেষে ঘুমাতে যাওয়ার আগে পনেরো থেকে বিশ মিনিট সময় নিয়ে মুক্তচিন্তা-ভাবনাকে কাগজের মধ্যে রূপান্তরিত করা। তবে এই অনুশীলনে কত সময় ব্যয় করা যথোপযুক্ত তা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন মতামত রয়েছে। কোন কোন লেখক বলেন, মুক্তচিন্তাকে বাস্তবিক রূপ দেয়ার জন্য ফ্রি-রাইটিং দরকার। আর ত্রিশ মিনিটের বেশি ফ্রি-রাইটিং লেখাকে আস্তে আস্তে অগোছালো করে দেয়। আবার অনেকে মনে করেন, দশ মিনিট লেখার পর ভাল লেখা আসে। লেখা নিয়মিত অনুশীলন করা অগ্নিপরীক্ষার মতো। অনেকেই আছেন দুইদিন/পাঁচদিন/ সাতদিন লেখার পর এই অনুশীলনের কথা ভুলে যান। কিন্তু যারা নিজেকে সফল করতে চায়, তারাই এই অগ্নিপরীক্ষায় জয়ী হন। প্রত্যেক সফল ব্যক্তিই মেধাবী ও বুদ্ধিমান হন না। যারা পরাজয় মানতে অক্ষম তারাই সফল হন। জ্ঞান চর্চার পাশাপাশি প্রতিযোগিতা করে নিজেকে টিকিয়ে রাখার অন্যতম আরেকটা প্রচেষ্টা হলো কথা বলে নিজেকে উপস্থাপন করা। একজন উপস্থাপক কত সুন্দর করে নিজেকে উপস্থাপন করতে পারেন বর্তমানে সেটাই মুখ্য বিষয়। এক্ষেত্রে কিছু শৈল্পিক বৈশিষ্ট্যের দিকে নজর রাখা অতীব জরুরী। যেমন- আঞ্চলিকতা পরিহার করা, জড়তা দূর করা, ধীরে ধীরে সুন্দর শব্দশৈলী ব্যবহার করে কথা বলা, উচ্চারণের দিকে লক্ষ্য রাখা, সঠিক তথ্য পরিবেশন করা এবং সাহিত্য রসের প্রয়োগ ইত্যাদি। এ সকল বিষয় মাথায় রেখে একজন বক্তা বা উপস্থাপকের উচিত বক্তৃতার মঞ্চ কাঁপানো। মনে রাখতে হবে, প্রথমবার মঞ্চে উঠে কথা বলার সময় সবারই কম বেশি হাঁটু কাঁপে, চোখেমুখে ভয়ের ছাপ পড়ে এবং একটু আধটু ঘাবড়ে যায়। যারা নতুন বক্তা তাদের ক্ষেত্রে এ রকম হতেই পারে। এটা খুবই স্বাভাবিক বিষয়। কারণ, ইংরেজীতে একটি কথা আছে ‘Practice makes a man perfect.’ কাজেই অনুশীলনের মাধ্যমে সে একদিন ভাল বক্তা হবে পৃথিবীর বুকে। সর্বোপরি একজন ভাল বক্তা হওয়ার পাশাপাশি একজন ভাল শ্রোতা হওয়ার চেষ্টা করতে হবে। অনেকে আছেন যারা শুধু নিজে কথা বলতে পছন্দ করেন। তবে শ্রোতা হওয়াও একটা বিশেষ গুণ। নিজে সুন্দর করে কথা বলুন এবং অন্যকে কথা বলার সুযোগ করে দিন, কথা বলার শৈল্পিকতা অনুশীলন করুন। এভাবেই একদিন বিশ্ববাসীর মন জয় করা সম্ভব। লেখক : শিক্ষার্থী, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়
×