ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ১৩ মার্চ ২০২৬, ২৯ ফাল্গুন ১৪৩২

ওবায়দুল কবির

করোনাকালে সরব শিক্ষাঙ্গন সঙ্কট ও পরামর্শ

প্রকাশিত: ১৯:৫৭, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২১

করোনাকালে সরব শিক্ষাঙ্গন সঙ্কট ও পরামর্শ

ঠিক দেড় বছর পর খুলছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। করোনা মহামারীর কারণে গত দেড় বছর দফায় দফায় বেড়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটি। মাঝে-মধ্যে কঠোর বিধিনিষেধ শিথিল করে অফিস-আদালত, পরিবহন, হাটবাজার কিংবা শিল্প-কারখানা খোলা হলেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে হয়েছে টানা দেড় বছর। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিয়ে সরকার যেমন ঝুঁকি নিতে চায়নি, তেমনি অভিভাবকরাও আগ্রহী হয়নি। বিশ্বের অনেক উন্নত দেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে শিক্ষার্থীরা আক্রান্ত হবার পর আবারও তা বন্ধ করে দেয়। বাংলাদেশে এমন ঝুঁকি নেয়ার সুযোগই ছিল না। বর্তমানে করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হলে সরকার শর্তসাপেক্ষে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার সিদ্ধান্ত নেয়। সরকারের এই সিদ্ধান্তে একদিকে যেমন শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যত নিয়ে উদ্বেগ হ্রাস পেয়েছে, অন্যদিকে তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে। স্বাস্থ্য ঝুঁকি মোকাবেলা করে শিক্ষা কার্যক্রম এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। সরকার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং অভিভাবকদের এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে হবে। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আজ রবিবার থেকে শুরু হচ্ছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার সিদ্ধান্ত নেয়ার সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা অধিদফতর থেকে জারি করা হয়েছে একাধিক গাইডলাইন। শুরুতে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শ্রেণীকক্ষে ক্লাস শুরু হবে। প্রথম দিন ক্লাস হবে চার-পাঁচ ঘণ্টা। পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হবে ক্লাসের সংখ্যা। চলতি বছরের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থী এবং পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের নিয়মিত স্কুলে যেতে হবে। বাকিরা স্কুলে যাবে সপ্তাহে একদিন। জেএসসি, জেডিসি পরীক্ষার সার্বিক প্রস্তুতি নেয়া থাকবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক মনে হলে পরীক্ষাগুলো নেয়া শুরু হবে। শিক্ষকদের অধিকাংশই টিকার আওতায় এসেছেন। তবুও ক্লাসে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকসহ সবাইকে মাস্ক পরতে হবে। শিক্ষার্থীদের স্কুলে প্রবেশ করাতে হবে সারিবদ্ধভাবে। স্কুলের গেটে থাকতে হবে শরীরের তাপমাত্রা মাপার যন্ত্র। সকল শিক্ষার্থীকে তাপমাত্রা মেপেই প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করতে হবে। আপাতত এ্যাসেম্বলি হবে না। ফিজিক্যাল এ্যাক্টিভিটি বা খেলাধুলা চলবে, যাতে শারীরিক ও মানসিকভাবে ভাল অবস্থানে থাকতে পারে শিক্ষার্থীরা। চালুর পর প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে চেকলিস্ট পূরণ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে হবে। র‌্যান্ডম স্যাম্পলিং করে সংক্রমণের ঝুঁকি থাকলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে। গাইডলাইন অনুসারে শিক্ষার্থীরা যখন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আসবে তখন প্রতিদিন তাদের পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে। কারও শরীরে বেশি তাপমাত্রা কিংবা কোন উপসর্গ আছে কি-না তা পরীক্ষা করতে হবে। নিশ্চিত করতে হবে শ্রেণীকক্ষে প্রত্যেকের মুখের মাস্ক। এক্ষেত্রে অভিভাবকদেরও দায়িত্ব পালন করতে হবে। স্কুল বা কলেজে পাঠানোর আগে শিক্ষার্থীদের মাস্ক পরিয়ে দেয়া, স্বাস্থ্যবিধি এবং সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার পরামর্শ ইত্যাদি। কোন শিক্ষার্থী যদি মাস্ক না পরে আসে তবে তাকে মাস্ক পরিয়ে দিতে হবে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে বেঞ্চের দৈর্ঘ্য পাঁচ ফুটের কম হলে প্রতি বেঞ্চে একজন করে শিক্ষার্থী বসতে পারবে। বেঞ্চের দৈর্ঘ্য পাঁচ থেকে সাত ফুট হলে প্রতি বেঞ্চে দুজন করে শিক্ষার্থী বসতে পারবে। প্রয়োজনে শিক্ষার্থীদের শিফটিং করে ক্লাসে কম শিক্ষার্থী দিয়ে নিরাপদ দূরত্ব নিশ্চিত করা। শিক্ষার্থীদের মন চাঙ্গা করার জন্য আনন্দঘন পরিবেশ তৈরি করতে হবে। দুই মাসের মধ্যে কোন পরীক্ষা না নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে গাইডলাইনে। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সতর্কতামূলক ব্যবস্থাগুলো গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার চালাতে হবে। সন্তানদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠানোর আগে অভিভাবকদেরও দায়িত্ব নিতে হবে যাতে আক্রান্ত কোন শিক্ষার্থী কোনভাবেই ক্লাসে গিয়ে সহপাঠীদের ঝুঁকি না বাড়ায়। একই সঙ্গে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে থাকাকালে তারা যেন স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে তাও ভালভাবে বুঝিয়ে দিতে হবে। ২০২০ সালের মার্চ মাসে করোনা সংক্রমণ শুরুর পর থেকে প্রায় দেড় বছর ধরে দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ ছিল। সংক্রমণের শঙ্কায় বন্ধ করা হয়েছিল সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। অনলাইনে ক্লাস এবং পরীক্ষার মধ্যেই সীমিত ছিল সকল শিক্ষা কার্যক্রম। নিজের শিক্ষাঙ্গনের ঘ্রাণ পায়নি শিক্ষার্থীরা। দিনের পর দিন ঘরবন্দী থেকে পার করতে হয়েছে একঘেয়েমি জীবন। হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছিল অনেক শিক্ষার্থী। সময় কাটাতে নির্ভরতা তৈরি হয় ভার্চুয়াল মাধ্যমে। ঘরবন্দী জীবনে নাভিশ্বাসের সময় ঘোষণা এলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার। এতে অনেক শিক্ষার্থী যেমন খুশি হয়েছে, তেমনি দীর্ঘদিনের অভ্যাস ত্যাগ করে কেউ কেউ স্কুলে যেতে অনীহাও দেখাচ্ছে। কোন কোন অভিভাবক সন্তানের সম্ভাব্য করোনা ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। নমুনা সংগ্রহের বিপরীতে করোনা শনাক্তের হার কমছে। সংক্রমণ কমার কারণেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীদের ফেরানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আবারও শিক্ষার্থীদের কোলাহলে ভরে উঠবে শিক্ষাঙ্গন। শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস থাকলেও সকর্ত করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, সরকারের ঘোষণা বাস্তবায়নে প্রাথমিকভাবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে। এগুলো হচ্ছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচ্ছন্নতা, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যসুরক্ষা, শিক্ষার্থীদের টিকার আওতায় আনা, ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের শিক্ষাঙ্গনে ফিরিয়ে আনা। দেড় বছর বন্ধ থাকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আসবাবপত্র অনেক কিছুই নষ্ট হয়ে গেছে। ঝোপঝাড়ে ছেয়ে গেছে শ্রেণীকক্ষ। বাথরুমসহ ওয়াশ ব্লক নষ্ট হওয়ার পথে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এখন একটি বড় চ্যালেঞ্জ। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমসহ সকল প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে গত ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দেয়া হয়েছিল। সংবাদ মাধ্যমগুলো প্রতিদিনই সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রস্তুতির সংবাদ প্রকাশ করছে। এতে দেখা যায়, অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই প্রস্তুতি শেষ করলেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে ঘাটতি রয়ে গেছে। শতভাগ প্রস্তুতি ছাড়া কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা হলে শিক্ষার্থীদের জন্য তা হবে ঝুঁকিপূর্ণ। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শতভাগ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণও কঠিন হবে বলে মনে করছেন অনেকে। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুযায়ী সংক্রমণের হার ৫ শতাংশের নিচে এলেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার চিন্তা করা যাবে। বাংলাদেশে এখনও সংক্রমণ ৮/৯ শতাংশের মধ্যে রয়েছে। এছাড়া এখনও অনেক শিক্ষক-কর্মচারী এবং ১৮ বছরের বেশি বয়সের শিক্ষার্থীদের শতভাগ টিকার আওতায় আনা যায়নি। স্কুলে-কলেজে একজন শিক্ষার্থীও করোনায় আক্রান্ত হলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে তাৎক্ষণিকভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আক্রান্ত শিক্ষার্থীকে উপযুক্ত চিকিৎসাসেবাসহ অন্যান্য ব্যবস্থা নিতে হবে। এজন্য প্রতিষ্ঠান প্রধানদের থাকতে হবে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গাইডলাইন মানতে হবে শতভাগ। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও রাখতে হবে সার্বক্ষণিক তদারকি। প্রয়োজনে বিশেষ টিম গঠন করে পাঠাতে হবে সকল শিক্ষাঙ্গনে। কোন প্রতিষ্ঠান মন্ত্রণালয়ের গাইডলাইন না মানলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এ ব্যাপারে কোনভাবেই আপোস করা চলবে না। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে একজন শিক্ষার্থীও আক্রান্ত হলে এর দায়িত্ব প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি শিক্ষা মন্ত্রণালয় তথা সরকারকে বহন করতে হবে। গত বছর শেষ দিকে করোনার প্রকোপ কমতে থাকলে অফিস-আদালত, হাটবাজার, গণপরিবহন এবং শিল্প-কারখানা খুলে দেয়া হয়। সংক্রমণের হার ৫ শতাংশের নিচে এলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার জন্য সরকারের ওপর চাপ বাড়তে থাকে। এ নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে করোনা নিয়ন্ত্রণে গঠিত বিশেষজ্ঞ কমিটির সঙ্গে একাধিক বৈঠক হয়। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সেই সময় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার পক্ষে মত দেননি কেউ। সরকারও এই দায়িত্ব নিতে চায়নি। তবে শিক্ষার্থীদের অনিশ্চিত ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে অস্বস্তিতে ছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয় তথা সরকার। এক সময় সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে এলেও বন্ধ ছিল শুধু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বিকল্প হিসেবে সরকার অনলাইন শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করে। শহরাঞ্চলে অনলাইনে ক্লাস কিছুটা কার্যকর হলেও গ্রামে তা ছিল প্রায় অসম্ভব। প্রয়োজনীয় স্মার্টফোন, ইন্টারনেট এবং সর্বোপরি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অজ্ঞতায় গ্রামাঞ্চলে অনলাইন শিক্ষা ছিল প্রায় শূন্যের কোটায়। এবার সংক্রমণ কমে এলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। এর মাত্র একদিন পর শিক্ষামন্ত্রী স্কুল-কলেজ খোলার ঘোষণা দেন। পরদিন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করে একটি গাইডলাইন প্রণয়ন করা হয়। গাইডলাইন অনুসরণ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রস্তুতি নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ পাবার পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো প্রস্তুতি নেয়া শুরু করে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার ফলে প্রতিষ্ঠানগুলো অনেকটা ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এগুলো ব্যবহার উপযোগী করার জন্য প্রাণান্ত চেষ্টা করা হয়। সরকারের কাছে পর্যাপ্ত টিকা থাকলেও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুযায়ী ১৮ বছরের কম শিক্ষার্থীদের টিকা কার্যক্রমের আওতায় আনা যাচ্ছে না। স্বাস্থ্যমন্ত্রী এর মধ্যে বলেছেন, ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদন পেলেই ১২ বছরের বেশি বয়সীদের করোনাভাইরাসের টিকা দেয়া শুরু হবে। তিনি বলেন, চলতি মাসে আরও আড়াই কোটি টিকা পাওয়া যাবে। টিকার সমস্যা নেই কিন্তু ১২ বছরের বেশি বয়সী যারা আছে তাদের টিকা দেয়ার ব্যাপারে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এখনও অনুমোদন দেয়নি। বিশ্বের কোন দেশই এর অনুমোদন পায়নি। যেসব দেশ দিচ্ছে তারা নিজেদের মতো করেই দিচ্ছে। আমরা তা করতে চাই না। এমন সিদ্ধান্ত নিতে হলেও টেকনিক্যাল কমিটির অনুমোদন নিতে হবে। ১২ থেকে ১৭ বছরের বয়সী ছেলেমেয়েদের জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যে টিকা দেয়ার অনুমতি দেবে আমরা সেই টিকাগুলোই তাদের দেব।’ সর্বশেষ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পেলে আবারও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হবে। তবে সরকার শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ঘোষণা স্পষ্ট। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনুমোদন না দিলে ১৮ বছরের কম কাউকে টিকা দেবে না সরকার। এক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের করোনার ঝুঁকিমুক্ত রাখতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকেই গাইডলাইন মেনে চলতে হবে শতভাগ। কোনভাবেই লঙ্ঘন করা যাবে না স্বাস্থ্যবিধি। মনে রাখত হবে, প্রতিষ্ঠানে একজন আক্রান্ত শিক্ষার্থী সকলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। করোনা নিয়ে দীর্ঘ সময় গবেষণা করেছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক ডাঃ এ বি এম আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া ছাড়া আর কোন বিকল্প ছিল না। তবে আমাদের অন্যতম চ্যালেঞ্জ করোনা সংক্রমণের নিম্নগতি ধরে রাখা। তাই প্রত্যেকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গেটে তাপমাত্রা মাপার ব্যবস্থা রাখতে হবে। বাধ্যতামূলক করতে হবে মাস্ক পরা। পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রাখতে হবে হাত ধোয়া এবং স্যানিটাইজেশনের। পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে শিক্ষাঙ্গন। না হলে এর ভয়াবহ পরিণতির জন্য অপেক্ষা করতে হবে আমাদের। করোনার ঝুঁকির পাশাপাশি আরও কিছু সমস্যা মোকাবেলা করতে হবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে লেখাপড়ার প্রতি অনীহা। অনেক শিক্ষার্থী এর মধ্যে ঝরে পড়েছে। কারও বিয়ে হয়ে গেছে, আবার কেউ অর্থ উপার্জনে কাজে জড়িয়ে গেছে। এদেরকেও ফিরিয়ে আনতে হবে। প্রয়োজনে এসব শিক্ষার্থীর সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের বোঝাতে হবে। আজ খুলছে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বিশ্ববিদ্যালয় খোলার সিদ্ধান্ত এখনও নেয়া হয়নি। শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিষয়ে তারা শীঘ্রই বৈঠকে বসবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিল ও সিন্ডিকেট এসব সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে। শিক্ষামন্ত্রী উপাচার্যদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তারা বলেছেন, সব শিক্ষার্থী প্রথম ডোজ টিকা নিয়ে নিতে পারলে ভাল হয়। সেজন্য আমরা বিশ্ববিদ্যালয় খোলার তারিখ মধ্য অক্টোবরে নির্ধারণ করেছিলাম। এখন স্কুল-কলেজের সঙ্গে যদি বিশ্ববিদ্যালয় খুলতে উপাচার্যরা রাজি হন তা খুলতে পারেন বা ভিন্ন কোন তারিখ নির্ধারণ করেন- সেটাও তাদের বিষয়। লেখক : ডেপুটি এডিটর দৈনিক জনকণ্ঠ
×