এমন মানবিক প্রকল্প নিয়েও ষড়যন্ত্রমূলক রাজনীতি! গৃহহীন মানুষের কাজে একটি আশ্রয় যে কত বড়, তা ভুক্তভোগীই বুঝতে পারে। মানবিক প্রধানমন্ত্রী গৃহহীনদের এই কষ্ট লাঘবে ৯৬ সালেই গ্রহণ করেছিলেন গৃহায়ন ও আশ্রয়ণ প্রকল্প। এবার মুজিববর্ষ উপলক্ষে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের অধীনে ইতোমধ্যে দেড় লাখ ভূমিহীন ও গৃহহীনের মধ্যে বিতরণ করা হয় ঘর। এতদিন যারা অন্যের বাড়ি কিংবা ফুটপাথে অনিশ্চিত জীবন কাটিয়েছেন, তারা নিজের একটি আশ্রয় পেয়ে আনন্দে আত্মহারা হয়েছেন। এমন একটি মানবিক প্রকল্প নিয়েও এক শ্রেণীর মানুষ ষড়যন্ত্রের রাজনীতি করতে ছাড়েনি।
দরিদ্র্য মানুষের মধ্যে ঘর বিতরণের শুরুতেই প্রচার মাধ্যমে একটি সচিত্র সংবাদ আসতে শুরু করে যে, এসব ঘর ফেটে বা ভেঙ্গে যাচ্ছে। এজন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদেরই দায়ী করে এর সঙ্গে দুর্নীতির বিষয়টি তুলে আনার চেষ্টা করা হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে বিষয়টি পরিষ্কার করেন। তিনি জানান, আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় দেড় লাখ ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩০০টি ঘরে নির্মাণ ত্রুটি ধরা পড়েছে। তদন্তে মাত্র ৯টি জায়গায় দুর্নীতি খুঁজে পাওয়া গেছে। বাকি ঘরগুলো কিছু লোক হাতুড়ি-শাবল দিয়ে ভেঙ্গে মিডিয়ায় প্রচার করেছে। যারা ঘর ভেঙ্গেছে তাদের নামের তালিকাসহ তদন্ত প্রতিবেদন সরকারের কাছে রয়েছে। ঘর ভাঙ্গার তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গোটা বিষয়টি তদন্ত করা হয়েছে। কারা এর সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকের নাম-ঠিকানাসহ তথ্য পাওয়া গেছে। তবে কিছু জায়গায় অতিবৃষ্টির কারণেও মাটি দেবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ঘর। প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন রাখেন গরিবের জন্য তৈরি করা ঘরে তারা হাত দেয় কিভাবে? প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, ঘর ভেঙ্গে পড়ার পেছনের কারণ অনুসন্ধান করেনি গণমাধ্যম। মিডিয়া এগুলো ধারণ করে প্রচার করেছে। তবে কিভাবে এমন হয়েছে, সেটা তারা বলেনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পের অধীনে ঘর নির্মাণে সবাই আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেছেন। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা এটিকে নিজেদের দায়িত্ব বলেই মনে করেছেন। স্থানীয় প্রশাসন ঘরগুলো তৈরিতে সহযোগিতা করার জন্য এগিয়ে এসেছে। যারা ইট তৈরি করেন, তারাও অল্প পয়সায় ইট দিয়েছেন। এভাবে সবার সহযোগিতা ও আন্তরিকতায় দরিদ্র মানুষ তাদের আশ্রয়স্থল পেয়েছেন। এর মধ্যে দুষ্ট বুদ্ধির কিছু লোকও ছিল, এটাই হচ্ছে সবচেয়ে দুঃখের। দরিদ্র মানুষের ঘরে হাত দিতেও তাদের বিবেকে বাধেনি।
দেড় লাখ ঘরের মধ্যে তিন শ’ সংখ্যাটি খুবই বড় নয়। ৯ অঙ্কটি আরও ছোট। এই ছোট অঙ্কটি অনেক বড় আকারে প্রচার হয়েছে, এতে কোন সন্দেহ নেই। যারা রাজনীতির জন্য ষড়যন্ত্র করে ঘরগুলো ভেঙ্গেছে তারা সরকারের একটি ভাল উদ্যোগকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চেয়েছে। একটি মহৎ ও মানবিক উদ্যোগকে মানুষের কাছে ছোট করতে চেয়েছে। সরকারের উচিত প্রকৃত সত্য মানুষের কাছে তুলে ধরা। যারা এমন অপরাধ করেছে তাদের পরিচয়সহ স্বরূপ প্রকাশ করা আবশ্যক। যারা এর প্রচার করেছে তারাও সঠিকভাবে কাজটি করতে পারেনি। অনেকক্ষেত্রে শুধু ঘটনা প্রচার করলেই প্রকৃত তথ্য উঠে আসে না। ঘটনার পিছনের কারণ খুঁজে বের করলেই প্রকৃত ঘটনার স্বরূপ উদ্ঘাটিত হয়। প্রচার মাধ্যমকে বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে সর্বদা।




