অপরাধ দমন করেন যারা তাদের প্রত্যেককে অপরাধ বিজ্ঞানে প-িত হতে হবে, এমন কোন কথা নেই। বাংলাদেশে অপরাধী পাকড়াওয়ের কাজ যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং প্রয়োগকারী সংস্থা করে থাকে তাদের সাধারণ জ্ঞানের অভাব রয়েছে এমন কথা কেউ বলবেন না। অপরাধী শনাক্তে তারা সুদক্ষ না হলেও অদক্ষ যে নন, সেটি আমরা বরাবরই দেখে আসছি। দেশে বিচিত্র অপরাধের সংখ্যা দিনে দিনে বাড়ছে, অপরাধীরাও হয়ে উঠছে বেপরোয়া, হিংস্র ও আক্রমণাত্মক। তাই তাদের নিয়ন্ত্রণ, তত্ত্বাবধান এবং অপরাধীর জন্য আজকের যুগে প্রযুক্তিগত সহায়তা নেয়ার প্রয়োজন। অপরাধীর হাতের আঙ্গুল ও তালুর ছাপ এবং চোখের মণি স্ক্যানিংয়ের মাধ্যমে বায়োমেট্রিক ডাটা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। হাইকোর্ট এক রায়ে আসামির বায়োমেট্রিক ডাটা সংরক্ষণের নির্দেশ না দিলে আমাদের অনেকের পক্ষেই জানা সম্ভব হতো না যে, থানায় আসামির হাতের আঙ্গুল ও তালুর ছাপ, চোখের মণি স্ক্যানিংয়ের মাধ্যমে সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেই। যা রয়েছে উন্নত দেশগুলোয়। আদালত তার রায়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে তিনটি নির্দেশনা দিয়েছেন। এগুলো হলো- বিদ্যমান ব্যবস্থার সঙ্গে সব থানায় আসামির হাতের আঙ্গুল ও তালুর ছাপ, চোখের মণি স্ক্যানিংয়ের মাধ্যমে বায়োমেট্রিক পদ্ধতির প্রচলন; গ্রেফতারের পর আসামির সম্পূর্ণ মুখের ছবি ধারণ ও কেন্দ্রীয় তথ্যভাণ্ডারে সংরক্ষণ এবং দেশের সব কারাগারে আঙ্গুল ও হাতের তালুর ছাপ, চোখের মণির সংরক্ষণের মাধ্যমে বায়োমেট্রিক তথ্য সংরক্ষণ সিস্টেম চালু করা। যে কাজ অনেক আগেই পুলিশের করার কথা ছিল সেই কাজ এখন বিচারকদের আদেশবলে তারা করবে নিশ্চয়ই।
গত সপ্তাহে নাশকতার অভিযোগে রাজধানীর খিলগাঁও থানায় দায়ের হওয়া একটি মামলায় প্রকৃত আসামি নোয়াখালীর বসুরহাটের মোহাম্মদ জহির উদ্দিন নয় মর্মে হাইকোর্টে প্রতিবেদন দেয় পিবিআই। প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, মামলার প্রকৃত আসামি নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের আহসান উল্লাহর ছেলে মোদাচ্ছের আনছারী ওরফে মোহাদ্দেস। যদি বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে আসামি শনাক্ত ও নিশ্চিতকরণের ডাটা সংরক্ষিত থাকত তবে এভাবে আসামিবিভ্রাট ঘটত না। আমরা আশা করব, আদালতের রায় অনুযায়ী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত তিনটি নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে সক্রিয়ভাবে উদ্যোগী হবে। যা অবশ্যই অপরাধ দমনে বিরাট ভূমিকা রাখবে।




