ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ১৩ মার্চ ২০২৬, ২৯ ফাল্গুন ১৪৩২

এ্যাকর্ড নিয়ে উদ্বেগ

প্রকাশিত: ২১:৫৭, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২১

এ্যাকর্ড নিয়ে উদ্বেগ

তৈরি পোশাক শিল্পই এখন পর্যন্ত দেশের অন্যতম প্রধান রফতানি খাত এবং একই সঙ্গে দেশের বিপুলসংখ্যক শ্রমিক, বিশেষ করে নারী শ্রমিকের জীবনধারণের আয়ের কর্মক্ষেত্র। তবে এই খাতের সার্বিক পরিস্থিতি বুঝতে গেলে সঙ্গত কারণেই করোনা মহামারীপূর্ব এবং এর পরবর্তী পর্ব- এই দুই কালপর্ব বিবেচনা করে দেখতে হবে। বিজিএমইএর বর্তমান সভাপতি করোনা মহামারীর আগে গণমাধ্যমের সঙ্গে এক সাক্ষাতকারে বলেছিলেন, পোশাক রফতানিতে সহসা ভাল খবর পাওয়ার আশা নেই। বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভিয়েতনামের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সই এবং চীন-যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যযুদ্ধের কারণে চীনা পণ্যের মূল্য হ্রাস পেয়েছে ব্যাপক। এছাড়াও তৈরি পোশাক রফতানিকারক হিসেবে উঠে আসছে নতুন নতুন দেশ। বর্তমানে পোশাক শিল্প খাতের অবস্থা অনুমান করতে বেগ পেতে হয় না। তবে মহামারীর ফলেও নতুন ধরনের পণ্যের চাহিদা তৈরি হয়েছে এবং বাংলাদেশ গার্মেন্ট এতে কিছু কার্যাদেশও পেয়েছে। ব্যবসাবান্ধব সরকারের পক্ষ থেকেও বড় প্রণোদনা দেয়া হয়েছে এই খাতেই। এরকম একটি বাস্তবতায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের ক্রেতাদের জোট এ্যাকর্ড নতুন করে আত্মপ্রকাশ করায় গার্মেন্ট খাতে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শিল্প মালিকরা আশঙ্কা করছেন, নতুন এই জোট দেশে কাজ করার সুযোগ পেলে পোশাক সংশ্লিষ্ট খাতে বাড়তি চাপ তৈরি হবে। সংগঠনটির দেয়া শর্ত পরিপালন করতে গিয়ে বাধাগ্রস্ত হতে পারে রফতানি কার্যক্রম। এমনকি অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। পেছনের দিকে তাকালে আমরা দেখতে পাব রানা প্লাজার ট্র্যাজেডির পর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ইউরোপ ও আমেরিকার ক্রেতাদের কারখানা পরিদর্শন জোট এ্যাকর্ড ও এ্যালায়েন্সের সহযোগিতায় সংস্কারের ফলেই দেশের কারখানাগুলো হয়ে উঠেছিল কমপ্লায়েন্ট। এখন পরিবেশবান্ধব কারখানা হচ্ছে, যথাসময়ে পণ্য জাহাজীকরণ হচ্ছে। ফলে ক্রেতার আস্থা বেড়েছে। অন্যদিকে চীন থেকে সরে যাওয়া অর্ডারের কিছু অংশও দেশের গার্মেন্ট সেক্টর পেয়েছে। ফলে বাংলাদেশের গার্মেন্ট পণ্যের প্রধান রফতানি বাজার ইউরোপের দেশগুলোতে ২০১৮ সালে রফতানি বৃদ্ধির চিত্র আশাই জাগিয়েছিল। আলোচ্য সময়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত ২৮টি দেশে বাংলাদেশের গার্মেন্ট পণ্যের রফতানি প্রবৃদ্ধির হার অন্যান্য দেশের তুলনায় সবচেয়ে বেশি। এটাই সত্য যে, রানা প্লাজা ধসের পর পোশাক কারখানার কর্মপরিবেশ ও শ্রমিকদের নিরাপত্তায় এ্যাকর্ড অনেক ভাল কাজ করেছে। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক তার বাজার ফিরে পেয়েছে। যে নেতিবাচক ইমেজ তৈরি হয়েছিল তা দূর হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর ক্রেতাদের কারখানা পরিদর্শন সংস্থা এ্যাকর্ড এদেশে নতুনভাবে কাজ শুরু করলে স্পষ্ট হয়ে উঠবে তারা পোশাক শিল্প খাতের উন্নয়নে কিভাবে ও কতখানি ভূমিকা রাখছে। শ্রমিকদের জীবনমানের সমৃদ্ধি ও কর্মপরিবেশের উন্নয়নে ইতিবাচক পদক্ষেপকে প্রশংসা না করার কিছু নেই। শিল্প মালিকরা যদি দেশের সার্বিক পোশাক শিল্প খাত ও তার চালিকাশক্তি শ্রমিকদের সমৃদ্ধি চান তাহলে এ্যাকর্ডের ন্যায্য পদক্ষেপে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু থাকবে না। সবচেয়ে বড় কথা এখানে সরকার সব সময়ই পোশাক শিল্পের সার্বিক দিকেই সতর্ক ও সহিষ্ণু দৃষ্টি রেখে আসছে। শ্রমিকদের মজুরি যেমন বাড়ানো হয়েছে, তেমনি মালিকপক্ষের নানা দাবি-দাওয়ার প্রতিও ইতিবাচক মনোভাব প্রদর্শন করা হয়েছে। তাই বৈদেশিক ক্রেতাদের স্বার্থরক্ষাকারী সংস্থা হিসেবে এ্যাকর্ডের পদক্ষেপ বিশ্লেষণের জন্য সময় সামনে পড়ে আছে। এখন তাই আগাম দুশ্চিন্তার যুক্তিযুক্ত কারণ নেই।
×