বুধবার দেশের মাটিতে সফরকারী নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দলকে সিরিজের চতুর্থ ম্যাচে ছয় উইকেটে হারানোর মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে প্রথম টি টোয়েন্টি সিরিজ জিতল টাইগাররা। এই সিরিজ জয়ের মাধ্যমে একটি অনন্য রেকর্ডও গড়ল তারা। সেটি হলো, টি টোয়েন্টিতে টানা তিন সিরিজ জয়। পরপর তিন মাসে এই স্বপ্নময় হ্যাটট্রিক সিরিজ জয় এসেছে। প্রথমে তাদের দেশে জিম্বাবুইয়েকে, এরপর স্বদেশের মাঠে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে। শাবাশ! বাংলাদেশ। করোনাকালে অনেক বিয়োগব্যথা, বিপন্নতার মধ্যে গৌরবময় নিখাদ আনন্দের উপলক্ষ এনে দেয়ার জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে আন্তরিক অভিনন্দন। এই ধারাবাহিক সাফল্য আসন্ন টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলকে যে নিঃশঙ্ক লড়াকু মেজাজে রাখবে, প্রতিপক্ষ দলগুলোর কাছ থেকে মিলবে সমীহ, এটি আশা করা যায়।
জুলাই মাস থেকেই বাংলাদেশ ক্রিকেট দল দারুণ ফর্মে রয়েছে। জুলাইয়ে জিম্বাবুইয়েকে ওয়ানডে সিরিজে রীতিমতো হোয়াইটওয়াশ করেছিল বাংলাদেশ। সেটি ছিল একযুগ পর বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের কোন ওয়ানডে সিরিজে প্রতিপক্ষকে হোয়াইটওয়াশ। আগস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেও সিরিজ জয়ে টাইগাররা দারুণ ম্যাজিক দেখিয়েছিল। শামীম ও আফিফের মতো ক্রিকেটারের অপেক্ষায় ছিল বাংলাদেশ। জিম্বাবুই সিরিজে শামীম নজর কেড়েছিল, অস্ট্রেলিয়ার সিরিজে আফিফ ছিল বাজিজেতা ঘোড়া। আর সতীর্থ বোলার নাসুম যেন ছিল তারই ক্রীড়াসহোদর। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেও নাসুম তার প্রতিভার ধারাবাহিকতা দেখিয়েছেন। সিরিজ উইনিং ম্যাচে ১০ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ক্যারিয়ার সেরা বোলিং করেছেন এই নাসুম। তবে মোস্তাফিজের কথা ভুলে গেলে চলবে না। বাংলাদেশ দলের প্রধান বোলিং স্তম্ভই হচ্ছেন মোস্তাফিজ।
এখন আমরা আস্থার সঙ্গেই উচ্চারণ করতে পারি টি টোয়েন্টি আর সীমিত ওভারের ম্যাচে বর্তমানে বাংলাদেশ দল বিশ্বের যে কোন দলকেই চ্যালেঞ্জ করার ক্ষমতা রাখে। সব বাঘা দলকে হারানোর কোটাও পূর্ণ করেছে বাংলাদেশ। জিম্বাবুইয়ে টিমকে ধসিয়ে সেখান থেকে প্রেরণা, শক্তি ও কৌশল নিয়ে বাংলাদেশ পরবর্তী জোড়া সিরিজে চমৎকারভাবে জ্বলে উঠেছে।
একটি বিষয় লক্ষণীয় যে, সুপরিকল্পিত বোলিং আক্রমণই বারবার বাংলাদেশের জেতার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রেখেছে। তা না হলে দলের রানের সঞ্চয় নিউজিল্যান্ড সিরিজে খুব জোরালো ছিল না। রান তাড়াও করতে হয়নি উঁচু কোন টার্গেটের। আমাদের ব্যাটসম্যানরা দারুণ, আমরা জানি। কিন্তু তিন সিরিজের শেষতম মানে চলমান এই সিরিজে সাকিবসহ কয়েকজন আশানুরূপ পারফরম্যান্স দেখাতে পারেননি। ৫০ ওভারের ম্যাচে বলপ্রতি এক রান ভাল। কিন্তু টি টোয়েন্টিতে বলপ্রতি এক রান সন্তোষজনক বলে পরিগণিত হয় না। অথচ চলমান নিউজিল্যান্ড সিরিজে রানরেট যথেষ্ট কম টাইগারদের। টি টোয়েন্টি ম্যাচ হলো রানের প্রতিযোগিতা। চার-ছক্কার বাহাদুরি। সেখানে পিছিয়ে পড়লে চলবে কেন? আগামী দিনগুলোয় বিদেশের মাটিতে শক্তিমান দলগুলোর সঙ্গে টি টোয়েন্টি খেলায় সাফল্য পেতে হলে আমাদের ব্যাটিং দক্ষতাকে আরও উঁচুতে নেয়ার বিকল্প নেই। চলমান সিরিজের শেষ ম্যাচটিতে জিতলে বাংলাদেশ আগের অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজে ৪-১ ব্যবধানে সিরিজ জেতারই পুনরাবৃত্তি করবে। সেটিই এখন মনেপ্রাণে চাইছেন দেশের মানুষ।




