ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১০ ফাল্গুন ১৪৩০

ব্রেক-আপ এবং করণীয়

জাফরান ইশরাত

প্রকাশিত: ২০:২৬, ৩ ডিসেম্বর ২০২৩

ব্রেক-আপ এবং করণীয়

.

ব্রেকআপের পর কে ভুল ছিল, কে ঠিক ছিল, এটা হলে কি হতো, না হলে কি হতো- একে অপরকে দোষারোপ না করে মেনে নিন এবং বদলে নিন -

 

কিছু সম্পর্কের শুরুটা সুন্দর হলেও উপসংহারটা সব সময় মধুর হয় না। বিচ্ছেদ বরাবরই এক জনের জন্য কিছুটা বেশি কষ্ট বয়ে আনে। কষ্ট ব্যাপারটিও আপেক্ষিক। একেক জনের জন্য একেক রকম। ছেলে এবং মেয়েরা দুজন দুভাবে ব্রেক-আপকে হ্যান্ডেল করে। কারও মেনে নেওয়ার সময়টা বেশি, কারও মানতে গিয়ে অনেক সময় চলে যায়।

সহজভাবে গ্রহণ করুন : কোনো একটা বিষয়কে সহজভাবে মানিয়ে নিতে পারা একটি ভালো গুণ। একটি মানুষ যার সঙ্গে আপনার বহুদিনের একসঙ্গে চলা ছিল, তা শেষ হয়ে যাওয়াটা দুঃখজনক। কিন্তু যত তাড়াতাড়ি আপনি এই সত্যটা মেনে  নেবেন, তত তাড়াতাড়ি আপনি জীবনে সহজ হবেন।

বর্জন করুন : অনেক সময় আমাদের কাছের মানুষ প্রিয় থেকে অপ্রিয় হয়ে যায়। আমাদের মস্তিষ্ক তখন এক প্রকার শূন্যতা অনুভব করে, যা অক্সিটসিন এবং ডোপামিন কেমিক্যালের প্রভাবে বিষাদগ্রস্ত হয়ে পড়ে। আপনি আপনার প্রিয় মানুষকে যখন চ্যাটলিস্ট বা কল লিস্টে দেখতে পান স্বভাবতই কষ্ট পান আর এটাই স্বাভাবিক। আর এজন্যই তার সোশ্যাল মিডিয়া থেকে নিজেকে দূরে রাখাটাই আপনার জন্য মঙ্গল। শুধু তাই নয়, সবকিছু থেকেই তাকে সরিয়ে রাখুন, চোখের সামনে তার সমস্ত স্মৃতি ফেলে দিন।

নিজেকে ব্যস্ত রাখা : ‘অলস মস্তিষ্ক শয়তানের কারখানা ব্রেক-আপ হওয়ার পর নিজেকে যত ব্যস্ত রাখবেন ততই অবসাদ মুক্ত থাকতে পারবেন। নিজের পছন্দের কাজগুলো করে নিতে পারেন চট করেই, ঘুরতে যাওয়া, বই পড়া, শপিং করা, রান্না-বান্না থেকে রূপচর্চার পাশাাপাশি পরিবার বন্ধু-বান্ধবদের সময় দেওয়া। যে জিনিসটা আপনাকে মানসিক প্রশান্তি দেয়, সেই কাজটাই করা উচিত।

নিজেকে তুলে ধরা : আমাদের মাঝে অনেকেই আছেন যারা কষ্ট পেলে নিজেকে গুটিয়ে নেন, যেটা আমাদের কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। নিজের অনুভূতি কাছের মানুষের সঙ্গে শেয়ার করলে মনে একটু হলেও শান্তি আসে।

পুনরাবৃত্তি করবেন না : মনে রাখতে হবে একটি সম্পর্কে দুটো মানুষ জড়িত থাকে। যখন তাদের মাঝে বনিবনা হয় না, তখনই ব্রেকআপ হয়। ব্রেকআপের পর কে ভুল ছিল, কে ঠিক ছিল, এটা হলে কি হতো, না হলে কি হতো- একে অপরকে দোষারোপ না করে মেনে নিন এবং বদলে নিন।

সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘আপনি ব্রেকআপ করেন আর তারাই ব্রেকআপ করুক, শেষ পর্যন্ত বিচ্ছেদটাই সত্য। বিচ্ছেদ যখন নিশ্চিত তখন তা মেনে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। সর্বোপরি, একটি সম্পর্কের শেষ হয়ে যাওয়া মানেই জীবন শেষ হয়ে যাওয়া না। নতুনভাবে অনেক কিছুর শুরু করা যেতে পারে, যা কিনা সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। তার পরেও এটি আপনার ভবিষ্যতের জন্য অপরিহার্য। কান্না পেলে কেঁদে নিন। জানেন তো কুয়াশায় ভোরের শেষে রোদ হাসে।

×