ঢাকা, বাংলাদেশ   সোমবার ১৬ মার্চ ২০২৬, ১ চৈত্র ১৪৩২

শিবচরে তেল সংকটে থেমে গেছে চালকদের জীবন

নিজস্ব সংবাদদাতা, শিবচর, মাদারীপুর

প্রকাশিত: ০১:৪৮, ১৬ মার্চ ২০২৬

শিবচরে তেল সংকটে থেমে গেছে চালকদের জীবন

ছবি: জনকণ্ঠ

মধ্যপ্রাচ্যে সৃষ্ট পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি ও তেলের সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলার তেলের পাম্পগুলোতে ডিজেল,পেট্রোল ও অকটেনের দেখা দিয়েছে তীব্র সংকট। ডিপো তেল না দেওয়ায় বর্তমানে তেলের পাম্প বন্ধ আছে।

রবিবার (১৫ মার্চ) রাত এগারোটার দিকে উপজেলার দুইটি তেলের পাম্পে দীর্ঘ লাইন আবার কোন কোন পাম্পে তেল সরবরাহ না থাকায় কোন কার্যক্রম নেই।এই অবস্থায় থেমে গেছে বিভিন্ন গাড়ির চালকদের জীবন,এখন কাটাচ্ছেন বেকার সময়।

মাদারীপুরসহ আশপাশের জেলাগুলোতে দেখা দিয়েছে এই তেলের তীব্র সংকট।যার ফলে জেলায় প্রায় ৯ টি তেলের পাম্প,শিবচর উপজেলার পাশের ফরিদপুর জেলার ভাংগা থানার ৪ টি তেলের পাম্প এবং শরীয়তপুর জেলার জাজিরা থানার ৩ টি পাম্প এবং শিবচর উপজেলার ২ টি তেলের পাম্পের মধ্যে একটি তেল সরবরাহ না থাকার কারণে পাম্প প্রায় অচল অবস্থা।পর্যাপ্ত পরিমাণ তেল না দেওয়ায় দূর পাল্লার বাস সার্ভিসের আরও অচল অবস্থা।

উপজেলার পাঁচ্চর ইউনিয়নে অবস্থিত এএইচকে পেট্রোল পাম্প ঘুরে দেখা গেছে,এই পাম্পে গতকাল পর্যন্ত কোন তেল ছিলো না।কিন্তু কয়েকদিন আগে তেলের জন্য টাকা পাঠানো হয়েছে এবং তেল আনার জন্য গাড়িও।তবে তেল মিলেছে আজ রবিবার (১৫ মার্চ)।সেই তেল পাম্প এসে পৌঁছাইছে বেলা দুইটার দিকে।

এএইচকে ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক যতীন কুমার বলেন,‘আমরা আগে তেল প্রতিদিন পেতাম,তবে মধ্যপ্রাচ্যে সৃষ্ট সমস্যার কারণে বাংলাদেশে তেলের সংকট দেখা দিয়েছে কিন্তু তেলের দাম বাড়ে নি।মোটরসাইকেল প্রতিদিন দুই লিটার,প্রাইভেট কার ও জীপগাড়ির জন্য ১’ হাজার থেকে পনেরো শত টাকার,দূর পাল্লার যানবাহন বাসের জন্য চার হাজার টাকা,মালবাহী ট্রাকের জন্য ৪-৫ হাজার টাকার তেল পাবে।এ্যাম্বুলেন্স ও ঔষধ বহনকারী এই নিদিষ্ট পরিমাণের আওতায় নয়।বালু ও মাটি বহনকারী ড্রাম ট্রাকে আপাতত তেল দেওয়া হচ্ছে না।

মোটরসাইকেল চালক জিহাদ মাদবর বলেন,‘আমি মোটরসাইকেল চালাইয়া আমার সংসারের খরচ চালাই।গতকাল একজন যাএী ছিলো শরীয়তপুর যাইবো কিন্তু তারে নিতে পারি নাই হোন্ডায় তেল ছিলো না।কোন জায়গায় একটু তেল পাই নাই।হোন্ডার চাক্কা ঘুরে নাই তাই কোন টাহা ইনকাম নাই।আজকে একটু তেল পাইছি।সামনে ঈদ কেমনে কি করমু জানি না?

মাটি বহনকারী ড্রাম ট্রাক চালক আয়নাল কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন,‘আর কয়ডা রোজা আছে এরপর ঈদ।পরিবারের কেউরে কোন কিছু কিন্না দিতে পারি নাই।আমাগো গাড়ি তেলের কারণে বন্ধ।গাড়ি চললে আমাগো সংসার চলে,এহন গাড়ি চলে না তাই সংসারও আর চলে না।দুইদিন আগে দেড় হাজার টাহার তেল দিছিলো তাতে দুই ট্রিপ দিছি আর তিন ট্রিপের সময় গাড়ি অর্ধেক পথ গিয়ে তেল না থাকার কারণে বন্ধ হয়ে গেছে।’

পাঁচ্চরের নাঈম ফিলিং স্টেশনের কর্ণধার নাঈম হোসেন বলেন,‘আমাদের পেট্রোল পাম্প মহাসড়কের পাশে থাকায় খুব চাপ থাকে যানবাহনের।তবে বেশ কিছুদিন যাবত তেল পাচ্ছি না।টাকা দিলেও ডিপো তেল দিতে পারছে না আর দিলেও যেরকম চাহিদা থাকে পাই তার চেয়েও অনেক কম।আমাদের এই পাম্পে দূর পাল্লার যানবাহন বেশি আসে তেল নিতে।তেল না থাকায় কিছু দিন যাবত পাম্প বন্ধ ছিলো।তবে এই পাম্পে এলপিজি গ্যাস আছে পর্যাপ্ত।’

তবে পেট্রোল পাম্পগুলোতে তেলের মূল্য আগের মতোই বিক্রি হচ্ছে ডিজেল-একশত টাকা পঞ্চাশ পয়সা,পেট্রোল-একশত ষোল টাকা পঞ্চাশ পয়সা ও অকটেন-একশত বিশ টাকা পঞ্চাশ পয়সা।তেলের সংকট থাকলেও তেলের দাম বৃদ্ধি পায়নি এবং সাধারণ মানুষের দাবি অতি দ্রুত এই সংকট কেটে যাবে ও সকলের প্রাণে স্বস্তি ফিরবে।

শহীদ

×