ঢাকা, বাংলাদেশ   মঙ্গলবার ১৭ মার্চ ২০২৬, ৩ চৈত্র ১৪৩২

কণ্ঠস্বরই যখন গোপনীয়তার বড় হুমকি

আসহাবিল ইয়ামিন

প্রকাশিত: ২১:১১, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

কণ্ঠস্বরই যখন গোপনীয়তার বড় হুমকি

আপনার কণ্ঠস্বর এখন আর শুধু কথা বলার মাধ্যম নয়

আপনার কণ্ঠস্বর এখন আর শুধু কথা বলার মাধ্যম নয়। একজন কণ্ঠ বিশেষজ্ঞ আপনার কথা বলার ধরন শুনেই অনেক কিছু বলে দিতে পারেন। আপনার শিক্ষা, মানসিক অবস্থা, এমনকি পেশা বা আর্থিক অবস্থাও তাঁর কাছে স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে। বিষয়টি শুনতে অদ্ভুত মনে হলেও বিজ্ঞানীরা এখন এক বড় আশঙ্কার কথা জানাচ্ছেন। তাঁরা বলছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আপনার গলার স্বর বিশ্লেষণ করে আপনার অজান্তেই একটি নিখুঁত ব্যক্তিগত প্রোফাইল তৈরি করে ফেলতে পারে। এর ফলে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে অন্যের কাছ থেকে অন্যায্য সুবিধা নেওয়া বা আপনাকে হয়রানি করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
মানুষ কথা বলার সময় অন্যের ক্লান্তি, দুশ্চিন্তা বা আনন্দ বেশ সহজেই বুঝতে পারে। কিন্তু কম্পিউটার বা এআই এই কাজটি করতে পারে আরও দ্রুত এবং মানুষের চেয়েও অনেক বেশি নিখুঁতভাবে। নতুন এক গবেষণা বলছে, আপনার কথা বলার ধরন থেকে অনেক কিছুই জানা সম্ভব। এমনকি আপনার ব্যবহৃত শব্দগুলো থেকে আপনার মনের খবরও পাওয়া যায়। এর মাধ্যমে আপনার রাজনৈতিক পছন্দ যেমন বোঝা যায়, তেমনি শরীরের জটিল কোনো রোগ বা স্বাস্থ্যের অবস্থা সম্পর্কেও আগাম ধারণা পাওয়া সম্ভব।
গত ১৯ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের প্রসিডিংস অব দ্য আইইইই জার্নালে এ সংক্রান্ত একটি গবেষণা প্রকাশিত হয়। গবেষকদের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হলো, প্রযুক্তির এই ক্ষমতা যদি ভুল পথে ব্যবহৃত হয়, তবে তা আমাদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। নতুন এক গবেষণা বলছে, আপনার কথা বলার ধরন থেকে অনেক কিছুই জানা সম্ভব। এমনকি আপনার ব্যবহৃত শব্দগুলো থেকে আপনার মনের খবরও পাওয়া যায়।
কণ্ঠস্বর শনাক্তকরণ প্রযুক্তি আমাদের জন্য অনেক সুযোগ তৈরি করলেও এর পেছনে লুকিয়ে আছে বড় এক ঝুঁকি। ফিনল্যান্ডের আল্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ও এই গবেষণার প্রধান লেখক টম বাকস্ট্রোম একটি গুরুতর আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন। 
তাঁর মতে, কোনো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান যদি আপনার কণ্ঠস্বর বিশ্লেষণ করে আপনার আর্থিক অবস্থা বা প্রয়োজনের কথা বুঝে ফেলে, তবে তারা সেটিকে আপনার বিরুদ্ধেই ব্যবহার করতে পারে। ধরুন, আপনার গলার স্বর শুনে কোনো এআই বুঝে ফেলল আপনি আর্থিকভাবে বেশ সচ্ছল। অথবা আপনার কথা শুনে মনে হলো, এই মুহূর্তে আপনার কোনো সেবা খুব জরুরি। এমন পরিস্থিতিতে বিমা কোম্পানিগুলো আপনার জন্য সেবার দাম বাড়িয়ে দিতে পারে। আপনার কণ্ঠস্বরের ওপর ভিত্তি করে নেওয়া এই অন্যায্য সুযোগকেই বলা হয় ডিজিটাল বৈষম্য।
ঝুঁকি এখানেই শেষ নয়। আমাদের কণ্ঠস্বর আমাদের মানসিক দুর্বলতা, লিঙ্গপরিচয় ও আরও অনেক ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস করে দিতে পারে। সাইবার অপরাধীরা বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে এই তথ্য ব্যবহার করে নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে খুঁজে বের করতে পারে। ফলে ব্যক্তিগত জীবনে হয়রানি বা ব্ল্যাকমেইলের মতো ঘটনা ঘটার আশঙ্কা বেড়ে যায়। আমরা যখন কথা বলি, তখন অবচেতনভাবেই এই তথ্যগুলো অন্যের কাছে পৌঁছে দিই এবং আমাদের মস্তিষ্কও অন্যের কণ্ঠের প্রতি অবচেতনভাবেই সাড়া দেয়।  সূত্র: লাইভ সায়েন্স

প্যানেল হু

×