সোমবার ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ২৩ মে ২০২২ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা
সর্বশেষ

সুপারির ইতিহাস প্রাচীন, গবেষণা দেশে দেশে

সুপারির ইতিহাস প্রাচীন, গবেষণা দেশে দেশে
  • প্রতিটি গ্রামে আছে বাগান

সমুদ্র হক ॥ বাঙালীর সুপারি নিয়ে কত কথা। পান-সুপারি প্রীতি তো আছেই। ভূরিভোজনের পর একটি খিলিপান বা মিষ্টি সুপারির পানের কদর আলাদা। প্রাচীন আমলে বাংলার বণিকদের বড় কারবার ছিল সুপারি, পান ও নারকেল। এই সুপারি নিয়ে গবেষণা শুরু হয়েছে। ভারতের কলকাতা বিশ^বিদ্যালয় থেকে সুপারির ওপর গবেষণা করে ডক্টরেট অব ফিলোসফি (পিএইচডি) অর্জন করেছেন দক্ষিণ কলকাতার রোমী দাশগুপ্তা। বর্তমানে তিনি এশিয়ার সেরা একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক।

বংশীদাসের মনসামঙ্গল ও কবি কঙ্কন মুকুন্দরামের চ-ীমঙ্গল কাব্যে ভারতের সমুদ্রোপকূল বেয়ে গুজরাট পর্যন্ত বাণিজ্য সম্ভারে যেত সুপারি। এই ফলের আদি নাম গুয়া। সংস্কৃতিতে গুবাক। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের একটি কবিতার নাম ‘বাতায়ন পাশে গুবাক তরুর সারি’। অর্থ- জানালার ধারে সুপারি গাছের সারি। বাংলাদেশের গ্রামে অতীতে গৃহস্থবাড়িতে বড় সুপারি বাগান ছিল। এখনও আছে। পামজাতীয় সরু ৩০ মিটার পর্যন্ত লম্বা হয় সুপারি গাছ। সুপারি গাছের সারি ঝড় থেকে রক্ষা করে। উপকূলীয় এলাকায় সুপারি গাছ বেশি। গ্রামের প্রবীণরা আজও সুপারিকে গুয়া বলে। গ্রামে অতিথি এলে আতিথ্য শেষে বয়স্ক নারী গুয়া-মৌরি (পান, মসলা) খাওয়ার আমন্ত্রণ জানায়।

সুপারির ইতিহাসে জানা যায়,অবিভক্ত ভারতবর্ষ থেকে গুয়া রফতানি হতো আরব ও পারস্যে। প্রাচীনকালের বেনিয়ারা গুয়া কিনতেন পশ্চিম ভারতের সুপ্পারক বা সোপারা বন্দর থেকে। গুয়াকে তারা বলত সোপারা। এই নামটি পরে সামান্য পরিবির্তত হয়ে ‘সুপারি’ নামে ছড়িয়ে পড়ে। গুয়ার আরও দুটি গালভরা নাম আছে- পূগ ও কা-কার। তামিলরা পূগকে বলে পাককু। পান চিবুতে চাইলে সুপারি অপরিহার্য। সঙ্গে সামান্য চুন। পান চিবুনের পর জিহ্বা লাল হয়ে যায়। পানখেকোরা আয়েশে পান চিবুুয়। মাঝেমধ্যে পিক ফেলে। বাঙালীর পান প্রিয়তা এমনই।

ব্রিটিশ শাসনামলে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সুপারির একচেটিয়া ব্যবসা ছিল বাংলায়। এ থেকে বোঝা যায়, প্রাচীন বাংলার ভূমিদানলিপিতে কেন গুবাক ও পানের বরজের কথা উল্লেখ থাকত। ভারতের অসমের যে শহরকে আগে গৌহাটি বলা হতো সেই নামটিও এসেছে গুয়াহাটি থেকে (যেখানে গুয়ার হাট বসে)। অধুনা গৌহাটি নামটি পুনরায় আদি নামে ফিরে গুয়াহাটি হয়েছে।

বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি গ্রামে এবং শহরতলির গ্রামে সুপারির বাগান আছে। বেশি সুপারির বাগান আছে উপকূলীয় এলাকার জেলাগুলোতে। দেশের উত্তরাঞ্চলে বৃহত্তর রংপুরের প্রতিটি এলাকায় আছে পানের বরজ ও সুপারির বাগান। সবচেয়ে বেশি আছে সর্বউত্তরের পঞ্চগড় জেলায়। এই জেলার সুপারির মান ভাল ও অপেক্ষাকৃত বড়। এ দেশের মাটি সুপারি চাষের অনুকূলে। বর্ষাকালে সুপারির বীজ বুনে চারা তৈরি করতে হয়। লোনা নয় এমন মাটিতে অন্য গাছগাছালির মধ্যে চারা রোপণ করতে হয়। একটি থেকে আরেকটির মধ্যে দূরত্ব থাকা দরকার অন্তত তিন মিটার। প্রখর রোদ সুপারি গাছ সইতে পারে না।

সুপারি গাছ এরিকাসিয়া পরিবারের একবীজপত্রী ও এরকিগনের ফল। বিজ্ঞান নাম এরিকা ক্যাটিচু। অন্যতম প্রধান অর্থকরী ফসল। উৎপত্তি ফিলিপিন্স ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ। লম্বা গাছের মাথায় এক থেকে দুই মিটার লম্বা বড় পত্রকুঞ্জের (কাঁদিতে) থোকা থোকা ধরে সুপারি। পাতায় কোন কাঁটা নেই। ফল ডিম্বাকার থেকে গোলাকার। কাঁচা ফলের রং সবুজ। পেকে গেলে হলদেটে। খোসা ছাড়িয়ে ভেতরের গোল বীজ। যাঁতি দিয়ে কুচিকুচি করে কেটে পানে ভরানো হয়।

সুপারির হেক্টর প্রতি ফলন ৩.৪৫ মে.টন। তবে সুপারির হিসাব সাধারণত কেজিতে হয় না। এর হিসাব পণ ও কাহন। প্রতি ২০ হালিতে (৮০টি) এক পণ। ১৬ পণে এক কাহন। কাঁচা ও পাকা দুই ধরনেই সুপারি বিক্রি হয়। পাকা সুপারি মানভেদে কাহন সাড়ে চার হাজার থেকে ৮ হাজার টাকা। প্রতি পণ ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা। জুন মাস থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত সুপারি সংগ্রহ করা হয়। এর আগে চৈত্র থেকে জ্যৈষ্ঠের মধ্যে বুনতে হয়। পঞ্চগড় থেকে বগুড়ায় সুপারি নিয়ে আসা চাষী রফিকুল ইসলাম জানালেন, এক বিঘা জমিতে সুপারি বাগান করেছেন। প্রতিবছর ২০ থেকে ৩০ কাহন সুপারি মেলে। পঞ্চগড়ের হাটবাজার থেকে সুপারি যায় সারা দেশের বিভিন্ন স্থানে। কৃষি বিভাগের হিসাবে বছরে উৎপাদন ২৬ হাজার ৫শ’ মে.টন।

সুপারির কিছু ভেষজ গুণ আছে। আবার ক্ষতিকর দিকও আছে। যেমন পান-সুপারি নেশার মতো হয়ে যায়। কাঁচা সুপারি চিবুলে মাথা ঘোরে। কারণ, এতে থাকে শূন্য দশমিক ১ থেকে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ এলকালয়েড। আন্তর্জাতিক ক্যান্সার গবেষক দলের এক সূত্র জানায়- সুপারি এক ধরনের কার্সিনোজন (বিষ)। এর এরিকোলিন উপবিষে হাঁপানি, হাইপার টেনশনের যোগসূত্র আছে, যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। তবে কখনও উপকারও করে। কৃমি, রক্ত আমাশয়, অজীর্ণ ইত্যাদি নিরাময়ে সহায়ক। কাঁচা সুপারি চিবুলে শরীর গরম হয়ে ঘামতে পারে। শে^তপ্রদর ও দাস্ত নিবারণেও সুপারিচূর্ণ বেশ উপকারী। সুপারি নিয়ে ছড়াগানও আছে। যেমন- “ঘুম পাড়ানি মাসিপিসি মোদের বাড়ি যেয়ো বাটা ভরে পান দেবো গাল পুরে খেয়ো ”।

শীর্ষ সংবাদ:
কালোবাজারি চলবে না ॥ তালিকা নিয়ে মাঠে নামছে রেল পুলিশ         বুঝেশুনে উন্নয়ন কাজের পরিকল্পনা নিতে হবে         বিএনপিকে নিয়ম মেনেই নির্বাচনে আসতে হবে ॥ কাদের         ঢাকায় আইসিসি প্রধানের ব্যস্ত দিন         দুদুকের মামলায় হাজী সেলিম কারাগারে         সিলেট নগরীর পানি নামছে ॥ সুনামগঞ্জ হাওড়বাসীর দুর্ভোগ         দুই সন্তানসহ স্ত্রী হত্যা ॥ স্বামী আটক         বিশ্বের সবচেয়ে দামী আম চাষ হচ্ছে দেশে         সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন পরিচয়ে প্রতারণা ॥ জামাই-শ্বশুর আটক         দেশে কালো টাকা ৮৯ লাখ কোটি, পাচার ৮ লাখ কোটি         সব ব্যাংকারদের বিদেশ ভ্রমণ বন্ধ করলো বাংলাদেশ ব্যাংক         সরকার পরিবর্তনের একমাত্র উপায় নির্বাচন ॥ কাদের         ভারত থেকে গমের জাহাজ এলো চট্টগ্রাম বন্দরে, কমছে দাম         কারাগারে হাজী সেলিম, প্রথম শ্রেণির মর্যাদা         অর্থনীতি সমিতির ২০ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকার বিকল্প বাজেট পেশ         কোভিড-১৯ : ভারত-ইন্দোনেশিয়াসহ ১৬ দেশের হজযাত্রীদের দুঃসংবাদ         বাইডেনসহ ৯৬৩ মার্কিন নাগরিকের রাশিয়া প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা         পেছাচ্ছে না ৪৪তম বিসিএস প্রিলি         পরিবেশ রক্ষায় যত্রতত্র অবকাঠামো করা যাবে না ॥ প্রধানমন্ত্রী         রাজধানীর গুলশানে দারিদ্র্য কম, বেশি কুড়িগ্রামের চর রাজিবপুরে