শুক্রবার ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ২০ মে ২০২২ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা
সর্বশেষ

বরগুনার বামনার ১৫ সড়কের বেহাল দশা

বরগুনার বামনার ১৫ সড়কের বেহাল দশা

নিজস্ব সংবাদদাতা, বরগুনা ॥ সংষ্কারের দুই বছরের মাথায় ফের চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়েছে বরগুনার বামনা উপজেলার ১৫টি সড়ক। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর এলজিইডির আওতাভুক্ত সড়কগুলোতে অনুমতি ছাড়াই অবৈধ যানবাহনের অবাধ চলাচলের ফলে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ। নিষিদ্ধ এসব যানবাহন চলাচল বন্ধে ইতোমধ্যেই জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর বরগুনা জেলা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে এলাকাবাসী লিখিত আবেদন দিয়েছেন। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর বামনা উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয়ের তথ্যমতে, এলজিইডির আওতায় ২০১৭ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ১৫টি সড়ক সংষ্কার করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দা ও যানবাহন চালকরা জানান, সড়কগুলো সংষ্কারের পর থেকেই ছয়চাকার মাহেন্দ্র ট্রাক্টর ইটভাটার জন্য মাটি, পাথর বালিসহ ইটভাটার মালামাল বহন করে সড়ক দিয়ে চলাচল শুরু করে। যে কারণে, সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভেঙে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে, ধুলা জমে থাকায় পথ চলতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে পথচারীদের।

জেলা প্রশাসক ও এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে দেয়া লিখিত দরখাস্তে এলাকাবাসীর অভিযোগ, এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গ এসব মাহেন্দ্রা ও টাফি ট্রাক্টরের মালিক। এদের অনেকেই ইটভাটার মালিক। স্থানীয়দের কাছ থেকে বিষখালী নদীতীরবর্তি মাটি কিনে সেসব মাটি থেকে ভেকু (খননযন্ত্র ) দিয়ে কেটে বোঝাই করে প্রতিদিন ট্রাক্টরে করে সে মাটি বহন করে হচ্ছে ইটভাটা ও বসতবাড়ির মালিকদের কাছে। ভারী যানবাহনে ভেকু (খননযন্ত্র) নদী তীরে নিয়ে যেতে হয়। ধারণক্ষমতার বেশী মালামালবাহী ট্রাক্টরের চাকায় সড়ক দেবে ও ভেঙে অধিকাংশ সড়কই এখন বেহাল অবস্থা, ভারী মালামাল বহন করায় সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভেঙে গর্তেও সৃষ্টি হয়েছে, খানাখন্দকে পরিণত হয়েছে সড়কের অধিকাংশ এলাকা। এছাড়া ধুলা জমে থাকায় পথ চলতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে পথচারীদের। স্থানীয় বাসিন্দা রিয়াজ হোসেন বলেন, বামনা হাসপাতাল থেকে সোনাখালী সড়ক, বামনা-বুকাবুনিয়া সড়ক, ডৌয়াতলা-বামনা সড়ক, দক্ষিণ রামনা থেকে খোলপটুয়া সড়কসহ উপজেলার এলজিইডির আওতাধীন ১৫টি সড়কই ভারী যানবাহন চলাচল করায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বামনা সদর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সচিব রফিক হাসান এর বাড়ি পাশ থেকে মাটি কেটে বিক্রি করেন বামনা উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও বামনা উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক গোলাম সাব্বির ফেরদৌস তালুকদার ও তার ছেলে ওমি তালুকদার। মাটি কেটে মাটিভর্তি ট্রাক বামনা উপজেলার সাবেক অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী শহীদ ইঞ্জিনিয়ারের বাড়ির রাস্তা দিয়ে চলাচল করে। এতে রাস্তা ভেঙ্গে বড় গর্ত ও খানাখন্দ হওয়ায় ধুলায় এ পথে চলা দুষ্কর।

রামনা এলাকার কৃষক আলতাফ হোসেন বলেন, কয়েক বছর আগে শহীদ ইঞ্জিনিয়ার মানুষের চলাচলের জন্য রাস্তাটি নির্মাণ করে দেন। এরপর থেকে নিয়মিতই মাটিভর্তি গাড়ি চলাচল করায় বর্তামানে রাস্তাটি নষ্ট হয়ে গেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, আওয়ামী লীগ নেতা ফেরদৌস তালুকদার তাদের নিজস্ব জমির মাটি ভেকু দিয়ে কেটে বামনা উপজেলার বিভিন্ন ইটভাটা এবং পারিবারিক নিচু জমি ভরাট এর জন্য মাটি বিক্রি করেন। এ নিয়ে আমরা এলাকাবাসী কিছু বলতে গেলে আমাদেরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন তাই আমরা ভয়ে কিছু বলি না। বামনার কয়েকজন রিকশাচালকের কথা হয়।

আবদুল খালেক নামে একজন রিকশাচালক বলেন, ‘বামনা উপেজলার এমন কোনো সড়ক নেই যে সড়কে ছয় চাকার মাহেন্দ্রা, টাফিসহ ভারি যানবাহন চলাচল করেনা। এরা বামনার অলিগলি দাপিয়ে বেড়ায়। যে কারণে এখন সবগুলো সড়কই চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। আমরা এখন এসব রাস্তায় রিকশা পর্যন্ত চালাতে পারছিনা।

যোগাযোগ করা হলে বামনা উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক গোলাম সাব্বির ফেরদৌস তালুকদার বলেন, মাটি কেটে বিক্রির অভিযোগ সত্য নয়। এলাকার লোকজন ভেঙে যাওয়া নদী তীরের মাটি বিক্রি করে দেয়। আমি ওই মাটি কিনে ভাটা ও বসত বাড়িতে বিক্রি করি। সড়ক ছাড়া এসব মাটি পরিবহনের তো কোনো ওয়ে নাই। সড়ক তো যানবাহন চলাচলের জন্যই নির্মাণ করা হয়েছে।’

এলজিইডি উপজেলা প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম বলেন, উপজেলা এলজিইডির আওতায় বামনায় ১৫টি সড়ক রয়েছে। প্রভাবশালীদের একটি সিন্ডিকেট আছে যারা ছয় চাকার মাটি বহনকারী গাড়ির মালিক। এরা মাটি লোড দিয়ে গাড়ি চালাচ্ছে। তারাই রাস্তা গুলো নষ্ট করে ফেলছে। বিষয়টি নিয়ে আমি উপজেলা আইন-শৃংখলা সভায় আলোচনা করব এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়ার জন্য পদক্ষেপ নেব।’

বামনা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিবেক সরকার বলেন, ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশী লোড নেয়া সড়কে চলাচল নিষিদ্ধ কিছু যানবাহন আমাদেও উপজেলার সড়কগুলো ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এতে এজন্য একদিকে সরকারের রাজস্ব খাতের অর্থ নষ্ট হচ্ছে তেমনি এলাকাবাসী এই সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ নিয়ে আমি খুব শীঘ্রই আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বরগুনার জেলা প্রশাসক মোঃ হাবিবুর রহমান বলেন, "বামনা থেকে এলাকাবাসীর একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে আমি বামনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ব্যবস্থা নিতে নিদের্শ দিয়েছি"।

শীর্ষ সংবাদ:
জড়িত ৮৪ রাঘববোয়াল ॥ পি কে হালদারের অর্থপাচার         স্বপ্নের পদ্মা সেতুর নাম পরিবর্তন হবে না         এবার উল্টো পথে ডলার ॥ ৯৬ টাকায় নেমেছে         কোরানে হাফেজ হয়েও পেশা চুরি !         সিলেটে ২০ লাখ মানুষ পানিবন্দী দুর্ভোগ চরমে         চট্টগ্রামে ড্র করেই সন্তুষ্ট মুমিনুলরা         গ্যাসের দাম বৃদ্ধির ঘোষণা আসতে পারে এ মাসেই         ছয় মেয়র প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ॥ ১০ কাউন্সিলরের বাতিল         দক্ষ স্বচ্ছ ও জনবান্ধব ভূমি সেবাই আমাদের অঙ্গীকার         প্রতি কেজি কাঁচা চা পাতার মূল্য ১৮ টাকা নির্ধারণ         কারসাজি বন্ধে বাজারে বাজারে মনিটরিং সেল গঠনের তাগিদ         লিচুতে রঙিন রাজশাহীর বাজার ॥ ৪৪ কোটি টাকা বাণিজ্যের আশা         নিয়োগ পরীক্ষায় পাস করিয়ে দিতে ১০-১৫ লাখ টাকায় চুক্তি!         শেখ হাসিনার সততার সোনালি ফসল পদ্মা সেতু ॥ কাদের         দেশে সব ধর্মের মানুষ সর্বোচ্চ সুযোগ-সুবিধা নিয়ে ধর্মীয় অধিকার ভোগ করছে : আইনমন্ত্রী         কুমিল্লা সিটি নির্বাচনে ছয় মেয়রসহ ১৫৪ প্রার্থীকে বৈধ ঘোষণা         বিএনপি থেকে সাক্কুর পদত্যাগ         সহসাই গ্যাস পাচ্ছেন না কামরাঙ্গীরচরের বাসিন্দারা         করোনা : ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত ৩৫         আন্দোলনের কোন বিকল্প নেই ॥ মির্জা ফখরুল