রবিবার ২ কার্তিক ১৪২৮, ১৭ অক্টোবর ২০২১ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা
সর্বশেষ

গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারী পার্কে আশা জাগিয়েছে ‘নীলগাই’

গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারী পার্কে আশা জাগিয়েছে ‘নীলগাই’

স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর ॥ প্রায় ৮০বছর আগে দেশের উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে এক সময় অবাধ বিচরণ ছিল নীলগাই-এর। ১৯৪০সালের পূর্ব পর্যন্ত বাংলাদেশে নীলগাই দেখা গিয়েছিল। বনাঞ্চল উজাড় হওয়া, বসবাসের পরিবেশ হারানো, খাদ্য সংকট ও শিকারীর অবাধ শিকারের কারণে পরিবেশে প্রাণীটির সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে কমতে কমতে এক সময় নীলগাইয়ের নাম উঠে বিলুপ্তর তালিকায়। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত, পাকিস্তান নেপাল এবং যুক্তরাষ্ট্রে নীলগাই রয়েছে।

বাংলাদেশে বিলুপ্তর তালিকায় থাকা নীলগাই গাজীপুরের শ্রীপুরে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারী পার্কে রয়েছে মাত্র দুটি। এর মধ্যে একটি পুরুষ ও একটি মাদী নীলগাই। এর বাইরে দেশে আরও কোথাও এ প্রাণী নেই।

গত ১ আগস্ট সাফারী পার্কে থাকা নীলগাই থেকে দুটি নীল গাইয়ের জন্ম হয়েছে। তবে নবজাতক দুটি মাদী না পুরুষ তা এখনও নির্ণয় করা যায়নি। আর নুতন জন্ম নেয়া শাবক দুটি থেকেই পার্ক কর্তৃপক্ষ প্রায় ৮০বছর আগে বাংলাদেশের প্রকৃতি থেকে হারিয়ে যাওয়া বিলুপ্তর তালিকা থাকা নীলগাইয়ের প্রকৃতিতে ফিরে আসার সম্ভাবনা দেখছেন। তবে, নতুন জন্ম নেয়া শাবকের নিরাপত্তা ও প্রকৃতিতে টিকে থাকার চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সহকারী বন সংরক্ষক তবিবুর রহমান জানান, ২০২০সালের ১ফেব্রুয়ারি চাঁপাই নবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার মনাকষা গ্রামের মামুদপুর-ঠুঠাপাড়া বর্ডার এলাকার বাসিন্দারা একটি নীল গাই ধরে জবাই করার প্রস্তুতি নেয়। পরে বিজিবি-৫৩ (মামুদপুর বিওপির) সদস্যরা ওই মাদী নীলগাইকে উদ্ধার করে, রাজশাহীর বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগে হস্তান্তর করলে নীলগাইটি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারী পার্কে আনা হয়।

অপরদিকে, ২০১৯সালের ২২জানুয়ারি নওগাঁর মান্দা উপজেলার জোতবাজার এলাকায় অপর একটি নীলগাই আটক করে জবাই করার প্রস্তুতি নেয়া হয়। পরে রাজশাহীর বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ স্থানীয় উপজেলা ও পুলিশ প্রশাসনের সহায়তায় জবাই করার প্রস্তুতির সময় একটি পুরুষ নীলগাই উদ্ধার করে। পরে স্থানীয় ভাবে চিকিৎসা দিয়ে ২০১৯ সালের ৮ই ফেব্রুয়ারি দিনাজপুরের রামসাগর জাতীয় উদ্যানে স্থানান্তর করা হয়। পরে সেখান থেকে পুরুষ নীলগাইটি প্রজননের জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারী পার্কে আনা হয়।

পার্কের ওয়াইল্ডলাইফ সুপারভাইজার মোঃ সারোয়ার হোসেন খান জানান, হেমন্ত থেকে শীতকালের শুরুর দিক পর্যন্ত সময়ে তুলনামূলক বেশি যোগ্যতা সম্পন্ন পুরুষ নীলগাই সম্মতিসূচক লেজ নাড়াচাড়ার পর মাদী নীলগাইয়ের সাথে মিলিত হয়। প্রতিযোহিতার মাধ্যমে পুরুষ নীলগাই একাধিক মাদী নীলগাইয়ের সাথে মিলিত হয়ে থাকে। গর্ভধারণ কাল গড় ২৪৩দিন এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে যমজ বাচ্চা প্রসব করে, ক্ষেত্র বিশেষে ১টি থেকে ৩টি বাচ্চাও প্রসব করে থাকে। জন্মের ৪০মিনিটের ভেতর দাঁড়াতে পারে পুরুষ শাবক ৩বছর এবং মাদী ২বছরে প্রজননক্ষম হয়ে উঠলেও এদের গড় আয়ু ২১বছর।

তিনি আরও জানান, পুরুষ নীলগাইয়ের বর্ণ গাঢ় ধুসর, অনেকটা কালচে রঙের। অনেক সময় নীলচে আভা দেখা যায় বলে এদের নীলগাই নামকরণ করা হয়েছে। শুধুমাত্র পুরুষ নীলগাইয়ের দুটি কৌনিক, মসৃণ ও সামনের দিকে কিঞ্চিত বাকানো দুটি শিং আছে। পুরুষের উচ্চতা ৫২-৫৮ইঞ্চি, শিং এর দৈর্ঘ্য ৮-১২ইঞ্চি। মাদী নীলগাই এবং শাবকের রং লালচে বাদামী কিন্তু খুরের উপরের লোম সাদা। ঠোঁট, থুতনি, কানের ভেতরের দিক ও লেজের নীচের তলদেশ সাদা। নীলগাই ছোট ছোট পাহাড় আর ঝোপ-জঙ্গলপূর্ণ মাঠে চড়ে বেড়াতে ভালবাসে। ঘন বন এড়িয়ে চলে। সচরাচর ৪ থেকে ১০ সদস্যের দল নিয়েই নীলগাই ঘুরে বেড়ায়। দলে কখনও ২০ বা তার বেশি সদস্যও থাকতে পারে।

নীলগাই সম্পর্কে তিনি আরও জানান, নীলগাই গাছে ঢাকা উঁচু-নিচু সমতলে বা তৃণভূমিতে যেমন স্বাচ্ছন্দে বিচরণ করতে পারে, তেমনি আবার শস্যক্ষেত্রে নেমে ব্যাপক ক্ষতি করতে পটু। সকাল আর বিকেলে খাওয়ার পাট চুকিয়ে দিনের বাকি সময়টা গাছের ছায়ায় বসে কাটায়। মহুয়া গাছের রসালো ফুল এদের দারুণ পছন্দ। পানি ছাড়া এরা দীর্ঘসময় কাটিয়ে দেয়, এমনকি গরমের দিনেও এরা নিয়মিত পানি খায় না। আত্মরক্ষার প্রধান উপায় দৌড়ে পালানো। দ্রুতগামী ও শক্তিশালী ঘোড়ার পিঠে না চড়ে নীলগাই ধরা প্রায় অসম্ভব।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারী পার্কের প্রকল্প পরিচালক মো: জাহিদুল কবির বলেন, উদ্ধারকৃত স্ত্রী ও পুরুষ নীলগাইকে জবাই করার পূর্ব মুহুর্তে উদ্ধার করা হয়। সেহেতু বাংলাদেশ থেকে বিলুপ্ত হওয়ার কারণ সহজেই অনুমান করা যায়। প্রায় দীর্ঘ ৮০ বছর পর ভারত থেকে আসা নীলগাই বাংলাদেশে প্রবেশ করার পর তাদের গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারী পার্কে আনা হয়।এরা জুঁটি বাধার ১১মাস ১১দিন পর গত পহেলা আগষ্ট দুটি ফুটফুটে বাচ্চা জন্ম দেয়। বর্তমানে সবাই সুস্থ আছে। বাংলাদেশ নীলগাই শূণ্য হলেও ভারতে লাখের উপর নীলগাই রয়েছে। সাফারী পার্কে সংরক্ষিত নীলগাই দুটি ভারত সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করার পর সীমান্তবর্তী বাসিন্দাদের কাছ জবাই করার পূর্ব মুহুর্তে উদ্ধার করা হয়। আর যদি ১০/২০ মিনিট দেরি হতো তাহলে মাংসের জন্য নীলগাই দুটি জবাই হয়ে যেতো। বাংলাদেশের শেষ নীলগাইটিকে এভাবেই হত্যা করা হয়েছে এবং প্রায় ৮০বছর আগেই আমরা প্রকৃতি থেকে নীলগাইয়ের সমাপ্তি টেনেছিলাম। আশি বছর পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারী পার্কের দুইটি নীল গাই বাচ্চা জন্ম দিয়েছে। আমরা আশা করছি বিলুপ্তর তালিকায় থাকা নীলগাই গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারী পার্কের মাধ্যমে আবারো প্রাকৃতিক পরিবেশে ফিরে আসবে।

করোনাভাইরাস আপডেট
বিশ্বব্যাপী
বাংলাদেশ
আক্রান্ত
২৪০৫০৯৩৩৮
আক্রান্ত
১৫৬৫১৭৪
সুস্থ
২১৭৭৯৮৫৯০
সুস্থ
১৫২৭৩৩৩
শীর্ষ সংবাদ:
দেশ বিক্রি করে ক্ষমতায় আসব না ॥ বিশ্ব খাদ্য দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী         নিরাপদে দেশে ঢুকছে ভয়ঙ্কর আইস         দিগঙ্গনার অঙ্গন আজ পূর্ণ তোমার দানে ॥ এসেছে হেমন্তলক্ষ্মী         করোনাপরবর্তী স্বাভাবিক জীবনে ছন্দপতন         ‘আগের রাতেই মণ্ডপে কেউ কোরান শরীফ রেখে যায়’         ২৩ অক্টোবর সারাদেশে ছয় ঘণ্টার গণঅনশন         উন্নয়নে পিছিয়ে নেই শেরপুর         পাকিস্তানী যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের উদ্যোগ নিতে হবে         সরকারের সঙ্গে আলেম ওলামাদের কোন বিরোধ নেই         ত্রিশালে সড়ক দুর্ঘটনায় এক পরিবারের ৫ জনসহ নিহত ৭         বগুড়ায় ১৪ বেইলি ব্রিজ সরিয়ে নতুন সেতু নির্মাণ শুরু হচ্ছে         করোনায় দেশে ৬ জনের মৃত্যু         করোনা : গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ৬         ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টকারীদের বিচারের আওতায় আনা হবে’         ঢাকামুখী অভিবাসন রোধ করতে হবে : মেয়র তাপস         রবিবার ২০ বিশ্ববিদ্যালয়ের গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা শুরু         প্রতিদিন ৪০ হাজার স্কুল শিক্ষার্থী টিকা পাবে ॥ মাউশি         ইভ্যালির ওয়েবসাইট বন্ধ         ডেঙ্গু : গত ২৪ ঘন্টায় ১৮৩ জন হাসপাতালে         বিদেশে এনআইডির জন্য বরাদ্দ ১০০ কোটি টাকা