মঙ্গলবার ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ০২ জুন ২০২০ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা
সর্বশেষ

আল বিদা মাহে রমজান

আল বিদা মাহে রমজান

অধ্যাপক মনিরুল ইসলাম রফিক ॥ মাহে রমজানের আজ ২৭তম দিবস। দুই/তিন দিনের মাথায় নাজাতের প্রতিশ্রুত মাহে রমজানের শেষ দশকের সমাপ্তি ঘটবে, উদীত হবে ঈদ-উল-ফিতরের নয়া চাঁদ। রোজাদারদের উচিত এ সময় নিজেকে পরিশুদ্ধ করার ক্ষেত্রে সর্বাধিক সাধনা চালিয়ে যাওয়া, নিজেকে আত্মোৎসর্গিত বান্দায় পরিণত করা। আমাদের মনে রাখা উচিত সমাজ থেকে কিছু পেতে হলে সমাজকে কিছু দিতে হয়। কিন্তু মানুষ এ বিষয়টি খেয়াল করে না। এ ব্যাপারে গুরুত্ব দেয় না; বরং ত্যাগের চেয়ে ভোগের নিরন্তর স্পৃহাই মানুষকে প্রতিনিয়ত তাড়িত করে বেশি। অবশ্য, ব্যতিক্রম চরিত্র মাধুর্যের মানুষ যে নেই তা নয়। আছে, তবে তাদের সংখ্যা খুবই নগণ্য। ভোগবাদী মানুষের পাশাপাশি যুগে যুগে ত্যাগী ও আত্মোৎসর্গিত মানুষের উপস্থিতিও আছে বলে সমাজ অন্তত আজও এতটুকুন আবাসযোগ্য রয়েছে।

যারা ভোগবাদী তারা মনে করে, ভোগের মাধ্যমে তারা দুনিয়াটাই কব্জা করে নেবে, কিন্তু আসলে তা একটি মিথ্যা ও ভ্রান্ত ধারণা। যুগে যুগে তারা ঘৃণিত, বিস্মৃত ও ধিকৃত হয় এবং ক্রমেই ইতিহাসের আঁস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হয়। পক্ষান্তরে যারা ত্যাগী, তারা মনুষ্য সমাজে চিরস্থায়ী সম্মানজনক আসন লাভ করে থাকে। তারা পরম অনুপ্রেরণা হন সত্যাশ্রয়ী মানুষের জন্য। দাতা হাতেমতাঈ, হাজী মুহম্মদ মুহসীন মানবেতিহাসে কিংবদন্তি হয়ে আছেন।

আমাদের প্রিয় নবী হযরত রাসুলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছিলেন ত্যাগের, দানের, সমাজসেবা ও সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখ বিবেচনার ক্ষেত্রে এক অনন্য সাধারণ ব্যক্তিত্ব। নিজের জন্য কিছু গ্রহণ, ভোগবাদিতা প্রকাশের কোন ফুরসত জীবনে কখনও তিনি পাননি। সমাজের জন্য, একটি সুশীল সুসভ্য জাতি সৃষ্টির জন্য তিনি জীবনের সর্বস্ব ত্যাগ ও কোরবানি দিয়েছিলেন। এমনকি পানাহার, ঘুম, আরাম-আয়েশ কিছুই তিনি পুরোপুরি উপভোগ করতে পারেননি।

বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও আল্লাহর প্রিয় হাবীব হয়েও তিনি নিজে ক্ষুধার জ্বালায় পেটে পাথর বেঁধে রেখেছিলেন। হযরত ফাতেমার শ্বশুরালয়ে একবার তিনি অহেতুক সাজসজ্জা দেখে নীরবে গৃহত্যাগ করেছিলেন। আর দান করার ক্ষেত্রে এমন হয়েছিলেন যে, জনৈক দীনহীন লোকের আবদার রাখতে গিয়ে নিজের পরনের একমাত্র জামাটি খুলে দিয়েছিলেন। অবশ্য এ জন্য আল্লাহ তায়ালা তাকে কোরানের আয়াত নাজিলের মাধ্যমে দানের কতিপয় নিয়মও শিক্ষা দিয়েছেন। কোরানে বলা হয়েছে- তুমি এমনভাবে হাত গুটিয়ে বসে থেক না, যাতে লোকজন তোমাকে কৃপণ বলে তিরস্কার করবে, আবার এমনভাবে দানও করবে না যাতে তুমি রিক্তহস্ত হয়ে পড়।’

সমাজের স্বার্থে যুগে যুগে মহামনীষীগণ ত্যাগ ও দানের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। ধর্মীয় গ্রন্থগুলো দানের বিষয়ে ব্যাপক গুরুত্বারোপ করেছে। সমাজে অন্যের সেবা করা, অন্যকে কাছে টানা, অন্যের জন্য জানমাল ত্যাগ করার মানসিকতা হ্রাস পেলে সে সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা ভেঙ্গে পড়ে, হতাশা গ্রাস করে সাধারণ মানুষদের। এমনকি একশ্রেণীর ভোগবাদীদের দোরগোড়ায় মজলুম নিস্ব বনি আদমের এক মুঠো ভাত অথবা এক টুকরো পরনের কাপড়ের জন্য আর্তনাদ দেখা দিলে আল্লাহর আরশ কেঁপে উঠে। ফলে সমাজে নানা গজব, মহামারী, অশান্তি, অস্থিতিশীলতা নেমে আসে।

কারণ পরম স্রষ্টা আল্লাহ তা’য়ালা মজলুম বান্দাদের কান্নায় বিচলিত হন, তাদের দোয়া ও আল্লাহর মধ্যে কোন পার্থক্য থাকে না। একজন মায়ের কয়েক সন্তানের মধ্যে যে সন্তানটি বেশি দুর্বল, তার দিকে যেমন কোন পিতা-মাতার অধিক বেদনা ও সহমর্মিতা প্রকাশ পায় ঠিক তদ্রƒপ আল্লাহর কাছেও তার দুঃখী ও নির্যাতিত অবহেলিত বান্দাটি অধিক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে।

হাদিস শরীফে আছে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ কতিপয় মানুষকে অভিযোগ করবেন: ‘আমি ক্ষধার্ত ছিলাম আমাকে খাদ্য দাওনি, আমি তৃষ্ণার্ত অবস্থায় তোমার কাছে পানি চেয়েছিলাম, তুমি আমার তৃষ্ণা নিবৃত্ত করনি; আমি কাপড়ের মুহতাজ ছিলাম তুমি আমাকে কাপড় দাওনি।’ বান্দা তখন বলবে: ‘ওহে মহামহিম প্রভু! আপনি তো অমুখাপেক্ষী, বে-নিয়াজ। আপনি তো এসব হাজত হতে মুক্ত-পবিত্র। কখন কিভাবে আপনি তা আমাদের কাছে চেয়েছিলেন?’

আল্লাহ উত্তরে বলবেনÑ ‘আমি যাইনি ঠিকই, আমার গরিব-অভাবী বান্দাগণ ক্ষধায়, তৃষ্ণায় ও বস্ত্র সমস্যা নিয়ে তোমার কাছে গিয়েছিল। তুমি তাদের প্রয়োজনীয় সেবাদান করলে তাদের মধ্যে আমার সন্তুষ্টিই খুঁজে পেতে।’ এজন্য কোরানে বলা হয়েছেÑ ‘ওয়া ফী আমওয়ালিহিম হাক্কুন লিস সায়িলি ওয়াল মাহরূম’-অর্থাৎ তাদের ধন-সম্পদে ভিখারি ও বঞ্চিতদের অধিকার রয়েছে। কোরানুল কারীমে আরও বলা হয়েছেÑ ‘যারা সোনা-রূপা জমা করে রাখে আর তা থেকে আল্লাহর রাহে খরচ করে না, তাদের পরকালে ভয়ানক আযাবের সুসংবাদ দান কর।’ অর্থাৎ তাদের আজাব বা শাস্তির পরিণাম ও মজা গ্রহণের প্রস্তুতি নিতে বল।

হযরত মুহম্মদ (স) হাদিস শরীফে বর্ণনা করেছেনÑ যখন তোমাদের নেতৃত্ব উত্তম যোগ্যতার অধিকারী হয় আর তোমাদের ধনিক শ্রেণী দানশীল হয় এবং তোমাদের সমস্ত সিদ্ধান্ত পরস্পর পরামর্শের ভিত্তিতে হয়, তবে পৃথিবীর পৃষ্ঠদেশ এর অভ্যন্তর ভাগ হতে উত্তম হয়। অর্থাৎ এ দুনিয়া আল্লাহর রহমতে শান্তি, শৃঙ্খলা ও সমৃদ্ধিতে ভরে উঠে।

সুতরাং আমাদের মধ্যে যারা ধনী, তাদের উচিত, সময় মতো যাকাতের টাকা-পয়সা গরিবদের মধ্যে বিলিবণ্টন করা। এটি একজনের হাতে পুঞ্জীভূত থাকলে সমাজের অর্থনীতির চাকা থেমে যায়। নিজেকেও নানা পাপ, সংকীর্ণতা ও গজব এসে গ্রাস করে।

শীর্ষ সংবাদ:
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আরও ৩৭ জনের মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ২৯১১         ন্যাশনাল ব্যাংকের ৬০ লাখ টাকা উদ্ধার, গ্রেফতার ৪         করোনা ভাইরাস দুর্বল হওয়ার প্রমাণ নেই ॥ ডব্লিউএইচও         আইসিইউতে ভর্তি মোহাম্মদ নাসিম, শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল         দক্ষিণ আফ্রিকায় সন্ত্রাসীদের হাতে বাংলাদেশি নিহত         কঙ্গোতে ছয়জনের ইবোলা শনাক্ত, চারজনের মৃত্যু         জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যু শ্বাসকষ্টে হয়েছে         উপগ্রহ চিত্রে ধরা পড়ল লাদাখ সীমান্তে মোতায়েন করা চীনের যুদ্ধবিমানের ছবি         হোয়াইট হাউসের সামনে সংঘর্ষ, সেনা নামানোর হুমকি ট্রাম্পের         পশ্চিম তীর দখল নিয়ে ইসরাইলকে সতর্ক করল আরব আমিরাত         রেড, ইয়েলো, গ্রীন ॥ করোনা ঠেকাতে তিন জোনে ভাগ হচ্ছে         মানব পাচারকারী চক্রের অন্যতম হোতা হাজী কামাল গ্রেফতার         করোনায় আয় কমেছে ৭৪ শতাংশ পরিবারের ॥ ১৪ লাখের বেশি প্রবাসী শ্রমিক বেকার         পরিস্থিতির অবনতি হলে কঠিন সিদ্ধান্ত ॥ কাদের         ৬০ বছরের বেশি বয়সী রোগীর মৃত্যুহার সর্বোচ্চ         করোনা মোকাবেলায় ৪ প্রকল্প একনেকে উঠছে আজ         ১০ হাজার কোটি টাকার জরুরী তহবিল         স্বাস্থ্যবিধি মানা না মানার চিত্র         একসঙ্গে ২৫ শতাংশের বেশি কর্মীর অফিসে থাকা মানা         সঙ্কট মোকাবেলায় খাদ্য উৎপাদন আরও বাড়াতে হবে        
//--BID Records