শুক্রবার ৯ আশ্বিন ১৪২৭, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা
সর্বশেষ

শেখ মুজিব ॥ বাঙালীর ভাষারাষ্ট্রের পিতা

  • মোস্তাফা জব্বার

॥ আট ॥

১৯৫৬ সালের ১৭ জানুয়ারি পাকিস্তান গণপরিষদে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সংসদের দৈনন্দিন কর্মসূচী বাংলায় মুদ্রণের বিষয়ে একটি ঐতিহাসিক বক্তব্য পেশ করেন। ভাষা আন্দোলনকে যারা কেবল ’৫২-এর শহীদ দিবসে সীমিত রাখেন তাদের জানা দরকার যে কেবল একটি মর্যাদা অর্জনই ভাষা আন্দোলন নয়। বাঙালীর ভাষা রাষ্ট্রের পিতা বাংলা ভাষাকে প্রয়োগ ও প্রচলন করার ক্ষেত্রেও অসাধারণ ভূমিকা পালন করেন।

ইংরেজী ও উর্দুর পাশাপাশি বাংলায়ও দিনের আলোচ্য কর্মসূচি প্রচার করার বিষয় আলোচনার জন্য মাননীয় ডেপুটি স্পীকার, সিইগিবনের সভাপতিত্বে গণপরিষদের অধিবেশন এ্যাসেম্বলি চেম্বারে অনুষ্ঠিত হয়। আমরা বঙ্গবন্ধুর বক্তব্য তুলে ধরছি।

শেখ মুজিবুর রহমান : মহোদয়, একটি বিশেষাধিকার প্রশ্নে আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। মহোদয় পাকিস্তান গণপরিষদের কার্যপ্রণালী বিধি ২৯-এর অধীনে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয় যে, সংসদের সরকারি ভাষা হচ্ছে তিনটি : ইংরেজি, বাংলা ও উর্দু। কিন্তু মহোদয়, আপনি জানেন যে, দিনের আলোচ্য কর্মসূচি কেবল ইংরেজিতে ও উর্দুতে বিতরণ করা হয়, বাংলায় করা হয় না। আমি জানি না বিষয়টি আপনি অবগত আছেন কি নাই, কিংবা এটি ইচ্ছাকৃতভাবে করা হয়েছে কি না। কিন্তু, মহোদয়, আমি জানতে চাই সংসদের অফিস থেকে কেন এ ধরনের ঘটনা ঘটানো হচ্ছে, কেন এই কা- করা হচ্ছে এবং কেনই বা বাংলাকে বাদ দেয়া হয়েছে। বিশেষাধিকার প্রশ্নে আপনার মনোযোগ আকর্ষণের কারণ আমার এটি।

বঙ্গবন্ধু তার এই বক্তব্যে পাকিস্তান গণপরিষদে বাংলা প্রচলনের যে ঐতিহাসিক কাজটি করেন তা পুরো বাঙালী জাতি ও বিশ্বের সব বাংলা ভাষাভাষীর জন্য এক অবিস্মরণীয় ঘটনা। এরপর সংসদের কার্যক্রম এভাবে চলে :

মাননীয় সরদার আমির আজম খান : মহোদয়, এ প্রসঙ্গে আমি কি দু-একটি কথা বলতে পারি?

মাননীয় ডেপুটি স্পীকার : না। মাননীয় সদস্য কি সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি পাঠ করে শোনাবেন?

শেখ মুজিবুর রহমান : জি, মহোদয়, বিধি-২৯-এর পাঠ নিম্নরূপ :

‘(১) সদস্যগণ সংসদে উর্দু, বাংলা অথবা ইংরেজীতে ভাষণদান করিতে পারিবেন, তবে শর্ত থাকে যে চেয়ারম্যান এই সমস্ত ভাষায় নিজেদের পর্যাপ্তরূপে ব্যক্ত করিতে পারেন না এরূপ যে কোন সদস্যকে তাঁর মাতৃভাষায় সংসদে ভাষণদানের অনুমতিদান করিতে পারিবেন।

যদি কোন সদস্য ইচ্ছা প্রকাশ করেন যে উর্দু বা বাংলা ভাষা ব্যতিরেকে অন্য কোন ভাষায় প্রদত্ত তঁাঁর ভাষণটির ইংরেজী অনুবাদ সংসদে পাঠ করা হোক তা হইলে তিনি চেয়ারম্যানের নিকট ইহার একটি কপি সরবরাহ করিবেন যাহা তিনি (চেয়ারম্যান) তাঁহার মর্জিমাফিক সংসদে পাঠ করিবার জন্য অনুমতি প্রদান করিতে পারিবেন।

(২) সংসদের কার্যবিবরণীর দাফতরিক রেকর্ড উর্দু, বাংলা ও ইংরেজী ভাষায় রক্ষা করিতে হইবে।’

এই বিষয়ে আমি বিশেষাধিকারের প্রশ্নটি উত্থাপন করেছি।

মাননীয় ডেপুটি স্পীকার : কার্যবিবরণী কি উর্দু, বাংলা ও ইংরেজীতে লিপিবদ্ধ করা হচ্ছে না?

শেখ মুজিবুর রহমান : কার্যবিবরণী নিশ্চয়ই বাংলায় লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, যেহেতু তিনটি ভাষায়ই সরকারী ভাষা হিসেবে স্বীকৃত সেহেতু তিনটি ভাষাকেই সমান মর্যাদা দিতে হবে। যদি দিনের আলোচ্য কর্মসূচী ইংরেজী ও উর্দুতে প্রকাশ করা হয় তাহলে তা অবশ্যই বাংলাতেও করতে হবে, কেননা দিনের আলোচ্য কর্মসূচী কার্যবিবরণীরই অংশবিশেষ।

মাননীয় ডেপুটি স্পীকার : আপনি কি বললেন?

শেখ মুজিবুর রহমান : আমি বলছি, দিনের আলোচ্য কর্মসূচীও অফিসিয়াল রেকর্ডের অংশবিশেষ।

মাননীয় ডেপুটি স্পীকার : এই বিশেষাধিকারের প্রশ্নটি প্রকৃতপক্ষে যে সদস্য উত্থাপন করেছিলেন তাঁর পক্ষে বলতে গিয়ে আপনি বিষয়টিকে আরও ঘোলাটে করে ফেলেছেন। এ বিশেষাধিকারের প্রশ্নটি যে- সম্মানীয় সদস্য উত্থাপন করেছিলেন তিনি কি বিষয়টি স্পষ্ট করবেন?

শেখ মুজিবুর রহমান : মহোদয়, আমি জানতে চাই যে দিনের আলোচ্য কর্মসূচী অফিসিয়াল রেকর্ড কি না। সংসদের দফতর থেকে এই কর্মসূচী প্রকাশ করা হয়েছে। কার্যপ্রণালী-বিধি ২৯(২)-এ সুস্পষ্টরূপে বর্ণিত হয়েছে যে সংসদের কার্যবিবরণী উর্দু, বাংলা ও ইংরেজী ভাষায় লিপিবদ্ধ করতে হবে। এটি অফিসিয়াল রেকর্ডেও অবিচ্ছেদ্য অংশ কিনা সেটি বিবেচ্য বিষয়। মহোদয়, আমাদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী এটি হলো অফিসিয়াল রেকর্ড, কারণ এটি সংসদের অফিস থেকে সদস্যদের কাছে বিতরণ করা হয়। দিনের আলোচ্য কর্মসূচী যদি দুটো ভাষায় তথা ইংরেজী ও উর্দুতে বিতরণ করা হয় তাহলে বাংলাতে নয় কেন? দিনের আলোচ্য কর্মসূচী এ যাবত ইংরেজিতে বিতরণ করা হতো। কিন্তু এখন যেহেতু তা ইংরেজী ও উর্দুতে করা হচ্ছে তাহলে বাংলাকে বাদ দেয়ার পেছনে কি উদ্দেশ্য থাকতে পারে? আমরা জানতে চাই এটি কে করেছেন? এটা কি আপনার আদেশ করা হয়েছে, না কি কোন কর্মকর্তা তা করেছেন? আমি বলতে চাই না যে এটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে করা হয়েছে। আপনি ডেপুটি স্পীকার এবং আপনার ব্যাখ্যাই চূড়ান্ত। কিন্তু আমি বলতে চাই যে আমাদের ব্যাখ্যা হলো এটা অফিসিয়াল রেকর্ডের অংশবিশেষ। এবং যেহেতু দিনের আলোচ্য কর্মসূচি ইংরেজি ও উর্দুতে প্রকাশ করা হয়েছে সেহেতু তা বাংলাতেও করা উচিত ছিল।

পাকিস্তান গণপরিষদে বঙ্গবন্ধু বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ব্যবহার করার বিষয়ে যে বক্তব্য দেন তার আরও বিস্তারিত তথ্যাদি আমরা এখানে উল্লেখ করতে পারি। ১৯৫৬ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান গণপরিষদে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলা ভাষা নিয়ে কথা বলেন আমরা তার বক্তব্য এখানে উপস্থাপন করছি।

[পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষার বিষয়ে আলোচনার জন্য ডেপুটি স্পীকার সি.ই.গিবন-এর সভাপতিত্বে পাকিস্তান গণপরিষদের অধিবেশন অ্যাসেম্বলি চেম্বারে অনুষ্ঠিত হয়। এই পর্যায়ে চেয়ারম্যান (জনাব আবদুস সাত্তার) চেয়ার ছেড়ে দিলে মাননীয় ডেপুটি স্পীকার সেখানে উপবেশন করেন]

মাননীয় ডেপুটি স্পীকার : শেখ মুজিবুর রহমান।

শেখ মুজিবুর রহমান : আমার সংশোধনী প্রস্তাবের সমর্থনে আমি খোদ খসড়া শাসনতন্ত্রের ধারার প্রতি আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। এতে বলা হয়েছে : ‘একটি জাতীয় ভাষার (National Language) উন্নয়ন ও শ্রীবৃদ্ধির জন্য সম্ভাব্য যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিবার দায়িত্ব হইবে ফেডারেল ও প্রাদেশিক সরকারের।’

অন্যত্র আবার বলা হয়েছে :

‘পাকিস্তান ইসলামী প্রজাতন্ত্রের সরকারী ভাষা (Official Language) হইবে উর্দু ও বাংলা।”

কিন্তু মহোদয়, আপনি লক্ষ্য করবেন যে বিবেচনাধীন বর্তমান ধারায় তারা বলেছেন যে একটি জাতীয় ভাষার উন্নয়ন ও শ্রীবৃদ্ধির জন্য সম্ভাব্য যাবতীয় ব্যবস্থা ফেডারেল ও প্রাদেশিক সরকার গ্রহণ করবেন। আমি আপনার দৃষ্টি ‘একটি জাতীয় ভাষা’।

(a national Language) এই শব্দচয়নের প্রতি বিশেষভাবে আকর্ষণ করব এবং মহোদয়, এটা কিন্তু ভয়াবহ বলে মনে হচ্ছে। মহোদয় সেদিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকা যান এবং তিনি এক সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা করলেন যে সরকারী ভাষা (Official Language)-এর অর্থ হচ্ছে রাষ্ট্রভাষা (State Language)। ব্রিটিশ রাজত্বকালে ইংরেজী সরকারী ভাষাও ছিল এবং আমরা বাংলাকেও অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ব্যবহার করতাম। পূর্ব বাংলায় আমরা সরকারি ভাষা বলতে রাষ্ট্রভাষাকে বুঝাই না।

ডেপুটি স্পীকার : আপনি কি জানেন এই প্রসঙ্গে ব্যবহৃত তিনটি শব্দ রয়েছে ‘রাষ্ট্র’ ‘সরকার’ এবং ‘জাতীয়’?

শেখ মুজিবুর রহমান : সে যাই হোক, মহোদয়, ‘সরকারী ভাষা’ এই শব্দযুগল ব্যবহারের পেছনে কোন দুরভিসন্ধি ছিল। যদি কোন রকম দুরভিসন্ধি নাও থাকে এবং তা যদি ধরেও নেয়া হয় তাহলেও দেখা যায় যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকায় সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন যে উর্দু ও বাংলা হবে পাকিস্তানের সরকারী ভাষা এবং খসড়া শাসনতন্ত্রে ওই মর্মে বিধানও রাখা হয়েছিল।

ডেপুটি স্পিকার : এই সংশোধনীর বিষয়ে আপনি এত চাপ দিচ্ছেন কেন? মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী তো ইতোমধ্যে বলেছেন যে, তিনি বিলে এই ধারার অন্তর্ভুক্তির বিরোধিতা করবেন বলে মনস্থ করেছেন।

শেখ মুজিবুর রহমান : যদি না তা ঘটে...

হামিদুল হক চৌধুরী : তারা না হয় ওই সামান্য সুযোগটুকু গ্রহণ করুক।

শেখ মুজিবুর রহমান : কোন রকম সুযোগ গ্রহণের প্রশ্নই আসে না। কিন্তু তাই যদি আপনার মনোভাব হয় তাহলে আমি বলবো, হ্যাঁ আমি এর সুযোগ নিতে চাই। আপনি ১৯৪৮ সালে যখন পূর্ব বাংলার মন্ত্রী ছিলেন এবং যখন আমি রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন শুরু করেছিলাম তখন আপনি আপনার পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছিলেন আমাকে লাঠিচার্জ করতে এবং এই জন্য এই প্রশ্নের ব্যাপারে আমার অনুভূতি কী আমি তা জানি, কারণ আপনার পুলিশ আমাকে লাঠিপেটা করেছিল এবং আমাকে জেলেও পাঠানো হয়েছিল।

হামিদুল হক চৌধুরী : এ কথা ঠিক নয়।

ডেপুটি স্পিকার : (জনাব মুজিবুর রহমানকে সম্মোধন করে): আপনি কি এই নিয়ম জানেন যে বক্তব্য পেশকালে চেয়ারম্যানকে সম্বোধন করতে হয়?

শেখ মুজিবুর রহমান : জি, মহোদয়, আমি তা জানি। আমি চেয়ারম্যানের মাধ্যমেই মাননীয় সদস্যকে সম্বোধন করে বলছি। তিনিও হাউসের অন্যতম সদস্য। আমি আপনার মাধ্যমে এই হাউজের মাননীয় সদস্যদের দৃষ্টিতেও বিষয়টি আনতে চাই এবং যুক্তির মাধ্যমে তাঁদের তা বোঝাতে চাই যাতে করে তারা আমার সংশোধনী প্রস্তাবটি গ্রহণ করেন।

মাননীয় ডেপুটি স্পিকার : কিসের সংশোধনী?

শেখ মুজিবুর রহমান : আল্লাহ তায়ালাই জানেন কখন আবার ওই আরেকটা ধারা হাউসে উপস্থাপিত হতে যাচ্ছে এবং আগামীকাল এ মর্মে সংশোধনী প্রস্তাব আনা হতে পারে যে এটি রাষ্ট্রভাষা নয়। আমাদের অবশ্যই এই বিষয়ে স্বচ্ছ ধারণা রাখতে হবে এবং সেই কারণে আমি আমার সংশোধনীতে উল্লেখ করেছি যে,“ দুটি রাষ্ট্রভাষা, যথা, বাংলা ও উর্দুর উন্নয়ন ও শ্রীবৃদ্ধির জন্য সম্ভাব্য যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দায়িত্ব হবে ফেডারেল ও প্রাদেশিক সরকারের।’ এই দুই রাষ্ট্রভাষার উন্নয়ন ও শ্রীবৃদ্ধির জন্য আমাদের অবশ্যই অবিলম্বে সব ধরনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। মহোদয়, পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের মাতৃভাষা বাংলা এবং আপনি যদি ইচ্ছা প্রকাশ করেন তাহলে আমি এর ঐতিহাসিক ব্যাখ্যা দিতেও প্রস্তুত। মহোদয়, সিন্ধু, বেলুচিস্তান,পাঞ্জাব, সীমান্ত প্রদেশ, ভাওয়ালপুর ইত্যাদি নিয়ে তৎকালীন গঠিত এলাকায় উর্দু ছিল শিক্ষার মাধ্যম। পূর্ব বাংলায় একমাত্র বাংলা ভাষাতেই জনগণ কথা বলে। অথচ এই পশ্চিম পাকিস্তানে আমরা দেখতে পাই উর্দু, সিন্ধী, পশতু ও পাঞ্জাবী ভাষাভাষী জনগণ। কিন্তু সেখানে যেখানে পাকিস্তানের মোট জনসংখ্যার শতকরা প্রায় ৫৬ ভাগ রয়েছে তারা সকলেই বাংলা ভাষাভাষী। তাই এসব কারণের পরিপ্রেক্ষিতে আমি বুঝতে পারি না বিতর্কটা কেন? তাঁরা এর অবসান ঘটান না কেন? তাঁরা বিষয়টিকে নিয়ে এত প্যাঁচানোর চেষ্টা করছেন কেন? তাদের কাজই হলো সবকিছুকে পেঁচিয়ে ধোঁয়াটে করে তোলা এবং জনগণকে ধোঁকা দেয়া। সব ব্যাপারেই তাদের রয়েছে দুরভিসন্ধি এবং সব কিছুতেই তাঁরা প্যাঁচ মারার চেষ্টা করেন যা তাঁরা বিগত এই আট বছর ধরে করে আসছেন এবং আমার গরিব দেশকে ধোঁকা দিয়ে আসছেন। মহোদয়, এই ছিল আমার বক্তব্য বিষয়। আমার সংশোধনী প্রস্তাবটি তাই তাঁরা অবিলম্বে গ্রহণ করছেন না কেন?

মাননীয় ডেপুটি স্পিকার : যে- ধারার অস্তিত্বই থাকছে না সেই ধারার সংশোধনী প্রস্তাব গ্রহণ?

শেখ মুজিবুর রহমান : মহোদয়, আপনি কিভাবে ও কথা বলতে পারেন? এর অস্তিত্ব এখনো পর্যন্ত বর্তমান। এই ধারাটি বাদ দেয়া যেতে পারে এবং এটির জন্য আমাদের সংশোধনীটি গ্রহণ করা যেতে পারে, অথবা তাঁরা আমাদের সঙ্গে আলোচনা করে ও পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে অপর একটি ধারা আনতে পারেন। এটা ওইভাবে করা যাবে না। আগামীকাল তাঁরা আরেকটি ধারা আনতে পারেন। তাই এটাই উত্তম হবে তাঁরা এখানে আমার সংশোধনী প্রস্তাবটি উপস্থাপন করুন। তাঁরা যদি গণতন্ত্রে বিশ্বাসী হন এবং তারা যদি আন্তরিক হন তাহলে তারা এটা গ্রহণ করতে পারেন। তাঁরা গ্রহণ না করে পারবেন না। জনগণের এই দাবিকে তারা গ্রহণ করতে বাধ্য এবং এখন তাঁরা তাঁদের পিঠ বাঁচানোর জন্য বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দিতে যাচ্ছেন। তাঁরা এটা করতে বাধ্য কারণ এর পেছনে রয়েছে জনগণের শক্তি। যদি তাঁরা তা না করেন তাহলে আল্লাহই জানেন তাঁদের পরিণতি কী হবে এবং এমন একটা সময় আসছে যখন তাঁদের জনগণের প্রতিটি দাবি-দাওয়া মেনে নিতে হবে। এটি জনগণের দাবি, আবাল-বৃদ্ধ-বনিতার দাবি এবং পূর্ব পাকিস্তানের প্রতিটি মানুষ এই সংশোধনী চায় যে আজ থেকে এবং ভবিষ্যতে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা ও উর্দু হবে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের এমন দৃঢ়চেতা মনোভাব প্রমাণ করে যে তিনি একটি ভাষাভিত্তিক জাতিরাষ্ট্র নির্মাণের জন্য একটি প্রলম্বিত অথচ সর্বব্যাপী লড়াই করে যাচ্ছিলেন। যে ফসল আমরা একাত্তরে ঘরে তুলেছি তা একটি দীর্গ লড়াইয়ের ফসল এবং বঙ্গবন্ধুর একক নেতৃত্বে¡ এই ফসল বোনা হয়েছিল এসব ভাষণ থেকে সেটাই সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত।

উল্লেখ্য, পাকিস্তান গণপরিষদে শেখ মুজিব বাংলায় ভাষণ দিলেও কার্যবিবরণীতে তা ইংরেজীতে রেকর্ড করা হয়।

(বর্তমান ধারাবাহিক নিবন্ধটির শেষ পর্ব এটি। ভাষা রাষ্ট্রের পিতার অন্য বিষয়াদি আগামীতে আলোচিত হবে)

শীর্ষ সংবাদ:
অর্থনীতি দ্রুত পুনরুদ্ধারই চ্যালেঞ্জ ॥ করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় লকডাউন নয়         সরকারের সর্বাত্মক প্রচেষ্টায় সঙ্কট কাটল সৌদি প্রবাসীদের         একক নিয়ন্ত্রণের কোন কমিটি অনুমোদন নয়         দ্বিচারিতা আর ষড়যন্ত্রই বিএনপির রাজনৈতিক দর্শন ॥ কাদের         কক্সবাজারে পুলিশের ২৬৪ কর্মকর্তা একযোগে বদলি         মিয়ানমার থেকে বছরে আসছে ৬ হাজার কোটি টাকার ইয়াবা         ড. কামাল হোসেনের গণফোরাম ভাঙছে         করোনায় দেশে মৃত্যু ও আক্রান্ত কমেছে         ডিজিটাল সুরক্ষা তৈরিতে সরকারের নানা উদ্যোগ         ধর্ষিত স্কুলছাত্রীর জীবিত ফিরে আসা ॥ বিচারিক তদন্তের নির্দেশ         রোহিঙ্গাদের ভোটার হওয়া ঠেকাতে নজরদারি বেড়েছে         নিবন্ধন ছাড়া বেসরকারী হাসপাতাল চলতে দেয়া হবে না ॥ তাপস         রোহিঙ্গাদের ৫৪০ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ দেয়া উচিত         মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের পর ১৫ দিনের মধ্যেই শুরু হবে এইচএসসি পরীক্ষা         প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পদোন্নতির দ্বার খুলছে         সিনেমা হল সংস্কারে বিশেষ তহবিল গঠন করা হবে : তথ্যমন্ত্রী         বসুন্ধরা কোভিড হাসপাতালে চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ         আরও ২টি বিশেষ ফ্লাইটের ঘোষণা দিল বিমান         কক্সবাজারের ৩৪ পুলিশ পরিদর্শককে একযোগে বদলি         রোহিঙ্গাদের ভোটার হওয়া ঠেকাতে ইসি’র বিশেষ কমিটি