ঢাকা, বাংলাদেশ   মঙ্গলবার ০৪ অক্টোবর ২০২২, ১৯ আশ্বিন ১৪২৯

ঈদে অর্থনীতি চাঙ্গা

প্রকাশিত: ০৯:৩৭, ৩১ মে ২০১৯

ঈদে অর্থনীতি চাঙ্গা

রহিম শেখ ॥ ক’দিন বাদেই ঈদ। ধনী-গরিব সবাই ছুটছেন ঈদের কেনাকাটায়। নগরীর ফুটপাথ থেকে শুরু করে মার্কেট, বিপণিবিতান শপিংমলে ক্রেতার উপচেপড়া ভিড়। শুধু নগরী নয়, রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের বিভাগীয়-জেলা-উপজেলা এমনকি গ্রামগঞ্জের হাটবাজারে কেনাকাটা করছেন সাধারণ মানুষ। এই কেনাকাটায় শুধু বস্ত্র কিংবা জুতা নয়, ভোগ্যপণ্য, ইলেক্ট্রনিক পণ্য, ভ্রমণ, পবিত্র ওমরা পালন, ফার্নিচার, গাড়ি ও আবাসন খাতসহ প্রতিটি সেক্টরে নগদ টাকার লেনদেন হচ্ছে। এর বাইরে সমাজের বিত্তবানদের যাকাত, ফিতরা দেয়ায় ধনী -গরিব সবার হাতে থাকে টাকার প্রবাহ। ফলে চাঙ্গা হয়ে উঠছে দেশের গোটা অর্থনীতি। মুসলমানদের সবচেয়ে বড় এই ধর্মীয় উৎসবকে ঘিরে খাদ্যপণ্য, পোশাক, বিনোদন ও পরিবহন খাতে বিপুল পরিমাণের অর্থ ব্যয় হচ্ছে। তেমন যোগানও এসেছে বেতন-বোনাস থেকে। ইতোমধ্যে ব্যাংকিং খাতে লেনদেনও বেড়েছে ব্যাপক হারে। রেকর্ড গতিতে দেশের অর্থনীতিতে জমা হচ্ছে প্রবাসীদের রেমিটেন্স। চলতি মাসের ২৫ দিনে ১৩৫ কোটি ডলার পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। ঈদের কেনাকাটায় এটিএম বুথে প্রতিদিন ২০ কোটি টাকার বেশি উত্তোলন করছেন গ্রাহকরা। মোবাইলে দৈনিক লেনদেন হচ্ছে ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, চিরায়ত এ উৎসবকে ঘিরে বিভিন্ন খাতে বিপুল অঙ্কের অর্থ ঘন ঘন হাতবদল হওয়ায় অর্থনৈতিক কর্মকা- যেমন বাড়বে তেমনি চাঙ্গা হয়ে উঠবে গোটা অর্থনীতি। আজ ২৪ রমজান। ক’দিন বাদেই পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর। দেশের প্রত্যেকটি জেলা, উপজেলা ও বিভাগীয় শহরে এখন জমজমাট ঈদের বাজার। ইতোমধ্যে গোটা রাজধানী রূপ নিয়েছে ঈদ মার্কেটে। কেনাকাটা চলছে গভীর রাত পর্যন্ত। যারা বাড়ি ফেরার পথে তাদের সবাই ঈদ কেনাকাটা প্রায় শেষ করেছেন। যারা ঢাকায় আছেন তারাও ছুটছেন শপিংমলে। কেনাকাটা করতে আসা মানুষের ভিড় মার্কেট ছাড়িয়ে রাজপথে এসে ঠেকেছে। ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যমতে, ঈদ বাজার ঘিরে ইতোমধ্যে কয়েক হাজার কোটি টাকা লেনদেন ছাড়িয়ে গেছে। এ প্রসঙ্গে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ সিপিডির অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক ড. গোলাম মোয়াজ্জেম জনকণ্ঠকে বলেন, ঈদ অর্থনীতির প্রবাহ ছড়িয়ে পড়ছে শহর থেকে গ্রামে। এটা খুবই ইতিবাচক দিক। ঈদ সামনে রেখে ক্রেতার খরচ বাড়ছে। আর ক্রেতার খরচ বাড়লে তার প্রভাব অর্থনীতির ওপর এসে পড়বে, যা ঈদ মার্কেট ঘিরে হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. নাজনীন আহমেদ বলেন, ঈদে সবচেয়ে বেশি টাকার প্রবাহ বাড়ে, তাতে কোন সন্দেহ নেই। এ টাকার ব্যবহার পোশাক, ভোগ্যপণ্য, শৌখিনতা ও ভ্রমণসহ বিনোদনমুখী খাতেই বেশি হচ্ছে। কাজেই এটা একটা বড় ভূমিকা রাখে অর্থনীতিতে। তিনি আরও বলেন, এ ধরনের উৎসব অর্থনীতির আকার, ধরন ও ব্যাপ্তি আগের চেয়ে বেড়ে গেছে। মানুষ এ উৎসবকে ঘিরে প্রচুর পরিমাণ অর্থ খরচ করে। এতে উৎপাদনকারী, আমদানিকারক, ব্যবসায়ী প্রত্যেকে কিছু না কিছু লাভবান হচ্ছেন। সামগ্রিকভাবে অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে। জানা গেছে, ইতোমধ্যে বেতন-বোনাসের পুরো অর্থ যোগ হচ্ছে অর্থনীতিতে। সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীর পাশাপাশি বেসরকারী অফিস, প্রতিষ্ঠানগুলোও নিজস্ব কাঠামোতে বোনাস দিচ্ছে। এ ছাড়া পোশাক ও বস্ত্র খাতের প্রায় ৭০ লাখ কর্মীর বোনাসও যোগ হচ্ছে। যার পুরোটাই যোগ হচ্ছে ঈদ-অর্থনীতিতে। ঈদ উৎসব অর্থনীতিতে সারা দেশের দোকান কর্মচারীদের বোনাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির হিসাবে দেশে ২০ লাখ দোকান, শপিংমল, বিপণিবিতান রয়েছে। গড়ে একটি দোকানে ৩ জন করে হলেও ৬০ লাখ কর্মচারী ও কর্মকর্তা কাজ করছে। বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির তথ্য মতে, নিম্নে একজন কর্মীকে ৫ হাজার টাকা ও উর্ধে ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বোনাস দেয়া হয়। গড়ে বোনাস ৮ হাজার টাকা হিসাবে এ ক্ষেত্রে ৪ হাজার ৮শ’ কোটি টাকা বোনাস পাচ্ছেন এ খাতের শ্রমিকরা। যা পুরোটাই ঈদ উৎসব অর্থনীতিতে যোগ হচ্ছে। ইতোমধ্যে কিছু ভাল প্রতিষ্ঠান গার্মেন্টস শ্রমিকদের ঈদ বোনাস দিয়ে দিয়েছে। জানা গেছে, ঈদের অর্থনীতি চাঙ্গা করেছে নগদ অর্থের প্রবাহ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ঈদের বাজারে প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা লেনদেন হয় বলে অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী নেতারা মনে করেন। দারিদ্র্য হ্রাস, মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের ফলে ঈদকেন্দ্রিক লেনদেন প্রতিবছর বাড়ছে। এটিএম বুথ, ব্যাংকের শাখার মাধ্যমে প্রচুর নগদ টাকার লেনদেন হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকও ঈদকেন্দ্রিক ৩০ হাজার কোটি টাকার নতুন নোট ছেড়ে টাকার পরিমাণ বাড়িয়েছে। ঈদকেন্দ্রিক কেনাকাটায় এটিএম বুথ থেকে টাকা উত্তোলন দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইস অব বাংলাদেশে (এনপিএসবি) বর্তমানে ৪২টি ব্যাংকের গ্রাহকরা অন্যের বুথ থেকে এটিএম কার্ড দিয়ে টাকা উত্তোলন করতে পারছেন। প্রতিদিন গ্রাহকরা গড়ে ১৫ কোটি টাকার বেশি উত্তোলন করছেন, যা গত এপ্রিল মাসের গড় লেনদেনের তুলনায় দ্বিগুণ। ঈদ উপলক্ষে বেড়েছে মোবাইল ব্যাংকিং লেনদেন। প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হচ্ছে ১ হাজার ১০০ কোটি টাকার বেশি। এদিকে প্রতিবছরের মতো ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে প্রতিবারের মতো এবারও ১৮ হাজার কোটি টাকার নতুন নোট বাজারে ছেড়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ঈদ উপলক্ষে চাঙ্গা হয়ে উঠেছে ব্যাংক খাতও। এ উপলক্ষে দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে অন্য সময়ের চেয়ে প্রায় ১০গুণ বেশি লেনদেন হয়। চলতি মাসের ২৫ দিনেই ১৩৫ কোটি ডলার দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশীরা। কিন্তু অন্যান্য সময় পুরো মাস শেষে ১৩০ কোটি ডলারের মধ্যেই থাকতে দেখা যায় এই প্রবাহ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি মে মাসের ২৫ দিনে ১৩৫ কোটি ডলার রেমিটেন্স এসেছে। ১৩৫ কোটি ডলার যোগ করলে চলতি অর্থবছরে মোট রেমিটেন্সের পরিমাণ দাঁড়ায় এক হাজার ৪৬৫ কোটি ৩৬ লাখ ডলার। অর্থবছরের বাকি প্রায় ১ মাস, এই সময়ে দেড় বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিটেন্স আসবে। সে হিসাবেই প্রত্যাশা করা হচ্ছে এবার রেমিটেন্স ১৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি হবে। গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এক হাজার ৪৯৮ কোটি ১৭ লাখ (১৪ দশমিক ৯৮ বিলিয়ন) ডলার রেমিটেন্স পাঠিয়েছিলেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানকারী প্রবাসীরা। যা ছিল ২০১৬-১৭ অর্থবছরের চেয়ে ১৭ দশমিক ৩২ শতাংশ বেশি। তারই ধারাবাহিকতায় চলতি অর্থবছরেও রেমিটেন্স বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রয়েছে। রেমিটেন্স বাড়ায় বাংলাদেশ ব্যাংকের বিদেশী মুদ্রার সঞ্চায়নও (রিজার্ভ) সন্তোষজনক অবস্থায় রয়েছে। গত মঙ্গলবার দিন শেষে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩১ দশমিক ২৩ বিলিয়ন ডলার। গত ৭ মে এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) মার্চ-এপ্রিল মেয়াদের ১২৪ কোটি ১০ লাখ ডলার আমদানি বিল পরিশোধের পরও রিজার্ভ ৩১ বিলিয়ন ডলারের ওপর অবস্থান করছে মূলত রেমিটেন্স বৃদ্ধির কারণে। বর্তমানে এক কোটির বেশি বাংলাদেশী বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছেন। তাদের পাঠানো অর্থ বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। বাংলাদেশের জিডিপিতে রেমিটেন্সের অবদান ১২ শতাংশের মতো। ঈদে চাঙ্গা অর্থনীতি সম্পর্কে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. মির্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, ঈদের সময় দেশে রেমিটেন্স প্রবাহ বাড়ে। শহর থেকে গ্রামমুখী হয় টাকার প্রবাহ। এতে গ্রামীণ অর্থনীতিও চাঙ্গা হয়ে ওঠে। এর মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্যে যে স্থবিরতা ছিল, সেটা অনেকটা কেটে যাবে। এই অর্থনীতিবিদ মনে করেন, এর ইতিবাচক দিক হলো, এ সময় বণ্টন ব্যবস্থায় একটি পরিবর্তন হয়। এতে অধিকাংশ মানুষের কাছেই টাকা পৌঁছে যায়। ঈদে আর্থিক ব্যয়ের কোন সঠিক চিত্র পাওয়া না গেলেও ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইর অনুমানের ভিত্তিতে করা এক তথ্যে জানা গেছে, এবার ঈদ-বাণিজ্যে ৬০ শতাংশ পোশাক, ২০ শতাংশ খাদ্যদ্রব্য এবং বাকি ২০ শতাংশ অন্য পণ্য বিক্রি হবে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। তথ্যে আরও জানা যায়, ঈদ উৎসবে পোশাকসহ সব পরিধেয় খাতে ৪০ থেকে ৫০ হাজার কোটি টাকা, জুতা-কসমেটিক্সে তিন হাজার কোটি, যাকাত-ফিতরা ও দান-খয়রাতে ৩৮ হাজার কোটি, যাতায়াত বা যোগাযোগ খাতে ১০ হাজার কোটি, ভোগ্যপণ্যে ৭ হাজার কোটি, সোনা-ডায়মন্ডে ৫ হাজার কোটি, ইলেক্ট্রনিক্স পণ্যে ৪ হাজার কোটি, ভ্রমণে সাড়ে ৫ হাজার কোটি, স্থায়ী সম্পদ ক্রয় ১ হাজার কোটি, পবিত্র ওমরা পালন ৩ হাজার কোটি ও আইনশৃঙ্খলাসহ অন্য খাতে লেনদেন হয় ১ হাজার কোটি টাকা। এ ছাড়া ফার্নিচার, গাড়ি ও আবাসন শিল্পে বড় ধরনের কেনাকাটা হয়ে থাকে। বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন বলেন, ঈদের সময় যত ঘনিয়ে আসবে বিকিকিনি তত বাড়বে। আমাদের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হওয়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। দোকান মালিক সমিতির তথ্যমতে, দেশব্যাপী ২২ লাখ দোকান আছে, যার মালিকরা বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সদস্য। তাদের দৈনিক মোট এক হাজার কোটি টাকার পণ্য বিক্রি হয়। আর ঈদের আগে বিক্রি প্রায় পাঁচ গুণ বেড়ে যায়। তাতে সাড়া দেশে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকার দৈনিক বিকিকিনি হয়। এ ছাড়া টেলারিং এবং অনলাইনেও প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার কেনাবেচা হবে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। বাংলাদেশ ই-কমার্স এ্যাসোসিয়েশনের তথ্যমতে, বর্তমানে এর সদস্য সংখ্যা রয়েছে ৯৫০। এর বাইরেও অনেক ই-কমার্স সাইট রয়েছে। এ ছাড়াও ফেসবুক পেজ রয়েছে প্রায় ৫০ হাজার। এসব সাইটের মাধ্যমে বিভিন্ন পণ্যের মার্কেটিং নিয়ে এবারের ঈদ বাজার বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বাংলাদেশ ই-কমার্স এ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি আবদুল ওয়াহেদ তমাল জানান, এবারের ঈদ উপলক্ষে অনলাইনভিত্তিক বাজার বেশ চাঙ্গা। ঈদকেন্দ্রিক এই ই-কমার্স রাজধানী ছাড়িয়ে জেলা পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়েছে। ই-কমার্সে বার্ষিক লেনদেনের আর্থিক আকার শত কোটি টাকা ছাড়িয়ে হাজার কোটি টাকায় রূপ নিয়েছে। আগামী ৩ বা ৪ বছরের মধ্যে এ আকার ১০ হাজার কেটি টাকায় পরিণত হবে । এছাড়া ঈদকে কেন্দ্র করে মানুষের সব ধরনের অর্থনৈতিক কর্মকা- বেগবান হচ্ছে, আর পর্যটন শিল্প তারই অংশ। পরিসংখ্যান অনুসারে, প্রতি ঈদে প্রায় দুই থেকে তিন লাখ পর্যটক ভ্রমণ করে কক্সবাজার। অন্যদিকে, সারাবছর কক্সবাজার ভ্রমণে আসে মোট ১৫ থেকে ২০ লাখ পর্যটক। এই সময় সব হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট পর্যটকে থাকে পরিপূর্ণ। পার্বত্য তিন জেলা বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটির সবুজঘেরা পাহাড়ের অপরূপ সৌন্দর্য দেখতে ঢল নামে মানুষের। সিলেটের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ধর্মীয় স্থাপনা এবং সবুজ চা বাগান পর্যটকদের বারবার আকর্ষণ করে। তা ছাড়া কুয়াকাটা, খুলনা এবং কুমিল্লাসহ দেশের অন্যান্য জেলার দর্শনীয় স্থানে ঈদে পর্যটকের উপস্থিতি অনেক বেড়ে যায়। ঢাকার আশপাশে বিশেষ করে গাজীপুরে ব্যাপকহারে রিসোর্ট গড়ে উঠেছে। ঈদকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন পার্ক ও এ্যামিউজমেন্ট পার্কে পর্যটকের উপস্থিতি কয়েকগুণ বেড়ে যায়।