ঢাকা, বাংলাদেশ   শনিবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২, ৯ আশ্বিন ১৪২৯

মনীষার লক্ষ্য এভারেস্টের বেস ক্যাম্প

প্রকাশিত: ১৩:০২, ৩১ জানুয়ারি ২০১৯

মনীষার লক্ষ্য এভারেস্টের বেস ক্যাম্প

নির্মাতা সুভাষ ঘাইয়ের হাত ধরে বলিউডে অভিষেক ঘটে নেপালী অভিনেত্রী মনীষা কৈরালার। ১৯৯১ সালে এ পরিচালকের ‘সওদাগর’ ছবির মাধ্যমে বলিউডে আসেন মনীষা। এসেই জায়গা করে নেন দর্শক হৃদয়ে। বম্বে, ‘আকেলে হাম আকেলে তুম’, ‘অগ্নিসাক্ষী’, ‘দিলসে’, ‘সানাম’সহ অসংখ্য দর্শক প্রিয় ছবির কল্যাণে বলিউডের শীর্ষ স্থানে চলে আসেন নেপালী অভিনেত্রী মনীষা কৈরালা। ভক্তদের পাগলামি, বাড়ির সামনে প্রযোজক ও ফটোসাংবাদিকদের লাইন- এক সময় এসবই ছিল তার জীবনের নিয়মিত ঘটনা। কিন্তু হঠাৎ করেই ঘটে ছন্দপতন। ২০১২ সালে কয়েক মাসের ব্যবধানে মনীষার পৃথিবী একেবারে ওলট-পালট হয়ে যায়। একের পর এক ফ্লপ ছবি, বিবাহ বিচ্ছেদ, নতুন ছবির প্রস্তাবনা পাওয়া সবকিছু মিলিয়ে মনীষার দিনগুলো বিষণ্ণতায় ভরে যায়। কিন্তু এরপর নেপাল বংশোদ্ভূত বলিউড অভিনেত্রীর জীবনে যে ভয়াবহ মোড় আসে, তার সামনে সব বিষণ্ণতাই তুচ্ছ হয়ে ওঠে। ২০১২ সালের নবেম্বরে মনীষা জানতে পারেন, ক্যান্সার বাসা বেঁধেছে তার শরীরে। এরপর তাঁর জীবনটাই যেন সেই একটা রোগে স্থবির হয়ে যায়। ক্যান্সারের কবলে পড়ে ছিটকে পড়েন বলিউডের রূপালি জগত থেকে। একদিনের ব্যবধানেই ব্যস্ততম অভিনেত্রী থেকে হয়ে পড়েন মৃত্যু পথযাত্রী রোগী। সে সময় অনেক তারকা কেই পাশে পেয়েছেন, আবার মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন অনেকেই। এর পর শুরু হয় ক্যান্সারের সঙ্গে মনীষার লড়াই। লড়াকু মনীষা শেষমেশ জিতে যান। হেরে যায় ক্যান্সার। জয়ী মনীষা এখন এক নতুন সত্তা নিয়ে পৃথিবীকে দেখছেন ভিন্ন চোখে। সম্প্রতি তার লেখা ‘হিল্ড: হাউ ক্যান্সার গেভ মি আনিউলাইফ’ বইতে মনীষা তার ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াইয়ের বর্ণনাও করেছেন। গত সপ্তাহে জয়পুর লিটারারি ফেস্টিভ্যালে মনীষা কৈরালা তুলে ধরেন ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াইয়ের বর্ণনা ‘কাঠমান্ডু থেকে মুম্বাই। ফ্লাইটে ঘণ্টা দুই লাগে। মুম্বাই আসার ফ্লাইটে বার বার নিজেকে প্রবোধ দিচ্ছিলাম যে হতেও তো পারে ভুল ডায়াগনোসিস হয়েছে। হতেও তো পারে যে, আমার ক্যান্সার হয়নি।’ এক সময় তাঁর লাইফ স্টাইল খানিকটা এলোমেলো হয়ে গিয়েছিল। ক্যান্সারের প্রকোপে যখন হঠাৎ করে ওয়েট গেন করেন, পেটে ও কোমরে মেদ জমে, ভেবেছিলেন এসব হয়ত বা বয়সের লক্ষণ, আর অনিয়মিত লাইফ স্টাইলের পরিণাম। তা ছাড়া, পানাসক্তিও ছিল ভীষণ। ‘একটা সময় আমি সব উপলক্ষেই মদ খেতাম। সেলিব্রেশনে মদ, আবার ডিপ্রেশনেও মদ। কিন্তু ক্যান্সার ধরা পড়ার পর যখন আরেক বার জীবন শুরু করার আন্তরিক জেদ ভেতর থেকে উঠে এল, তখন আর দোটানায় ভুগিনি। সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, আর মদ নয়। নিজের ভালর জন্যই নয়।’ সব মন্দেরই কিছু না কিছু প্রাপ্তির দিক আছে। সেটা মনীষাও মানেন। ক্যান্সার তাঁকে আত্মোপলব্ধিতে নিবিড় করছে। চারপাশকে তলিয়ে দেখতে আগ্রহী করেছে। আগে কখনও ডায়েরি লেখার অভ্যাস ছিল না। চিকিৎসার প্রয়োজনে আমেরিকা যাওয়ার পর আস্তে আস্তে ডায়েরি লেখার অভ্যাস করেন। রোজ লিখে রাখতেন নানা তুচ্ছ, অকিঞ্চিৎ ঘটনার উল্লেখ। বেঁচে থাকার মধ্যেও যে এত মাধুর্য আছে, তা হয়ত উপলব্ধিই করতে পারতেন না জীবন ও মৃত্যুর এমন টানাপোড়েনে না পড়লে। ক্যামেরার সামনে আজও ততটাই স্বচ্ছন্দ বোধ করেন, যতটা আগে করতেন। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মনীষা জানালেন, বেশ কয়েকটি ছবির অফার পেয়েছেন, চিত্রনাট্যও। সঞ্জয় দত্তর সঙ্গে ‘প্রস্থানম’ এ বছরই রিলিজ করবে। তবে অভিনয়ের ছাড়া আর ও একটি মাইল স্টোন স্পর্শ করতে চান। সেটা হলো- ট্রেক করে এভারেস্ট বেস ক্যাম্পে যাওয়া।