ঢাকা, বাংলাদেশ   শনিবার ২০ আগস্ট ২০২২, ৫ ভাদ্র ১৪২৯

পরীক্ষামূলক

খণ্ডিত ইতিহাস কোন জাতিকে সঠিক দিক নির্দেশনা দিতে পারে না ॥ রাষ্ট্রপতি

প্রকাশিত: ০৭:৪৯, ২০ মার্চ ২০১৮

খণ্ডিত ইতিহাস কোন জাতিকে সঠিক দিক নির্দেশনা দিতে পারে না ॥ রাষ্ট্রপতি

স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর ॥ রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ বলেছেন, খণ্ডিত ইতিহাস কোন জাতিকে সঠিক দিক নির্দেশনা দিতে পারে না। মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে একাত্তরের ২৬ মার্চ পর্যন্ত অর্থাৎ বঙ্গবন্ধু কর্তৃক স্বাধীনতার চূড়ান্ত ঘোষণা দেয়া পর্যন্ত প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামই ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই মুক্তিযুদ্ধে কার কী অবদান তা আমাদের পরিপূর্ণভাবে জানতে হবে। আর এজন্য মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে এবং গণতান্ত্রিক চিন্তাচেতনার বিকাশ ঘটাতে হবে। নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গড়ে তোলা আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য। রাষ্ট্রপতি বলেন, বিগত দিনে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি আমাদের মুক্তিসংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে অনেক মিথ্যাচার করেছে। মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী প্রজন্মকে মুক্তিসংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের বিকৃত ইতিহাস শিক্ষা দেয়ার অপচেষ্টা হয়েছে। যারা ইতিহাস বিকৃত করেছে তারা সবকিছু জেনেশুনেই করেছে। তারা বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে ভয় পায় বলেই এসব করেছে এবং করছে। মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি এখনও একাত্তরে তাদের পরাজয়ের গ্লানি ভুলতে পারেনি। তাই এসব অপশক্তি সুযোগ পেলেই মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে চায়। এরা দেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও উন্নয়নের শত্রু। তাই দেশ ও জাতির স্বার্থে তাদের যে কোন ষড়যন্ত্র ও অপচেষ্টা রুখে দাঁড়াতে হবে। রাষ্ট্রপতি সোমবার বিকেলে শহীদ বরকত স্টেডিয়ামে ১৯৭১ সালের ১৯ মার্চ গাজীপুরে প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী বীর ও শহীদদের স্মরণে নাগরিক গণসংবর্ধনা এবং আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেয়াকালে এসব কথা বলেন। ১৯ মার্চ স্বাধীনতার প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ দিবস উদযাপন কমিটি ওই অনুষ্ঠান সঞ্চালন করেন কমিটির সদস্য সচিব এবং জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন সবুজ। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, গাজীপুর-২ আসনের এমপি জাহিদ আহসান রাসেল, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ আখতারুজ্জামান, ডিসি ও উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ূন কবীর, এসপি হারুন অর রশীদ, মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি আজমত উল্লাহ খান ও সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম। রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ বলেন, আমরা এখন স্বাধীন দেশের গর্বিত নাগরিক। ১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে যে দেশটির জন্ম সে দেশ আজ সগৌরবে উন্নতি ও অগ্রগতির পথে এগিয়ে যাচ্ছে। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর মতো বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ মহাকাশে উৎক্ষেপণের অপেক্ষায়। বাংলাদেশ স্বল্পন্নোত দেশের তালিকা থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে শামিল হয়েছে। নারীর ক্ষমতায়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, জেন্ডার সমতাকরণ, শিশু ও মাতৃমৃত্যু হার হ্রাসকরণসহ বহু বিষয়ে বাংলাদেশ এখন বিশ্বব্যাপী রোল মডেল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দেশের উন্নয়নের এ ধারা অব্যাহত থাকলে ২০৪১ সালে বাংলাদেশ অবশ্যই উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশের কাতারে শামিল হতে সক্ষম হবে। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের প্রাক্কালে ১৯ মার্চ পাক-হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধের মাধ্যমে গাজীপুরবাসী যে বীরত্ব ও সাহস দেখিয়েছিলেন তা আমাদের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। ঐতিহাসিক ১৯ মার্চ আমাদের মুক্তিসংগ্রামের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইল ফলক। রাষ্ট্রপতি বলেন, ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু তার ভাষণে দেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের রূপরেখা পরিষ্কারভাবে তুলে ধরেন। এমনকি তার অবর্তমানে ভবিষ্যত করণীয় সম্পর্কেও তিনি পরিষ্কার দিক নির্দেশনা দিয়ে গেছেন। তাই তো ৭ মার্চের ভাষণ হচ্ছে বাঙালীর মুক্তি সনদ। বিশ্বের শোষিত, বঞ্চিত ও নিপীড়িত মানুষের মুক্তির অনুপ্রেরণার উৎস। এর আগে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ হেলিকপ্টারযোগে দুদিনের সফরে গাজীপুরে আসেন। পরে তিনি অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছলে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আকম মোজাম্মেল হক, জাহিদ আহসান রাসেল এমপি, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ আখতারুজ্জামানসহ দলীয় নেতা ও প্রশাসনের কর্মকর্তাগণ তাকে অভ্যর্থনা জানান। এ সময় রাষ্ট্রপতিকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আকম মোজাম্মেল হক উত্তরীয় ও ক্রেস্ট প্রদান করেন। রাষ্ট্রপতিও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীকে উত্তরীয় পরিয়ে দেন। ভাষণের আগে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক এক প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক নৃত্য ও কোরাস পরিবেশন করা হয়। বক্তব্য শেষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়। সফরকালে রাষ্ট্রপতি কারা সপ্তাহ ২০১৮-এর উদ্বোধন উপলক্ষে আজ দুপুরে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার প্রাঙ্গণে আয়োজিত কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও সশস্ত্র সালাম গ্রহণ ও সেরা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে পুরস্কার প্রদান করবেন। একইদিন বিকেল তিনটায় তিনি গাজীপুরে ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সমাবর্তন অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। এ সময় তিনি গ্র্যাজুয়েটদের ডিগ্রী প্রদান ও তাদের মাঝে সনদ প্রদান করবেন। তিনি বিভিন্ন বিভাগের ৩৫ কৃতী গ্র্যাজুয়েটকে স্বর্ণ পদক বিতরণ করবেন এবং অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখবেন।