ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ০১ ডিসেম্বর ২০২২, ১৭ অগ্রাহায়ণ ১৪২৯

monarchmart
monarchmart

ইরানে বিক্ষোভ : সংঘর্ষ ভাঙচুর অগ্নিসংযোগ (ভিডিও)

প্রকাশিত: ১৮:১৮, ৩১ ডিসেম্বর ২০১৭

অনলাইন ডেস্ক ॥ ভিডিও ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, ইরানের বেশ কিছু শহরে সরকারবিরোধী যে বিক্ষোভ হচ্ছে, তা সহিংতায় রূপ নিয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধির জেরে জীবনমান পতনের কারণে তিন দিন আগে শুরু হওয়া সরকারবিরোধী এই বিক্ষোভকে ২০০৯ সালে সংস্কারপন্থিদের আন্দোলনের পর ইরানে সবচেয়ে বড় গণ-অসন্তোষ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইরানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ‘অবৈধ জমায়েত’ এড়িয়ে চলার যে নির্দেশ দিয়েছে, তা উপেক্ষা করে বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছে সরকারের প্রতি বিক্ষুব্ধ জনগণ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, পুলিশের গুলিতে আহত দুই বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া দেশজুড়ে বিক্ষোভের যেসব ভিডিও ধারণ করা হয়েছে ও যেসব খবর হাতে এসেছে, সেসবের বরাত দিয়ে বিবিসি অনলাইন জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীরা পুলিশের গাড়িতে আগুন দিয়েছে এবং সরকারি ভবনে হামলা চালিয়েছে। যে কারণে বিক্ষোভ খাদ্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় জীবনমান ঠিক রাখতে হিমশিম খাওয়া জনগণ সরকারের নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে বৃহস্পতিবার মাশহাদ শহরে বিক্ষোভ করে। একদিনের মাথায় এই বিক্ষোভ দেশের আরো কিছু শহরে ছড়িয়ে পড়ে। ইরানি কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করেছে, ইরানের ইসলামি বিপ্লবের বিরোধীরা ও বিদেশি শক্তির দালালরা এই অসন্তোষ ছড়িয়ে দেওয়ার নেপথ্যে কাজ করছে। সার্বিকভাবে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লেও যে বিষয়টি লক্ষ্য করার মতো, তা হলো- কোনো কোনো শহরে কয়েক শত মানুষ আবার দু-একটি বড় শহরে সহস্রাধিক মানুষ বিক্ষোভে অংশ নিয়েছে। কোথাও বৃহৎ পরিসরে বিক্ষোভ দেখা যায়নি। বিক্ষোভের পরিসর বড় না হলেও বিক্ষোভকারীরা ইরানি প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি ও দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়েছে। সাধারণ মানুষের ওপর ধর্মীয় শাসন চাপিয়ে দেওয়ার নীতির প্রতিবাদ করেছে তারা। শুক্রবার বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভকারীরা ধর্মীয় নেতাদের বিরুদ্ধে স্লোগান দেয়। তাদের বলতে শোনা যায়, ‘জনগণ ভিক্ষা করছে, ধর্মীয় নেতারা খোদার মতো আচরণ করছে’। দেশের বাইরে ইরানের হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধেও স্লোগান দিয়েছে বিক্ষোভকারীরা। মাশহাদ শহরে স্লোগান দিতে শোনা যায়, ‘গাজা নয়, লেবানন নয়, আমার জীবন ইরানের জন্য’। এ সময় বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করে, অভ্যন্তরীণ ইস্যুর চেয়ে বহির্বিশ্বের দিকে কর্তৃপক্ষ নজর দিচ্ছে বেশি। এখন কী হচ্ছে? যা কিছু হচ্ছে, তা নিয়ে বিভিন্ন ধরনের তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে, ফলে বিষয়গুলো নিশ্চিত হওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে বলে মনে করছে বিবিসি। ইরানের উত্তরাঞ্চলীয় আবহার শহরের বিক্ষোভের যে ভিডিও ও ছবি পাওয়া গেছে, তাতে দেখা যাচ্ছে, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছবিওয়ালা একটি ব্যানারে আগুন ধরিয়ে দিচ্ছে বিক্ষোভকারীরা। দেশটির মধ্যাঞ্চলের আরাক শহরে সরকারপন্থি বাসিজ মিলিশিয়া বাহিনীর সদর দপ্তরে বিক্ষোভকারীদের অগ্নিসংযোগ করতে দেখা যায়। রাজধানী তেহরানের আজাদ স্কয়ারে কয়েক শত মানুষ জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করে। ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেছেন, তেহরানের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে। তিনি হুঁশিয়ার করেছেন, বিক্ষোভ অব্যাহত রাখলে বিক্ষোভকারীরা কঠোর পরিস্থিতির মুখে পড়বে। এক ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, উত্তর-পূর্বের মাশহাদ শহরে সংঘর্ষের সময় পুলিশের গাড়ি পুড়িয়ে দিচ্ছে বিক্ষোভকারীরা। এ ছাড়া কেউ কেউ অভিযোগ করেছে, তারা ইন্টারনেট সংযোগ পাচ্ছে না। ইরানের পশ্চিমাঞ্চলীয় কেরমানশাহ শহরে মাকান নামে এক বিক্ষোভকারী বিবিসি ফার্সি-কে বলেছেন, ‘বিক্ষোভকারীদের পেটানো হচ্ছে, তবে যারা পেটাচ্ছে তারা পুলিশ না কি বাসিজ মিলিশিয়া, তা বোঝা যাচ্ছে না।’ ইসলামি প্রজাতন্ত্র ও এর প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার দাবি করেন তিনি। প্রতিক্রিয়া মুঠোফোনে বার্তা আদান-প্রদানের জনপ্রিয় অ্যাপ টেলিগ্রাম-এর প্রধান নির্বাহী জানিয়েছে, ইরানের যোগাযোগমন্ত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে এক ইরানির অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পুলিশের ওপর হামলা চালানোর ডাক দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানি নেতাদের হুঁশিয়ার করে বলেছেন, ‘অত্যাচারীদের শাসন চিরদিন থাকে না এবং একদিন আসবে, যেদিন ইরানের জনগণ তাদের পছন্দের লোককে বেছে নেবে। বিশ্ব সব দেখছে।’ ট্রাম্প ও যুক্তরাষ্ট্রের অন্য কর্মকর্তাদের প্রতিক্রিয়ার তাৎক্ষণিক জবাব দিয়ে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, তারা ‘সুযোগসন্ধানী ও ভণ্ডামীতে পূর্ণ।’ মধ্যপ্রাচ্যে অনারব ইরান ইহুদিবাদী ইসরায়েল ও সৌদি আরবের জন্য সব দিক থেকে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী। সিরিয়া গৃহযুদ্ধ, লেবানন সরকার, জঙ্গি নির্মূল অভিযান, কাতার সংকট, ইয়েমেন গৃহযুদ্ধ নিয়ে সৌদি আরব ও ইরান পরস্পরবিরোধী অবস্থানে রয়েছে। সৌদি আরব ও ইসরায়েলের সুরে কথা বলা যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের বিরুদ্ধে নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে রেখেছে। এমন অবস্থায় ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা বিদেশি শক্তির কূটনীতির ঘুঁটি হয়ে উঠতে পারে।
monarchmart
monarchmart