ঢাকা, বাংলাদেশ   মঙ্গলবার ০৪ অক্টোবর ২০২২, ১৯ আশ্বিন ১৪২৯

তরুণ লেখকদের সাহিত্য ভাবনা ॥ চর্যাপদ’র ভূমি ॥ কবিতা মানে বাউল রাতের বাঁশি...

প্রকাশিত: ০৬:১৭, ২৪ নভেম্বর ২০১৭

তরুণ লেখকদের সাহিত্য ভাবনা ॥  চর্যাপদ’র ভূমি ॥ কবিতা মানে বাউল রাতের বাঁশি...

সুমন রায়হান কবিতা রাতের পুতুল, দিনে মায়াবী আলো তুমুল উল্লাসে খেলে রংধনু মন। কষ্টের কোজাগরী আকাশ, বিবর্ণ ধূসর। বেদনার রং উজ্জ্বল করে দিয়ে যাওয়া সন্ধ্যাতারা, পথহারা পাখিদের স্বদলবলে নীড়ে ফিরে আসা; কবিতা অন্ধকারে আলোর প্রদীপ, জ্বলতে জ্বলতে দাউ করে জ্বলে ওঠা আগ্নেয়গিরি। হিজল-তমালের ছায়ায় বিশ্রামরত কৃষকের স্বপ্নের শষ্যদানার নাম কবিতা। কবিতা মায়ের মলিন মুখে খই ফোটানো হাসি... কবিতা মানে বাউল রাতের বাঁশি... **ভান করে কোন লাভ নেই হিল্লোল কল্লোলিত বুকের বেবুনে নৈঃশব্দের চৈতন্যে আলো আঁধারীর খেলা। ইলিশ ধরার জন্য এখন আর জলে জাল ফেলার কোনো প্রয়োজন নেই। দহন জ¦ালায় জলে পুড়ে ছারখার সোনার সংসার। কর্তব্যের কার্নিশে বসে কবিতারা কখনো করেনি কুর্নিশ! তাইতো, এতো দহন জ¦ালা, তাইতো এখন, শুধুই মরার পালা! সাম্রাজ্যের অগ্নিগোলকে ঘুরছে আধিপত্যের নাটাই। ঘুড়ি উড়ে যায়, দূরে যায়, আবার আসে ফিরে অমানিশার কালো রাত্রিতে যখন পড়ে অদৃশ্য সুতোয় টান। ভান করে কোনো লাভ নেই, তার চেয়ে ভালো কলমটাকে আরো শক্ত করে আঁকড়ে ধরো নইলে মরো! এমনিতেই তো মৃত্যুর কোনো নিশ্চয়তা নেই তারপর আবার, কোন্ সাহসে চাইছো তুমি সাধারণ মৃত্যু? **অস্ত্র থাকে না কোনো আপসে কবির পকেটের কলম বাঁকে না। কবির পকেটে কলম থাকে, অস্ত্র থাকে না। *মৃত্যুর সাথে সহবাস পকেটে কলম আর অক্ষরের আয়ু বুকে নিয়ে নক্ষত্র পুঞ্জিত মেঘের ভেলায় ভেসে গেছ তুমি। কুয়াশামুখর রাত, চোখে নিদ্রাহীনতার ঢেউ... রং মাখানো হৃদয়ে, ঘুনপোকার অদৃশ্য ওড়াউড়ি... পৃথিবী কাঁদে,কাঁদতেই থাকে সে কান্না শুনতে পায় না কেউ! সঙ্গীবিহীন সঙ্গমে, সেতারের মোহনীয় সুর, ধ্বনিত হয়, হিরোশিমায় হারিয়ে যাওয়া সর্বনাশ! এবার, শীতেই হবে মৃত্যুর সাথে সহবাস। **কবিতা বেঁচে থাকে এই তো প্রেম কবিতার প্রতি কবি আর কবিতায় কলম আর কালিতে সাদা কাগজে সঙ্গমের পদধূলি শব্দ যোগান দেয় প্রেম হয়ে কবিতা আর কবি দর্শনে ফুটে থাকে জানালার ওপাশে মাধবী লতা প্রেমের অনবদ্য ফুল হয়ে স্মৃতি আর সৌন্দর্যের কালিমা এঁকে কবিতা বেঁচে থাকে কবিদের অন্তরে। **ক্রমশ যাচ্ছি ধেয়ে শৈশবে আমার মা আমাকে বুকে জড়িয়ে যখন চুমু খেতেন তখন আমার কাছে চুমুর অর্থ ছিল নিরর্থক শৈশব থেকে কৈশোরে এসে চুমু হয়ে গেছে প্রেমের অনবদ্য ফুল। ফুলের পাপড়িতে চুমু খেলে, চুমু হয়ে যায় ফুলের আর আমি মাসুল গুনি ভুলের, চুমুর আয়ুর ক্ষণটি সিক্ত, রিক্ত কিংবা তিক্ত, তার তাৎপর্য এখানে নয় চুমুতে আছে প্রেম, ক্রোধ, হিংসা, বিচ্ছেদের ভয়। ক্ষণটি যতই ছোট হোক আমার কাছে এর অর্থ সমুদ্রের মতো বিশাল চুমুই আমাকে করেছিল উৎসাহিত ধরণীতে আসার প্রবল আস্থা যুগিয়েছিল তাই সময়ের সমষ্টিগত বিচারের দিকে না যেয়ে আমি এর বৈধ ও সৎ ব্যবহারের দিকে ক্রমশ যাচ্ছি ধেয়ে...