ঢাকা, বাংলাদেশ   শনিবার ০৮ অক্টোবর ২০২২, ২২ আশ্বিন ১৪২৯

বরিশালে ফরমালিনমুক্ত মালটার বাম্পার ফলন

প্রকাশিত: ২৩:০২, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৭

বরিশালে ফরমালিনমুক্ত মালটার বাম্পার ফলন

স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল ॥ শখের বসে দুই বছর পূর্বে নিজেদের বসত বাড়ির পাশের দুই একর জমির ওপর মালটা চাষের উদ্যোগ গ্রহন করেছিলেন বরিশাল সদর উপজেলার চরকাউয়া ইউনিয়নের দিনারেরপুল এলাকার বাসিন্দা লিয়াকত হোসেন লিকুর পুত্র মোঃ সাদিক হোসেন। ইতোমধ্যে ব্যাপক সারা পেয়েছেন সাদিক। তার রোপনকৃত মালটা গাছে চলতি বছর বাম্পার ফলন হয়েছে। সাদিক বলেন, আমার রোপনকৃত মালটা গাছের সংখ্যা প্রায় দুই শতাধিক। পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন প্রজাতির আম ও বিভিন্ন ফলজগাছ রোপন করেছেন। এবছর মালটা গাছ থেকে প্রায় ছয়মন মালটা বাজারে বিক্রি করেছেন। সৌখিন মালটা চাষী সাদিক হোসেন আরও বলেন, সখের বসে আমানত গ্রীন এ্যাগ্রো নামের একটি ফার্ম তৈরি করেছি। বরিশালে এরকমের মিস্টি সুসাধু মালটা আর কোনখানে আছে কিনা তা জানা নেই সাদিকের। মালটা গুলো দেখতে কাচা লেবুরমত হলেও ভিতরে মিষ্টি রসে ভরপুর। প্রথমে সাদিক ভেবেছিলেন ফল খেতে তেমন একটা ভাল হবেনা, কিন্ত তার সেই চিন্তা ভাবনা অবশেষে ভুল প্রমানিত হয়েছে। সাদিক বলেন, বাজার থেকে যেসব মালটা সাধারণ মানুষ ক্রয় করে খেয়ে থাকেন তা দেখতে হলুদ রংয়ের এবং ফরমালিন মিশানো। ফলে দীর্ঘদিন ওইসব মালটা দোকানে থাকলেও তা নস্ট হয়না। তাই ক্ষুদ্র পরিসরে হলেও মানুষকে সম্পূর্ণ ফরমালিন ও রাসায়নিক সারমুক্ত মালটা খাওয়ানোর জন্য সাদিকের প্রাণপন চেষ্ঠা অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে প্রতিটি গাছই মালটার ভারে ভেঙ্গে পরার উপক্রম হয়েছে। মালটা চাষে ব্যাপক সারা পাওয়ায় তিনি (সাদিক) এখন এটি ব্যবসা হিসেবেই বেঁছে নিয়েছেন। পাশেই মাছ চাষের জন্য আরও প্রায় চার একর জমি নিয়ে ইতোমধ্যে আরও মালটা, আম, নারিকেলসহ বিভিন্ন ফলজগাছ ও সবজির চাষে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন সাদিক হোসেন। মালটা চাষের ব্যাপারে কৃষি অফিসার মোঃ আল আমিন টিটু বলেন, সাদিক হোসেনের উদ্যোগটা ভালো তবে যেকোন চাষাবাদে কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ নিয়ে কাজ করলে ভবিষ্যতে যেকোন ধরনের সমস্যা চাষীরা নিজেরাই সমাধান করতে পারবেন। কৃষি কর্মকর্তা আরও বলেন, মালটা চাষে দেশের শিক্ষিত বেকার যুবকরা এগিয়ে আসলে দেশ থেকে বেকারত্ব দুর করনের পাশাপাশি দেশীয় ফলের স্বাদ পাবে দেশের মানুষ।