শুক্রবার ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ০৩ ডিসেম্বর ২০২১ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা
সর্বশেষ

এমডিজি অর্জনে বাংলাদেশের অভাবনীয় সাফল্য

  • জলি রহমান

বিভিন্ন প্রতিকূলতা সত্ত্বেও সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) অর্জনে অনেক সফলতা পেয়েছে বাংলাদেশ । জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) বিশ্বব্যাপী এমডিজি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করে। বাংলাদেশে এ বিষয়টি দেখভাল করছে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি)। ২০০৫ সাল থেকে জিইডি এ সূচকের ওপর ভিত্তি করে পর্যালোচনা করে আসছে। এটিই হচ্ছে চূড়ান্ত মূল্যায়ন। সূত্র অনুযায়ী, এমডিজির সিদ্ধান্ত জাতিসংঘে ১৮৯টি দেশ সামষ্টিকভাবে নিলেও এর বাস্তবায়নের দায়িত্ব ছিল দেশগুলোর একক প্রচেষ্টার মাধ্যমে। সব দেশের জন্য আর্থিক ও কারিগরি সাহায্য প্রদানের আশ্বাস অবশ্য দেয়া হয়েছিল। কিন্তু কার্যত বাস্তবায়ন করতে গিয়ে দেশগুলোকে নিজের সম্পদের ওপরই নির্ভর করতে হয়েছে বেশিরভাগ। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ একই শ্রেণীর দেশগুলোর তুলনায় অনেক এগিয়ে রয়েছে।

আটটি লক্ষ্যের ২১টি টার্গেটের মধ্যে ১৩টি নির্ধারিত সময়ের আগেই অর্জন সম্ভব হয়েছে। বনায়ন ছাড়া অবশিষ্ট টার্গেট অর্জনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাপক উন্নতি করেছে। এসব ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সার্কভুক্ত ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান ও আফগানিস্তানকেও ছাড়িয়ে গেছে। পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) ‘মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোলস : অ্যান্ড-পিরিয়ড স্টকটেকিং অ্যান্ড ফাইনাল ইভাল্যুয়েশন রিপোর্ট (২০০০-২০১৫)’ শীর্ষক চূড়ান্ত প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে। এমডিজির আটটি লক্ষ্য হলো অতিদারিদ্র্য নিরসন ও ক্ষুধা নির্মূল; সর্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষা; লিঙ্গবৈষম্য দূরীকরণ ও নারীর ক্ষমতায়ন; শিশুমৃত্যুর হার হ্রাস; মাতৃস্বাস্থ্য উন্নতি; এইডস, ম্যালেরিয়া এবং অন্যান্য ছোঁয়াচে রোগ প্রতিরোধ; টেকসই পরিবেশ নিশ্চিতকরণ; বৈশ্বিক সম্পর্ক জোরদার। এমডিজির অন্যতম প্রধান দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যটি অর্জিত হয়েছে। ২০১৫ সালের মধ্যে দারিদ্র্যের হার ২৯ শতাংশে নামানোর লক্ষ্য নির্ধারিত ছিল, বাংলাদেশ এ সময়ে দারিদ্র্যের হার ২৪ দশমিক ৮ শতাংশে নামিয়ে এনেছে। অপুষ্টির কারণে ওজন কম থাকবে এমন পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুর হার ৩৩ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যটিও অর্জন হয়েছে। তবে দৈনিক ১৮০৫ ক্যালরি খাদ্য গ্রহণ করা জনগোষ্ঠী ১৪ শতাংশ নামিয়ে আনার লক্ষ্য থাকলেও তা অর্জিত হয়নি। দেশে ১৬ দশমিক ৪ শতাংশ জনগোষ্ঠী এখনো দিনে ১৮০৫ ক্যালরি খাদ্য গ্রহণ করতে পারে না। এ ছাড়া শিক্ষা, লিঙ্গবৈষম্য, শিশুমৃত্যু, মাতৃস্বাস্থ্য, রোগবালাই নিয়ন্ত্রণে রাখা, টেকসই পরিবেশ এসব মূল লক্ষ্যের বেশির ভাগ উপসূচকই লক্ষ্য অর্জন করেছে। এমডিজির মূল্যায়ন নিয়ে তৈরি করা চূড়ান্ত প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে। পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি) এ প্রতিবেদন তৈরি করেছে।

এমডিজির প্রতিবেদন অনুযায়ী, লক্ষ্য ছিল সর্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষায় শতভাগ নিবন্ধন করা। বাংলাদেশে ৯৮ শতাংশ নিবন্ধন হয়েছে। এই লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে বলে মনে করে জিইডি। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষায় ছেলে-মেয়ের নিবন্ধনের অনুপাতে সমতা আনার লক্ষ্য ছিল। এ দেশে ছেলেদের চেয়ে মেয়েদের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষায় নিবন্ধনের অনুপাত বেশি।

শিশুমৃত্যুর হার হ্রাসে ব্যাপক অগ্রগতি হয়েছে। ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী প্রতি ১ হাজার জীবিত শিশুর মধ্যে ৩৬টি মারা যায়। এমডিজিতে এ লক্ষ্য ছিল প্রতি হাজারে ৪৮টিতে নামিয়ে আনা। একইভাবে ১ বছরের কম বয়সী শিশুমৃত্যুর হার হাজারে ২৯-এ নেমে এসেছে। এমডিজির লক্ষ্য ছিল ৩১। এ দুটি সূচকেই লক্ষ্য অর্জিত ।

রোগবালাই নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে এইডস নির্মূলের সূচকটি বাংলাদেশের জন্য প্রযোজ্য হয়নি। প্রতি ১ লাখ জনসংখ্যার মধ্যে ম্যালেরিয়ায় মৃত্যু দশমিক ৬ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য ছিল। বাংলাদেশে প্রতি লাখ জনসংখ্যায় ম্যালেরিয়ায় মৃত্যুর সংখ্যা এখন দশমিক ৩৪ শতাংশ। ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে ৯২ শতাংশের বেশি মশারির নিচে ঘুমায়। এমডিজিতে এ লক্ষ্য ছিল ৯০ শতাংশ। আর বাংলাদেশে ১০০ জন যক্ষ্মা রোগীর মধ্যে সেরে ওঠেন ৯২ শতাংশ। এমডিজিতে তা ৯০ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য ছিল। এমডিজিতে আরেকটি লক্ষ্য ছিল শতভাগ মানুষকে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের নিশ্চয়তা দেওয়া। দেশে প্রায় ৯৮ শতাংশ জনগোষ্ঠীর বিশুদ্ধ পানি ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) কান্ট্রি ডিরেক্টর সুদীপ্ত মুখার্জি বলেছেন, এখন মূল চ্যালেঞ্জ হলো সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান বলেছেন, এমডিজির লক্ষ্য অর্জন নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের জন্য গৌরবজনক। কেননা, উন্নয়নশীল দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশ বেশ ভালো করেছে। এর ফলে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) অর্জনেও শক্ত অবস্থানের ওপর দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ।

শীর্ষ সংবাদ:
উখিয়ায় ক্যাম্পে আরসা ক্যাডারসহ ২৪১ জন আটক, বিপুল অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার         ৫০ বছর পর মুক্তিযোদ্ধা বাবা- পুত্রের কবর চিহ্নিত         সড়কের দুর্নীতির বিরুদ্ধে লাল কার্ড দেখাবে শিক্ষার্থীরা         ১২ ডিসেম্বর দিয়াবাড়ি থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত পরীক্ষামূলক ভাবে চলবে মেট্রোরেল         ভক্তের অভিযোগে দুঃখ প্রকাশ করেছেন কৃতি         ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত কুয়েট বন্ধ ঘোষণা         রামেক হাসপাতালে করোনা উপসর্গে ২ জনের মৃত্যু         বিশ্বের ৩০ দেশে ছড়িয়ে পড়েছে ওমিক্রন         জনকন্ঠে সংবাদ প্রকাশের পর মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে বরাদ্দ আসছে         বিয়ের পিড়িতে দুই হাত হারানো ফাল্গুনী         রায়পুরায় অপহরণের ৬ দিন পর মিললো শিশু ইয়াছিনের লাশ         ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর রেকর্ডে আর্সেনালকে হারাল ইউনাইটেড         সমুদ্রবন্দরে ১ নম্বর হুঁশিয়ারি সংকেত         ফটিকছড়িতে এক মাদক ব্যবসায়ী আটক         দিনাজপুরে বাল্যবিয়ে দেয়ার চেষ্টায় কাজী কারাগারে, বরের জরিমানা         রাজধানীর শেওড়াপাড়ায় মোটরসাইকেল আরোহীকে গুলি করে আহত         আফ্রিকার ৭ দেশ থেকে ফিরলেই নিজ খরচে কোয়ারেন্টাইন বাধ্যতামূলক         মানুষকে আগামী বহু বছর ধরে কোভিডের টিকা নেবার প্রয়োজন হতে পারে ॥ ড. বুর্লা         মুন্সীগঞ্জে বিস্ফোরণে দগ্ধ ভাই-বোন নিহত ॥ মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে বাবা-মা         গত ২৪ ঘণ্টায় সারা বিশ্বে করোনায় মারা গেছেন ৭ হাজার ৪২ জন