ঢাকা, বাংলাদেশ   মঙ্গলবার ০৯ আগস্ট ২০২২, ২৫ শ্রাবণ ১৪২৯

পরীক্ষামূলক

নারীকে দেখার চোখ

প্রকাশিত: ০৪:০৪, ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৬

নারীকে দেখার চোখ

ক্ষমতার উচ্চ পর্যায়ে নারীদের অবস্থান হওয়া সত্ত্বেও আজ দেশে ধর্ষণসহ নারী নির্যাতনের অসহনীয় পরিস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নারীরা আজ শঙ্কিত, আতঙ্কিত, শঙ্কাগ্রস্ত। কিছু বিকৃত মানসিকতার পুরুষদের কারণে বছরের পর বছর এসব ঘটনা ঘটেই চলেছে। যুদ্ধের সময় রাজাকার, আলবদররা যেভাবে নারীদের ওপর নির্যাতন করেছিল, আমরা নতুন প্রজন্মকে সেই সব ভয়াবহ যুদ্ধের নৃশংস দৃশ্যগুলো আবার দেখাচ্ছি যখন একটি স্বাধীন সার্বভৌম গণতান্ত্রিক দেশে বাস করছি। বিশ্ব আজ জেনে গেছে বাংলার নারীরা আজ ক্ষমতার উচ্চ পর্যায়ে গিয়েও যেন নিরাপদ নয়। ২০১৬ সালে এসে ১৯৭১-এর সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি দেখতে হচ্ছে। এ সব ঘটনায় দেশবাসী আজ স্তব্ধ, ভাবলেই লজ্জা লাগে। প্রতি বছরই অনেক রিশা, আফসানা, তনু , সাবিরা, জনিয়া, শিশু সুমাইয়া জান্নাতকে এ ভাগ্য বরণ করতে হয়। অথচ এর যথাযথা বিচার হয় বলা যাবে না। হয় না দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি। তনু হত্যার প্রতিবাদে মুখর সারাদেশ। তারপরও এখনও কোন আসামি ধরা পড়েনি। কোন কিনারাই হয়নি এ হত্যা রহস্যের। এই যদি হয় অবস্থা, তাহলে এ দেশে নারীদের নিরাপত্তার সঙ্কট কতটা সেটা সহজেই বোঝা যায়। কিন্তু প্রতিকার হওয়া উচিত। নারীদের নিরাপত্তায় যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া সরকারের দায়িত্ব। যাতে আর একজন তনুকেও এ ভাগ্য বরণ না করতে হয়। সরকার নারী নির্যাতন প্রতিরোধে ঘৃণ্য এই কাজের সঙ্গে জড়িত নরপশুদের শাস্তি নিশ্চিত করতে কঠোর আইন করেছে। তবে ওই আইনের ফাঁক-ফোকরে বরাবরই তারা থাকে ধরাছোঁয়ার বাইরে। নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না তাদের কৃতকর্মের শাস্তি। তাই উদ্বেগ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে ধর্ষণের ঘটনা। থাকছে না বয়স, স্থান, কাল, পাত্রের ভেদ। শুধু রাত-বিরাতে নয়, দিনদুপুরে প্রকাশ্য যৌন নির্যাতনের ঘটনাও ঘটছে। মেয়েরা যখন যৌন হয়রানির শিকার হন, তখন দোষ দেয়া হয় মেয়েদের পোশাক পরিধান এবং চালচলনের। কিন্তু একটি শিশু বা একজন স্কুুলছাত্রী তো ওই রকম পোশাক পরে না। তাহলে তারা কেন এ রকম পরিস্থিতির শিকার হচ্ছে? বোরকা পরে, পর্দা মেনেও রেহাই মিলছে না মেয়েদের। তনুর পোশাক তো অসংযত ছিল না। তাহলে এ ঘটনার জন্য কাকে দায়ী করা হবে? প্রতিটি মানুষই স্বতন্ত্র মেধা মনন এবং সৃষ্টিতে কর্মপেশি সচেতন। এই সচেতনতা এবং মর্যাদাবোধ গড়ে উঠতে হবে পরিবার থেকে রাষ্ট্র পর্যন্ত। তবে পুরুষের চেয়ে অধিক যোগ্য এবং মেধাবী হয়েও এখনও সমাজে প্রচলিত ধর্মবিশ্বাস ও সংস্কৃতির কারণে অধীনতাকেই ভালবাসার আবরণে দেখার অনাকাক্সিক্ষত আকর্ষণ নারীর। ফলে একজন পরিপূর্ণ যোগ্য নাগরিক এবং মানুষ হওয়ার নয়, একজন মমতাময়ী, কর্তব্যপরায়ণ পতিব্রতা নারী হয়ে ওঠার স্বপ্ন দেখেন তারা। ব্যতিক্রম নিশ্চয়ই আছে। আর নারীর এই কোমলতার সুযোগ যুগে যুগে গ্রহণ করে আসছে পুরুষ। তাই নারী নিজের ক্ষমতায় নিজেও কখনও ক্ষমতাসীন হতে পারেনি। হতে পারে না নিজের যোগ্যতায় আস্থাশীল। কারণ ছোটবেলা থেকে নারীকে এখনও শেখানো হয় পরের ঘরে যেতে হবে। এ কথাটি না বলে এর পরিবর্তে যদি বলা হয় নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে, তাহলে নারী নির্যাতনের এই ধারাবাহিক চিত্র হয়ত আস্তে আস্তে পাল্টাতে শুরু করবে। লালমনিরহাট থেকে
ডিজিটাল বাংলাদেশ পুরস্কার ২০২২
ডিজিটাল বাংলাদেশ পুরস্কার ২০২২