ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৬ মাঘ ১৪২৯

monarchmart
monarchmart

আগ্রাসী ইংল্যান্ড ‘বনাম’ দুর্বার নিউজিল্যান্ড প্রথম সেমিফাইনাল আজ

ইংলিশ-কিউই ধুন্ধুমার লড়াই

প্রকাশিত: ০৬:০২, ৩০ মার্চ ২০১৬

ইংলিশ-কিউই ধুন্ধুমার লড়াই

শাকিল আহমেদ মিরাজ ॥ ২০১৬ টি২০ বিশ্বকাপের প্রথম দল হিসেবে কার হাতে উঠছে ফাইনালের টিকেট? তারই ফয়সালা আজ। দিল্লীর ফিরোজ শাহ কোটলায় মুখোমুখি উপমহাদেশের বাইরের দুই প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ড। বাংলাদেশের কাছে হেরে গত ওয়ানডে বিশ্বকাপের গ্রুপপর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল ইংলিশরা। এরপর ইয়ন মরগানের নেতৃত্বে দলটি ঢেলে সাজানো হয়, যেটিকে বলা হচ্ছে ‘বদলে যাওয়া’ ইংল্যান্ড। দলটি যে আসলেই বদলের পথে তার প্রমাণ ঘরের মাটিতে অস্ট্রেলিয়াকে এবং আরব আমিরাতে পাকিস্তানকে রুখে দেয়া, টি২০ বিশ্বকাপ হতে পারে সর্বশেষ উদাহরণ। গ্রপ-১ থেকে ‘ডিফেন্ডিং’ চ্যাম্পিয়ন শ্রীলঙ্কা ও শক্তিধর দক্ষিণ আফ্রিকাকে বিদায় করে দ্বিতীয় দল হিসেবে শেষ চারে মরগানবাহিনী। অন্যদিকে এবারের বিশ্বকাপে ‘চমকের’ নাম নিউজিল্যান্ড, এমনিতে তাদের সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন নেই। কিন্তু কেন উইলিয়ামসনরা ‘গ্রুপ অব ডেথ-২’ থেকে যেভাবে ‘অপরাজেয়’ হিসেবে সবার আগে সেমিতে উঠে এসেছে, সেটি সত্যি ‘বিস্ময়কর’। রক্ষণাত্মক মনোভাব থেকে বেরিয়ে ইংল্যান্ডের এই দলটা এখন আগ্রাসী ক্রিকেট খেলছে। বিশেষত আক্রমণাত্মক শট খেলতে পারদর্শী এক ঝাঁক ব্যাটসম্যান ইংলিশ শিবিরের চেহারাটাই বদলে দিয়েছে। যেখানে মশালটা জো রুটের হাতে, অবিশ্বাস্য খেলছেন ২৫ বছরের ‘ইয়র্কশায়ার ম্যান’। ‘সুপার টেন’Ñএ দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচটাই আগ্রাসী ইংল্যান্ডের জ্বলন্ত উদাহরণ। ২২৯ রান তাড়া করে তাক লাগানো এক জয় তুলে নেয় ইংলিশররা! মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে সেদিন ব্যাট হাতে চার-ছক্কার ফল্গুধরা বইয়ে দিয়েছিলেন রুট। ৪৪ বলে ৬ চার ও ৪ ছক্কায় খেলেছিলেন ৮৩ রানের ম্যারাথন ইনিংস। সৌজন্যে ২৩০ রান করে ২ উইকটের নাটকীয় জয় পেয়েছিল ইংল্যান্ড! কিউইদের জন্য আজও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারেন ‘সেনসেশনাল’ এই ব্যাটসম্যান। আছেন ‘লড়াকু’ মরগান-এ্যালেক্স হেলস, ‘ধুন্ধুমার’ জেসন রয়, ‘সুপার’ বেন স্টোকস ও ‘ক্ল্যাসিক্যাল’ জস বাটলারের মতো উইলোবাজ। আসরে সব ম্যাচের দলীয় সংগ্রহ মিলিয়ে সর্বোচ্চ রান ইংলিশদেরই। তবে দলটির বোলিং নিয়ে কিছুটা সমস্য রয়েছে। বিশেষ করে ফিরোজশাহ কোটলায়, যেখানে ভয়ঙ্করতর হয়ে উঠতে পারেন প্রতিপক্ষ কিউই স্পিনাররা, সেখানে টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত মঈন আলি ও আদিল রশিদদের আহামরি মনে হয়নি। সে অর্থে ডেভিড উইলি, বেন স্টোকস ও ক্রিস জর্ডানকে নিয়ে বরং তাদের পেস আক্রমণই সমৃদ্ধ। আসরে মরগানদের শুরুটা অবশ্য ভাল ছিল না। ১৮২ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়েও ক্রিস গেইলের দানবীয় সেঞ্চুরির তোপে উইন্ডিজের কাছে ৬ উইকেটে হেরেছিল তারা। ঐতিহাসিক প্রোটিয়া বধের পরের ম্যাচে এই দিল্লীতেই সহযোগী দেশ আফগানিস্তানের বিপক্ষে জিততে ইংলিশদের ঘাম ঝরে গিয়েছিল! এক পর্যায়ে ৫৭ রানে ৬ উইকেট হারানো মরগানরা শেষ পর্যন্ত ১৪২ রানের স্কোর গড়ে জিতেছিল ১৫ রানে। উত্তেজনাপূর্ণ শেষ ম্যাচে চ্যাম্পিয়ন শ্রীলঙ্কাকে ১০ রানে হারিয়ে শেষ চারে উঠে আসে ইংল্যান্ড। অন্যদিকে ‘ডেথ গ্রুপ-২’ থেকে পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশকে পেছনে ফেলে সবার আগে সেমির টিকেট নিশ্চিত করে ‘চমক’ দেখায় নিউজিল্যান্ড। উপমহাদেশের মাটিতে বাইরের দলগুলোর রেকর্ড ভাল নয়। ভারতে অনেক অনেক খাবি খাওয়ার তিক্ত অভিজ্ঞতা কিউইদের। সেই তারাই এবার দুর্দান্ত। নাগপুরে উদ্বোধনী ম্যাচেই ‘হট-ফেবারিট’ স্বাগতিক ভারতকে কুপোকাত করে ব্ল্যাক ক্যাপস শিবির পুরো ক্রিকেট বিশ্বকেই যেন তাক লাগিয়ে দেয়। ১২৬ রানের পুঁজি নিয়েও জয় ৪৭ রানে! ভারতকে ৭৯ রানে অলআউট করার দিনে ১০ উইকেটের ৯টিই নেন তিন কিউই স্পিনার মিচেল স্যান্টনার, ইশ সোধী ও নাথান ম্যাককুলাম! মাত্র ৪ ম্যাচে চতুর্থ সর্বোচ্চ ৯ উইকেট তরুণ বাঁহাতি অর্থোডক্স স্পিনার স্যান্টনারেরÑ সরসারি সুপার টেনে খেলা দলগুলোর মধ্যে যা সর্বোচ্চ। সমান ম্যাচে সোধীর শিকার সংখ্যা ৮। অভিজ্ঞ নাথান ম্যাককুলামকে নিয়ে আসরে ‘ভয়ঙ্কর’ স্পিন-আক্রমণের তকমা এখন কিউইদের গায়ে! দিল্লীর পিচে যাঁরা ইংল্যান্ডের জন্য মূর্তিমান আতঙ্ক হয়ে উঠতে পারেন। আছেন মিচেল ম্যাকক্লেনঘানের মতো তুখোড় পেসার। ভারতের পর একে একে ওয়ানডের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া, আনপ্রেডিক্টেবল পাকিস্তান ও বাংলাদেশকে যথাক্রমে ৮, ২২ ও ৭৫ রানে হারিয়ে টানা চার জয় নিয়ে সেমিতে কিউইরা। ব্যাটিংয়ে অবশ্যই উইলিয়ামসন বড় নামÑ আছেন মার্টিন গাপটিল, হেনরি নিকোলস, কোরি এ্যান্ডারসনের মতো হার্ডহিটার। প্রয়োজনে গ্রান্ট ইলিয়ট আর লুক রনকিরাও কম যান না। ‘লিডিং ফ্রম দ্য ফ্রন্ট’Ñ সামনে থেকে চমৎকার নেতৃত্বে ব্রেন্ডন ম্যাককুলামের অভাব ভুলিয়ে দিচ্ছেন উইলিয়ামসন। ইংল্যান্ড নিজেদের শেষ দুই ম্যাচ এই দিল্লীতেই খেলেছে, আর কলকাতায় বাংলাদেশকে হারিয়ে দিল্লীতে কিউইরা। এটি কোন সমস্যা হবে না বলেই মনে করেন ব্ল্যাকক্যাপস সেনাপতি। অন্যদিকে নিজেদের আগ্রাসী ব্যাটিং দিয়েই প্রতিপক্ষকে কাবু করতে চাইছে ইংলিশরা। টি২০তে ২০০৭ থেকে এ পর্যন্ত ১৩ দেখায় ৮ জয়ে এগিয়ে ইংল্যান্ড। নিউজিল্যান্ডের জয় ৪টিতে, ১ ম্যাচ পরিত্যক্ত। গত বছর জানুয়ারিতে ম্যানচেস্টারে মুখোমুখি শেষ ম্যাচেও জিতেছিল ইংলিশরা। ২০১০ তৃতীয় টি২০ বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড। অন্যদিকে আজ জিতলে ওয়ানডের পর টি২০ বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠাটাই হবে উইলিয়ামসনদের জন্য আরেকটি ইতিহাস।
monarchmart
monarchmart