সোমবার ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ২৯ নভেম্বর ২০২১ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা

এইডস রোগীদের প্রতি আচরণ পাল্টাতে হবে ॥ রাষ্ট্রপতি

  • এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের আন্তর্জাতিক সম্মেলন উদ্বোধন

স্টাফ রিপোর্টার ॥ এইডস নিয়ে বৈষম্য দূর করতে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ। তিনি বলেন, এইডস রোগীদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ ও মানসিকতা ‘দুঃখজনক’ ও ‘অপ্রত্যাশিত’ । এইডস কোন অভিশাপ নয়, কিন্তু অনেক এইডস রোগী সমাজে অবহেলিত থাকে, যা প্রত্যাশিত নয়। আমাদের চিন্তা প্রসারিত করতে হবে এবং আচরণ পাল্টাতে হবে। যারা এইচআইভিতে আক্রান্ত কিন্তু এখনও শনাক্ত হননি তাদের প্রতি আমাদের আরও মনোযোগী হতে হবে। উল্লেখ্য, এইচআইভি সংক্রমণের জন্য তারা হুমকির কারণ। এইডস আক্রান্ত বিধবা, এতিম শিশু ও দম্পতিদের জীবন দুর্দশার মুখে পড়ে। এরা সমাজে একঘরে হয়ে যায়। তথ্য প্রযুক্তির উন্নয়নের এই যুগে এ ধরনের আচরণ খুবই দুঃখজনক।

শনিবার ঢাকায় বসুন্ধরা আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটিতে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ১২তম আন্তর্জাতিক এইডস (আইক্যাপ-১২) সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি এ আহ্বান জানান। স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক, কম্বোডিয়ার জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী ইয়াং মৌলি, বাংলাদেশের স্বাস্থ্য সচিব সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, আইসিএএপির সেক্রেটারি জেনারেল জো থমাস, ইউনিসেফের প্রতিনিধি ফিলিপ কোরি, এইডস সোসাইটি অব এশিয়া এ্যান্ড দ্য প্যাসিফিকের প্রতিনিধি মিং হোয়ান চু। এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ১২তম আন্তর্জাতিক এইডস (আইক্যাপ-১২) সম্মেলন শনিবার ঢাকার বসুন্ধরা আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটিতে শুরু হয়েছে। শেষ হবে ১৪ মার্চ। প্রায় এক হাজার বিদেশী প্রতিনিধি বিশ্বের ৫৬টি দেশ থেকে অংশগ্রহণ করছেন। সম্মেলনে বিভিন্ন পর্যায়ের প্রায় ৫০টি বৈজ্ঞানিক সেশনসহ ৩টি প্ল্যানারি সেশন অনুষ্ঠিত হবে। প্রায় ৪শ’র বেশি বক্তা বিভিন্ন বিষয়ে বৈজ্ঞানিক ও গবেষণামূলক প্রতিবেদন উপস্থাপন করবেন। সম্মেলনটি গত বছর ২০ নবেম্বর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। পরবর্তীতে বিশেষ কারণে তা স্থগিত ঘোষণা করা হয়। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং পার্টনার্স ইন পপুলেশন এ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (পিপিডি) যৌথভাবে এই সম্মেলনের আয়োজন করেছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশ এইচআইভি বিস্তার রোধে সাফল্য অর্জন করলেও আত্মতুষ্টির সুযোগ নেই । যতক্ষণ সমাজের সকল সদস্য এ বিষয়ে সঠিক জ্ঞান অর্জন না করবে এবং আচরণ পরিবর্তন না করবে ততক্ষণ পর্যন্ত কোন সমাজ নিরাপদ নয়। এইচআইভি সংক্রমণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরে আবদুল হামিদ বলেন, পরিসংখ্যানের দিক থেকে বাংলাদেশ এইডস সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকিতে নেই। তবে এই ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে বাংলাদেশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে। কারণ, এদেশের বহুসংখ্যক তরুণ বিদেশে চাকরির জন্য যাচ্ছে। আমরা চাই না কোন নাগরিক এই সংক্রমণের শিকার হোক। এই সম্মেলন এশীয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে এইডস প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, বিশ্বব্যাপী ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে এইডস। এইডস আক্রান্তের সংখ্যা নীরবে বেড়েই চলেছে। বিশ্বজুড়ে এইডস প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূলে এই কংগ্রেস উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে। এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে এইডস বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন হচ্ছে একটি আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক ফোরাম, যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নীতিনির্ধারক, সরকারী প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ, গবেষক, সংবাদ প্রতিনিধি, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি, বিভিন্ন কমিউনিটি গ্রুপের প্রতিনিধি এবং এইচআইভি/এইডস আক্রান্ত ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করে থাকেন।

শীর্ষ সংবাদ: