ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১০ আশ্বিন ১৪২৯

সব দলকেই সমান গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ

প্রকাশিত: ০৫:৪০, ৩০ জানুয়ারি ২০১৬

সব দলকেই সমান গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ নেপালের কাছে নিউজিল্যান্ডের হারে সবদলই এখন সতর্ক হয়ে গেছে। সবদলই সবদলকে গুরুত্ব দিচ্ছে। বাংলাদেশ যুব দলও এর ব্যতিক্রম নয়। তারাও প্রতিপক্ষ যেই হোক সমীহ করছে। সমান গুরুত্ব দিচ্ছে। রবিবার স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের আগে এখন দলের অবস্থা এমনই। কক্সবাজারে এখন বাংলাদেশ যুব দল। রবিবার যে কক্সবাজারেই স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে খেলা। দলগুলোকে নিয়ে যে বাংলাদেশের এমন সতর্ক অবস্থান তা জানিয়েছেন ওপেনার পিনাক ঘোষই। প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে গ্রুপের সবচেয়ে বড় বাধা পেরিয়েছে বাংলাদেশ। পরের দুই ম্যাচের প্রতিপক্ষ অপেক্ষাকৃত দুর্বল দুই দল স্কটল্যান্ড ও নামিবিয়া। তবে অনুর্ধ-১৯ পর্যায়ে দলগুলোর ব্যবধান অনেকটাই কম থাকে বলে সতর্কই ছিল বাংলাদেশ। সেই সতর্কতা আরও বাড়িয়েছে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে নেপালের জয়।বৃহস্পতিবার ৩২ রানে জিতে এবারের বিশ্বকাপের প্রথম অঘটন ঘটিয়েছে নেপাল। শুক্রবার কক্সবাজার শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের একাডেমি মাঠে অনুশীলন শেষে পিনাক ঘোষ জানালেন, ‘প্রতিটি ম্যাচকেই বড় ম্যাচ ভাবছে বাংলাদেশ দল। গতকালই (বৃহস্পতিবার) দেখেছি নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে দিয়েছে নেপাল। কোন দলকেই তাই ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। আমরা প্রতিটি ম্যাচ ধরে ভাবছি। স্কটল্যান্ড-নামিবিয়াকেও সমান গুরুত্ব দেব আমরা।’ প্রতিপক্ষকে সম্মান করলেও নিজেদের সামর্থ্যে প্রবল আস্থা পিনাকের। বাঁহাতি এই ওপেনারের বিশ্বাস, নিজেদের সেরাটা খেলতে পারলে কোন দলই থামাতে পারবে না বাংলাদেশকে। জানিয়েছেন, ‘আমরা যদি নিজেদের মতো খেলতে পারি তাহলে কোন দলই আহামরি কিছু নয়। ভারত ও পাকিস্তানের দল ভাল, তবে হারানো অসম্ভব নয়। আমরা আমাদের মতো খেলতে পারলে কোন দলই কঠিন প্রতিপক্ষ হবে না।’ অবশ্য একটা সমস্যা হয়ে গেছে। অফ স্পিনার সঞ্জিত সাহা আইসিসির নজরে পড়ে গেছেন। বোলিং এ্যাকশনে সমস্যা আছে বলে সতর্ক করেছে আইসিসি। ব্যতিক্রমী ধরনের এই ডানহাতি স্পিনারের বোলিং এ্যাকশন নিয়ে আগে থেকেই কিছুটা সংশয় ছিল বাংলাদেশের টিম ম্যানেজমেন্টের। তবে স্বাগতিক কোচ মিজানুর রহমান বাবুলের বিশ্বাস, ১৫ ডিগ্রীর বেশি মাত্রায় সঞ্জিত তার কনুই বাঁকা করেন না। বুধবার যুব বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারানোর পরই সঞ্জিতের সন্দেহজনক বোলিং এ্যাকশনের দায়ে অভিযুক্ত হওয়ার খবরটি জানতে পারে বাংলাদেশের টিম ম্যানেজমেন্ট। তবে এই সংবাদটি খুব বড় বিস্ময় বা ধাক্কা হয়ে আসেনি স্বাগতিক দলের কাছে। স্বাগতিক কোচ মিজানুর রহমানের দাবি দল এমন কিছুর জন্য টুর্নামেন্টের আগে থেকেই মানসিকভাবে তৈরি ছিল। বৃহস্পতিবার সকালেই চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারে যায় বাংলাদেশ দল। তাদের সঙ্গে কক্সবাজারে এখন দক্ষিণ আফ্রিকার যুব দলও আছে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় চট্টগ্রাম থেকে বিশেষ ফ্লাইটে দল দু’টি কক্সবাজার বিমানবন্দের পৌঁছায়। কঠোর নিরাপত্তার মধ্যদিয়ে বিমানবন্দর থেকে দু’দলের যুব ক্রিকেটারদের নিয়ে যাওয়া হয় নির্ধারিত হোটেল ওশান প্যারাডাইসে। বিকেলে শেখ কামাল স্টেডিয়ামে সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হন বাংলাদেশ অনুর্ধ-১৯ দলের কোচ মিজানুর রহমান বাবুল। সঞ্জিতের এ্যাকশনের ধরনটাই সংশয়ের মূল কারণ বলে মনে করছেন তিনি। এ প্রসঙ্গে মিজানুর রহমান বলেন, ‘সঞ্জিতের এ্যাকশন কিন্তু প্রথাগত না। একটু ব্যতিক্রমী এ্যাকশন। শ্রীলঙ্কায় যেমন প্রায়ই অপ্রথাগত স্পিনার বের হয় তেমনই। এ জন্যই সঞ্জিত নিজেও যেমন জানতো, আমরাও জানতাম যে ওর এ্যাকশন নিয়ে সন্দেহ হতে পারে।’ ব্যতিক্রমী ধরনের এই ডানহাতি স্পিনারের বোলিং এ্যাকশন নিয়ে আগে থেকে ধারণা থাকার পরও সঞ্জিতকে বাংলাদেশ খেলিয়েছে দল সংশ্লিষ্ট সবার বিশ্বাসের কারণে। সেই বিশ্বাসের ব্যাখ্যাটাও দিয়েছেন কোচ, ‘ওর এ্যাকশন দেখে সন্দেহজনক মনে হতে পারে, কিন্তু আমাদের সবার বিশ্বাস, ওর এ্যাকশন ঠিকই আছে। ল্যাবে পরীক্ষা করলেই পরিষ্কার হয়ে যাবে যে ১৫ ডিগ্রীর সীমা ছাড়ায় না ওর কনুই।’