ঢাকা, বাংলাদেশ   সোমবার ১৬ মার্চ ২০২৬, ১ চৈত্র ১৪৩২

রাঙ্গাবালীর বড়বাইশদিয়ায় বেড়িবাঁধের বাইরে ঝুঁকিতে ২০০ পরিবার, ৩ কিলোমিট

আ. রহিম গাজী, রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা :

প্রকাশিত: ২৩:১৯, ১৫ মার্চ ২০২৬

রাঙ্গাবালীর বড়বাইশদিয়ায় বেড়িবাঁধের বাইরে ঝুঁকিতে ২০০ পরিবার, ৩ কিলোমিট

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ চরগঙ্গা এলাকায় বেড়িবাঁধের বাইরে বসবাসকারী প্রায় ২০০টি পরিবার চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই জোয়ারের পানি, দমকা হাওয়া ও ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে পুরো এলাকা প্লাবিত হয়ে পড়ে। এতে তলিয়ে যায় ঘরবাড়ি, মাছের ঘের, পুকুর ও রাস্তাঘাট। প্রতি বছরই লাখ লাখ টাকার ক্ষতির মুখে পড়ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
জানা যায়, বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ পাশে অবস্থিত দক্ষিণ চরগঙ্গা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে প্রায় দুই শতাধিক পরিবার বসবাস করছে। তবে এলাকাটি বেড়িবাঁধের বাইরে হওয়ায় জোয়ারের সময় পানির তোড়ে পুরো এলাকা প্লাবিত হয়ে যায়। এতে করে বসতঘর, মাছের ঘের, পুকুরসহ বিভিন্ন স্থাপনা পানিতে তলিয়ে যায় এবং ভেসে যায় মাছ। অনেক সময় গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগিরও ক্ষতি হয়।
স্থানীয়রা জানান, প্রতি বছর একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে তাদের। জোয়ারের পানিতে ঘরবাড়ি তলিয়ে যাওয়ায় ঘরের আসবাবপত্রসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নষ্ট হয়ে যায়। পানির কারণে অনেক সময় চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে দুর্ভোগের মধ্যে জীবনযাপন করতে হয় এলাকাবাসীকে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো বর্ষা শেষে আবার নতুন করে ঘরবাড়ি মেরামত করতে বাধ্য হন।
এলাকাবাসীর দাবি, দক্ষিণ চরগঙ্গা এলাকায় প্রায় তিন কিলোমিটার একটি উঁচু রাস্তা নির্মাণ করা হলে অনেকাংশে জোয়ারের পানির ক্ষতি থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। একই সঙ্গে মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থাও সহজ হবে।
এ বিষয়ে স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য মো. সোনা মিয়া খলিফা বলেন, এখানে প্রায় ২০০ পরিবার বসবাস করে। এই এলাকার অধিকাংশ মানুষ মাছ চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করে। কিন্তু বর্ষা মৌসুম এলেই জোয়ারের পানিতে মাছের ঘের ও পুকুর তলিয়ে গিয়ে লাখ লাখ টাকার ক্ষতি হয়। মাত্র তিন কিলোমিটার একটি রাস্তার অভাবে মানুষকে প্রতি বছর বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে। আমরা সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি, দ্রুত এই তিন কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ করা হোক।”
এ বিষয়ে পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এ বি এম মোশাররফ হোসেন বলেন, বিষয়টি আমার জানা আছে। বর্তমানে এই কাজের জন্য কোনো বরাদ্দ নেই। তবে আশা করছি আগামী জুন মাসের বাজেটে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, ইনশাআল্লাহ।
স্থানীয়দের আশা, দ্রুত সরকারিভাবে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হলে দক্ষিণ চরগঙ্গা এলাকার শতাধিক পরিবার প্রতি বছর জোয়ারের পানিতে যে দুর্ভোগ ও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছে, তা থেকে কিছুটা হলেও রক্ষা পাবে।

×