ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ২১ জুলাই ২০২৪, ৬ শ্রাবণ ১৪৩১

এখনো চলছে ঈদ উদ্যাপন

ফাঁকা ঢাকায় উৎসবের আমেজ

জনকণ্ঠ ফিচার

প্রকাশিত: ২৩:২৭, ১৯ জুন ২০২৪

ফাঁকা ঢাকায় উৎসবের আমেজ

ঈদের ছুটিতে চিড়িয়াখানায় খুদে দর্শনার্থীদের ভিড়

ঈদ গত হয়েছে বটে। উদ্যাপন থেমে নেই। রাজধানীতে এখনো ঈদের আমেজ। ফাঁকা ঢাকায় যে যার মতো করে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। কেউ চিড়িয়াখানায় যাচ্ছেন। কেউবা জাদুঘরে। শিশুপার্ক সিনেপ্লেক্সসহ অন্যান্য বিনোদনকেন্দ্রেও আনন্দঘন সময় কাটাচ্ছে মানুষ।    
গত সোমবার সারাদেশে উদ্যাপিত হয় কোরবানির ঈদ। ওই দিন পশু কোরবানি নিয়েই মূলত ব্যস্ত থাকতে হয়েছে। পরদিন মঙ্গলবার থেকে বাসার বাইরে বের হতে শুরু করে মানুষ। বহু মানুষ গ্রামের বাড়ি চলে যাওয়ায় রাস্তা ঘাট অনেকটাই ফাঁকা। যানজটের ভয় নেই, যেদিকে খুশি যাওয়া যাচ্ছে। যাতায়াতের এই স্বাধীনতা দারুণ উপভোগ করছেন নগরবাসী। সড়কে নামলে যাদের দেখা যাচ্ছে তাদের প্রায় সবাই ঈদ উদ্যাপনে ব্যস্ত। 
মিরপুরের জাতীয় চিড়িয়াখানায় সাধারণ সময়ের তুলনায় ভিড় অনেক বেশি। সেখানে শিশুরা বড়রা এমনকি বুড়োরা জীবজন্তু দেখে সময় কাটাচ্ছেন। বানর থেকে শুরু করে বাঘ হাতি সিংহ ময়ূর জিরাফ জেব্রা- সবই আছে চিড়িয়াখানায়। ছোট বড় সব খাঁচার সামনে দর্শনার্থীদের ভিড়। চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ বলছে, ঈদের দিনগুলোতে প্রতিদিন ৬০ থেকে ৭০ হাজারের মতো দর্শনার্থী আসছে। মিরপুর এবং এর আশপাশের এলাকার নয় শুধু, অনেক দূর-দূরান্ত থেকেও আসছেন দর্শনার্থীরা।   
শিশুদের মিলনমেলা দেখা যাচ্ছে শিশুমেলায়। শ্যামলীর এই শিশুরাজ্য এখন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে। নতুন নাম ওয়ান্ডারল্যান্ড। আগারগাঁও, মিরপুর, মোহাম্মদপুরসহ আশপাশের এলাকার শিশু-কিশোররা এখানে আসছে প্রতিদিন। ৪০টির মতো রাইড আছে এখানে। যার যেটি পছন্দ সেটিতে দৌড়ে গিয়ে উঠে পড়ছে তারা। ১২টির মতো রাইডে চড়তে পারছেন বড়রাও। সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত উৎসব চলছে এখানে। ঈদের সপ্তম দিন পর্যন্ত শিশুমেলা লম্বা সময় ধরে খোলা থাকবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। 
পুরান ঢাকার মানুষেরা ভিড় করছেন লালবাগ কেল্লা ও আহসান মঞ্জিলে। বিশেষ করে মোগল আমলে নির্মিত দুর্গ দেখতে এবারও বহু মানুষ ভিড় করেছেন। প্রতœ স্থাপনার পাশাপাশি এখানে রয়েছে সবুজ চত্বর ও ওয়াকওয়ে। সাধারণ সময়ে এখানে প্রতিদিন ১৬ হাজারের মতো দর্শনার্থী আসেন বলে জানা যায়। এখন সংখ্যাটি অনেক বেড়ে গেছে। কেল্লার চারপাশেই দর্শনার্থীদের ভিড়।

সদরঘাট এলাকায় অবস্থিত আহসান মঞ্জিলেও ঈদের আমেজ। প্রতœস্থাপনাটি কৌতূহলী চোখে ঘুরে দেখছেন দর্শনার্থীরা। আহসান মঞ্জিল জাদুঘর কর্তৃপক্ষ জানায়, সাধারণ দিনগুলোতে এখানে দেড়শ’  থেকে ৩শ’ দর্শনার্থী আসেন। ঈদের ছুটিতে সেটি বেড়ে হয় ৫ হাজার  থেকে ৭ হাজার হয়ে গেছে বলে অনুমান করা হচ্ছে।  
এসবরে বাইরে হাতিরঝিল, টিএসসি, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, রমনা পার্ক, চন্দ্রিমা উদ্যান, মানিক মিয়া এভিনিউসহ খোলামেলা সব জায়গায় বিনোদনপ্রেমীদের উজ্জ্বল উপস্থিতি। পছন্দের ফুডকোর্ট ও রেস্তরাঁগুলোতেও দারুণ ভিড়। রোস্তারাঁ সংস্কৃতি এমনিতেই জনপ্রিয় এখন। ঈদে সেটি আরও বেশি দৃশ্যমান হচ্ছে। সিনেমা হলে মুক্তি পেয়েছে নতুন ছবি। ছবিগুলো দেখতে হলে যাচ্ছেন দর্শক।

এদিকে, সরকারি ছুটি শেষ হয়ে গেছে। বুধবার থেকে অধিকাংশ অফিস, কলকারখানা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা। তাতে কী? কাজে ফেরার  তেমন কোনো তাগিদ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। অফিসেও ঈদের আমেজেই আছেন কর্মকর্তা কর্মচারীরা। প্রথম দিন একে অন্যের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন। তার পর লাপাত্তা! বলার অপেক্ষা রাখে না, এই অবস্থা আরও কয়েকদিন অন্তত বলবত থাকবে। 
চট্টগ্রামের বিনোদন স্পটগুলোতে মানুষের ঢল ॥ স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম অফিস থেকে জানান, ঈদুল আজহার ছুটিতে চট্টগ্রামের সকল বিনোদন কেন্দ্রে ছিল মানুষের ঢল। বিশেষ করে ঈদের দিন বিকেল থেকে পর্যটন স্পটগুলোর দিকে দেখা যায় জন¯্রােত। নগর ও নগরীর বাইরে সর্বত্রই একই চিত্র। সপরিবারে অসংখ্য পরিবারের মিলনমেলা হওয়ায় উপচেপড়া ভিড় পরিলক্ষিত হয়। 
চট্টগ্রামে যে সকল বিনোদন কেন্দ্র রয়েছে তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভিড় দেখা যায় পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে। ছুটির দিনগুলোতে সকাল থেকে বিকেল গড়িয়ে রাত পর্যন্ত শুধু মানুষ আর মানুষ। পতেঙ্গায় কর্ণফুলীর তলদেশে বঙ্গবন্ধু টানেল থাকায় এবার আনোয়ারা পারকি বিচেও প্রচুর জনসমাগম হয়। অনেকেই টানেল হয়ে ঘুরে এসেছেন পারকি  সৈকত। 
চট্টগ্রাম মহানগরীর ফয়’স লেক অ্যামিউজমেন্ট পার্ক ও ওয়াটার সী ওয়ার্ল্ড, চিড়িয়াখানা, পতেঙ্গার বাটারফ্লাই পার্ক, মিনি বাংলাদেশ’খ্যাত স্বাধীনতা পার্ক, মীরসরাইয়ের মহামায়া লেক, সীতাকু-ের গুলিয়াখালী সৈকত, বাঁশবাড়িয়া সৈকত, খৈয়াছড়া ঝর্নাসহ প্রতিটি কেন্দ্রেই অসংখ্য মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। এর মধ্যে আশপাশের লোকজন ছাড়াও অনেকেই এসেছেন  দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে। 
ঈদের ছুটিতে প্রতিবছরই এমন হয়ে থাকে। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়। বিশেষ করে পতেঙ্গা সৈকত সারা বছরের পর্যটন কেন্দ্র। ঈদের সময়ে মানুষের উপস্থিতি হয় ব্যাপক। সেখানে সমুদ্র দর্শন ছাড়াও ঘোড়ার পিঠে চড়া, নৌকা ভ্রমণ, মুখরোচক খাবার ও বিনোদনের নানা উপকরণ রয়েছে। 
মীরসরাইয়ের মহামায়া লেকে ঈদের এই ক’দিনে হাজারো মানুষের সমাগম হয়। শহর থেকে দূরে হওয়ায় এই দর্শনার্থীদের মধ্যে বেশিরভাগই দূর-দূরান্তের। সেখানে নৌকা ভ্রমণ, লেকে কায়াকিংসহ রয়েছে নানান রকমের আনন্দ আয়োজন। লেকের স্বচ্ছ জলে কিছুটা সময় কাটিয়ে আনন্দ উপভোগে মেতে ওঠেন বিনোদনপ্রেমীরা। 
একই চিত্র প্রায় সকল দর্শনীয় স্থানে। বছরে এমন সুযোগ মেলে দু’বার। একবার ঈদুল ফিতরে, আরেকবার ঈদুল আযহায়। লম্বা ছুটি মেলায় অনেকে আবার নিজ এলাকা ছেড়ে চলে যান অনেক দূরে। তবে বিনোদন স্পট বেশি থাকায় চট্টগ্রাম বরাবরই সারাদেশের মানুষের আকর্ষণ।
কুয়াকাটায় বেড়েছে পর্যটকের ভিড় ॥ নিজস্ব সংবাদদাতা, কলাপাড়া, পটুয়াখালী  থেকে জানান, কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে পর্যটকের ভিড় বাড়ছে। শত শত পর্যটক সৈকতের জিরো পয়েন্ট থেকে দুদিকে আনাগোনা করছেন। দীর্ঘ সৈকতে পর্যটকের পদচারনায় মুখরিত হয়ে উঠেছে। মঙ্গলবার সকাল থেকেই পর্যটকের আনাগোনা বাড়তে থাকে। বুধবার পর্যটকের ভিড় আরো বেড়েছে।

আগত পর্যটকরা সৈকতের বেলাভূমে ঘুরছেন। আনন্দ-উল্লাস করছেন। কেউ কেউ উত্তাল সৈকতে গোসলে মত্ত রয়েছেন। কেউবা বেঞ্চিতে বসে নৈসর্গিক দৃশ্য অবলোকন করছেন। ঘুরছেন সৌন্দর্যমন্ডিত স্পটগুলোয়। দীর্ঘ মাসাধিককাল পরে পর্যটকের ভিড়ে কুয়াকাটায় প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে।  পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরে পেয়েছেন। বাণিজ্যিক ক্যামেরাম্যান মো. সরোয়ার জানান, কমবেশি পর্যটকের আগমনে তাঁদের রোজগার বেড়েছে। আবাসিক হোটেলে কমবেশি পর্যটকের অবস্থানে ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি এসেছে।

যদিও আবহাওয়া কিছুটা বৈরী রয়েছে। তারপরও তা উপেক্ষা করেই আগত পর্যটকরা ঘুরছেন কুয়াকাটার বিভিন্ন স্পটে। বিশেষ করে ঝাউবাগান, সাগর-নদীর মোহনা, গঙ্গামতি, বিভিন্ন বৌদ্ধ মন্দির এলাকায় যাচ্ছেন। কাটাচ্ছেন আমুদে সময়। পর্যটকের নিরাপত্তার জন্য ট্যুরিস্ট পুলিশ সচেষ্ট রয়েছেন বলে জানা গেছে। ঈদের ছুটিতে আসা পর্যটকের নিরাপত্তা এবং সেবা নিশ্চিতে কুয়াকাটা বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটি আগেই বিশেষ সভা করেছে।

×