ঢাকা, বাংলাদেশ   বুধবার ১৭ এপ্রিল ২০২৪, ৪ বৈশাখ ১৪৩১

১০ কোটি টাকার পানি শোধনাগারের সুফল থেকে বঞ্চিত এলাকাবাসী

প্রকাশিত: ২১:২৩, ৩ মার্চ ২০২৪

১০ কোটি টাকার পানি শোধনাগারের সুফল থেকে বঞ্চিত এলাকাবাসী

পানিতে জমে আছে শেওলা।

নির্মাণকাজ শেষ হলেও চালু হচ্ছে না মুন্সীগঞ্জের পানি শোধনাগার প্রকল্পের কার্যক্রম। প্রকল্পটি হস্তান্তর নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে দেখা দিয়েছে সমন্বয়হীনতা। বিষয়টি নিয়ে ঠিকাদার ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর পরস্পরের ওপর দায় চাপাচ্ছে। পানি শোধনাগার নির্মাণকাজের মান নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে পৌরসভার। এতে ১০ কোটি ২৬ লাখ টাকার এ প্রকল্পের সুফল থেকে বঞ্চিত পৌরসভার লোকজন।

জানা যায়, ২০১৮ সালে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতাধীন ৩৭ জেলা শহরে পানি সরবরাহ প্রকল্পের আওতায় মুন্সীগঞ্জের হাটলক্ষ্মীগঞ্জ এলাকায় পানি শোধনাগার নির্মাণকাজ শুরু হয়। প্রায় ৩৩শ বর্গফুট আয়তনের জায়গায় নির্মিত পানি শোধনাগারটির পরিকল্পনার মধ্যে ছিল ধলেশ্বরী নদী থেকে প্রতি ঘণ্টায় ৩ লাখ ৫০ হাজার লিটার পানি বিশুদ্ধ করে পৌরবাসীর মাঝে সরবরাহ করা। 

২০২৩ সালের জুলাই মাসে প্রকল্পের কাজ শেষ হয়। একই বছর খাবার জন্য পানির নমুনা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে সচল ছিল কয়েক মাস। এরপর বন্ধ হয়ে যায় পানি বিশুদ্ধকরণ কার্যক্রম। বর্তমানে অচল হয়ে পড়ে থাকায় প্রকল্পের কাঠামো ও পানিতে জমেছে শেওলা। 

এ বিষয়ে হাটলক্ষ্মীগঞ্জ এলাকার বেশ কয়েকজন বাসিন্দারা জানান, পৌরসভার হাটলক্ষ্মীগঞ্জসহ অনেক এলাকায় নেই পর্যাপ্ত সুপেয় পানির ব্যবস্থা। লাইন ধরে পানি নিতে হয়। সেখানেও আয়রন থাকায় বিপত্তিতে পড়তে হয় তাদের। প্রতীক্ষিত প্রকল্পটি চালু করে দ্রুত সেবা নিশ্চিত করার দাবি তাদের। 

তারা বলেন, কয়েক মাস পানি শোধনাগারটি চালানো হয়েছিল। এটি এখন বন্ধ। বছরের পর বছর ধরে দেখতেছি এটা খালি করতাছে। কই আমরা তো বিশুদ্ধ পানি পাইলাম না। একবার চালু হয়, আবার বন্ধ হয়, আবার চালু হয়। সরকারের লাখ লাখ টাকা ব্যয় করে মানুষ যদি উপকারই না পায় তাহলে এটা করে কি লাভ। শিগগিরই পানি শোধনাগারটি চালু করে দিলে আমারা বিশুদ্ধ পানি খেতে পারবো। এটিই আমাদের দাবি। 

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক মোহাম্মদ মাসুদুর রশিদ গণমাধ্যমকে বলেন, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরকে কাজ বুঝে নিতে একাধিকবার লিখিত ও মৌখিকভাবে জানালেও তারা জানিয়েছে পৌরসভা প্রকল্পটি নিতে চাইছে না। জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরও প্রকল্পটি নিচ্ছে না। এমনিতেই এ কাজে দেড় কোটি টাকার বেশি লোকসান হয়েছে। এক মাস পানি শোধন করতে এক লাখ টাকা খরচ হয়। তাই কাজ বন্ধ রেখেছি।

ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্সের প্রকৌশলী জাহিদ হাসান জানান, শিডিউল অনুযায়ী তিন মাস পানি সরবরাহ করা হয়। এ সময়ে বুঝে নেওয়ার কথা থাকলেও প্রকল্পটি বুঝে নেয়নি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর কিংবা পৌরসভা। তাদের নিজের ফান্ড থেকে এটি চালানো আর সম্ভব না। এরই মধ্যে তাদের অনেক টাকা লোকসান হয়েছে। তারা বারবার দপ্তরে চিঠি দিয়েছেন। কিন্তু তাদের কাছ থেকে বুঝে নিচ্ছে না, এমনকি তাদের পাওনা টাকাও দিচ্ছে না। প্রকল্পটি বুঝে না নিলে তাদের কোটি টাকার বেশি লোকসান হবে।

মুন্সিগঞ্জ জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী এস এম আবদুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, প্রকল্পটি যৌথভাবে পৌরসভাকে বুঝিয়ে দেওয়ার কথা ছিল ঠিকাদার ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের। পৌরসভা কাজটি বুঝে নিচ্ছে না, এ জন্য তারাও ঠিকাদারের কাছ থেকে নিতে পারছে না।

মুন্সিগঞ্জ পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র সোহেল রানা বলেন, কাজ নিম্নমানের ছিল। এ জন্য সাবেক মেয়র কাজটি বুঝে নেননি। তবে আমরা শিগগিরই পানি শোধনাগারের কাজটি বুঝে নেব। এ বিষয়ে আলাপ-আলোচনা চলছে।

×