ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ২১ এপ্রিল ২০২৪, ৮ বৈশাখ ১৪৩১

মাঠে বসে হয় গরু-ছাগলের হাট

৫ বছরেও চালু হয়নি শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম

শফিকুল ইসলাম শাহীন, নিজস্ব সংবাদদাতা,ভূঞাপুর, টাঙ্গাইল

প্রকাশিত: ১৪:৫৯, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

৫ বছরেও চালু হয়নি শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম

শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামের নির্মাণ কাজ সম্পন্নের ৫ বছর অতিবাহিত হলেও খেলাধুলা হয়নি একদিনও।

টাঙ্গাইলের ভুঞাপুর শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামের নির্মাণ কাজ সম্পন্নের ৫ বছর অতিবাহিত হলেও খেলাধুলা হয়নি একদিনও। বসানো হয় গরু-ছাগল, আসবাবপত্র কেনা-বেচার হাট। খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এলাকার ছাত্র-ছাত্রী ও যুবসমাজ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালে ৪১ লাখ টাকা ব্যয়ে এ স্টেডিয়ামটির নির্মাণ কাজ পায় ঢাকার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান আকতার এন্টারপ্রাইজ এবং ফোর সাইট কোম্পানি নামের দু’টি জয়েন্ট ভেঞ্চার কোম্পানি। কাজের শুরু থেকেই নানা অনিয়মের মধ্যদিয়ে দায়সারা ভাবে ২০১৮ সালে নির্মাণ কাজ শেষ করে। 

সে সময় কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের আগে প্যাভিলিয়ন ভবনে ফাটল দেখা দেয়। বৃষ্টির পানিতে ধ্বসে গেছে মাঠের উত্তর ও পশ্চিমাংশ প্যালাসাইডিং। খেলার মাঠজুড়ে খানাখন্দে ভরা, মাঠের চারিদিকে বসানো গ্যালারি বেঞ্চগুলোতে ময়লা-আবর্জনা- আগাছায় ভরে গেছে। ভবনের পলেস্তরা খসে পড়ছে। পাবলিক টয়লেট ভবন, গোলপোস্টের বেহাল দশা। মাঠে চড়ানো হয় গরু-ছাগল, বর্জ্যে নষ্ট হয়ে গেছে মাঠের সৌন্দর্য। 

স্থানীয় ফুটবলার তানজীনুর রহমান ইসলামসহ অনেকে বলেন, ‘নির্মাণের পর থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় স্টেডিয়ামটি পড়ে রয়েছে। সপ্তাহে প্রতি শনিবার বসে গরু-ছাগলের হাট। মাঠটিতে খেলাধুলার কোনো পরিবেশ নেই। যার ফলে নির্মাণের পর থেকে একদিন কোনো খেলাধুলা হয়নি এই মাঠে। অথচ কর্তৃপক্ষ অন্য বিদ্যালয়ের মাঠ ব্যবহার করে খেলাধুলার আয়োজন করে। তাহলে জনমনে প্রশ্ন লাখ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত হলো কেনো এই স্টেডিয়াম। 

এদিকে, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি  ভুঞাপুর উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা শিক্ষা অফিস কর্তৃক আয়োজিত জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা এই স্টেডিয়ামে। এ সময় উপস্থিত একাধিক শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ভুঞাপুরে শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম রয়েছে জানতাম না। এই মাঠে খেলাধুলা পরিবেশ নেই। মাঠটি খেলাধুলার উপযোগি করে স্টেডিয়ামে সকল খেলাধুলার আয়োজন করার দাবি জানাচ্ছি। 

উপজেলা ক্রীড়া সংস্থা’র সাধারণ সম্পাদক রতন বলেন, শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের পর থেকে স্টেডিয়াম নিয়ে নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এই স্টেডিয়ামে খেলাধুলার কোনো পরিবেশ নেই। মাঠ ও চারপাশের পরিবেশ একেবারেই নোংরা হয়ে আছে। স্টেডিয়ামটিতে গরু-ছাগলের হাট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এনিয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি একাধিকবার জানিয়েও কোনো সুফল মেলেনি। 
জরাজীর্ণ এই মাঠটিতে খেলাধুলার উপযোগি করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট দাবি জানান স্থানীয়রা।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. জাহিদুর রহমান বলেন, স্টেডিয়ামে বিষয়ে জেনে বিস্তারিত জানানো হবে, না জেনে মন্তব্য করা ঠিক হবে না। 

এবি 

×