ঢাকা, বাংলাদেশ   মঙ্গলবার ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ৩ বৈশাখ ১৪৩১

জীবনযাত্রার মানে প্রভূত পরিবর্তন 

উন্নয়নে বদলে গেছে আদমদীঘি

মো. হারেজুজ্জামান হারেজ, আদমদীঘি, বগুড়া

প্রকাশিত: ২১:৪০, ১২ ডিসেম্বর ২০২৩

উন্নয়নে বদলে গেছে আদমদীঘি

উপজেলায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র 

দেশের সব চেয়ে বড় খাদ্য মজুতাগার ও বৃহত্তম জংশন সমৃদ্ধ ঐতিহাসিক রক্তদহ বিল পাড়ের উপজেলা আদমদীঘি। বগুড়ার জেলা সদর থেকে পশ্চিমে ৪০ কিলোমিটার দূরত্বে গুরুত্বপূর্ণ এই উপজেলা জনপদ। এই উপজেলা উন্নয়নের দিকে থেকে বরাবরই ছিল পিছিয়ে। কিন্তু উন্নয়নের রোল মডেল জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পিছিয়ে থাকা আদমদীঘি উপজেলায় দিয়েছেন উন্নয়নের ছোঁয়া। বিভিন্ন ক্ষেত্রে হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন হয়েছে।  

শেখ হাসিনার ইচ্ছাতে তিনশ’ কোটি টাকা ব্যয়ে এশিয়ার মধ্যে প্রথম শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এবং সোলার সিস্টেম সংবলিত বহুতল বিশিষ্ট ২৫ হাজার মেট্রিক টন ধারণ ক্ষমতার চাল সংরক্ষণাগার (মাল্টি স্টোরিড ওয়্যার হাউস) নির্মিত হয়েছে উপজেলার সান্তাহারে। অবশ্য বেশ আগে থেকে উপজেলার সান্তাহারে থাকা দেশের অন্যতম বড় কেন্দ্রীয় খাদ্য সংরক্ষণাগার (সিএসডি), ধারণ ক্ষমতা ৭০ হাজার মেট্রিক টন উত্তর জনপদের সব থেকে বড় লোকাল স্টোরেজ ডিপো (এলএসডি ধারণ ক্ষমতা প্রায় ১৫ হাজার মেট্রিক টনসহ ৩ এলএসডির মোট ধারণ ক্ষমতা প্রায় ১৮ হাজার মেট্রিক টন এবং ২৫ হাজার মেট্রিক টনের খাদ্য শস্য সাইলো (গম সংরক্ষণাগার) মিলে দেশের অন্যতম বৃহৎ খাদ্য সংরক্ষণাগার রয়েছে। 
সব মিলে এই উপজেলায় সরকারি খাদ্য মজুতের সক্ষমতা প্রায় দেড় লাখ মেট্রিক টন। যা এ অঞ্চলের সরকারি খাদ্য মজুত ব্যবস্থাকে শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করিয়েছে।
বিদ্যুতের ঘাটতি মোকাবিলায় উপজেলার সান্তাহার শহরের সাহেবপাড়ায় রেলওয়ের ২৩ একর পতিত ভূমিতে প্রায় সোয়া ৩শ’ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫০ মেগাওয়াট পিকিং পাওয়ার প্লান্ট (জরুরিভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র) এবং সাম্প্রতিক সময়ে সান্তাহার ও উপজেলার নসরতপুরে প্রায় ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে বিদ্যুতের দুটি উপকেন্দ্র নির্মাণ এবং ডজন খানেক ফিডার লাইন নির্মাণ করা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিদ্যুৎ বিক্রয়-বিতরণ এবং সরবরাহ ব্যবস্থা মজবুত অবস্থানে পৌঁছে গেছে। এই উপজেলায় শুধু মাত্র পিডিবি (নেসকো)র গ্রাহক সংখ্যা ৬০ হাজারের ঘরে।

প্রায় চারবছর পূর্বে পিডিবি এবং আরইবি কর্তৃপক্ষ এই উপজেলাকে শতভাগ বিদ্যুৎ সুবিধা ভোগ করার তালিকায় স্থান দিয়েছেন। নেসকোর সান্তাহার কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তর থেকে উল্লিখিত তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। বিদ্যুৎ ও সোলারের আলোতে গ্রাম-শহর এখন একাকারপ্রায়। রাতের বেলা গ্রামের পাড়া-মহল্লায় চলতে এখন আর টর্চলাইটের তেমন প্রয়োজন পড়ে না।
 বিচক্ষণ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের দেওয়া সুযোগ সুবিধায় কৃত্রিম মৎস্য প্রজননে সারাদেশে সুনাম অর্জন করেছে আদমদীঘি উপজেলা। বর্তমানে তরল সোনা তথা কৃত্রিম মৎস্য প্রজনন ও বিপণন এবং মাছ চাষ খাত মজবুত অবস্থানে রয়েছে। সরকারি মৎস্য গবেষণা প্রতিষ্ঠান ছাড়াও শুধু বেসরকারি পর্যায়ে গড়ে উঠেছে প্রায় ৭০টি মৎস্য প্রজনন হ্যাচারি। মৎস্য প্রজনন ও চাষ এবং বিপণন খাতের সঙ্গে জড়িয়ে আছে লাখো মানুষ। সান্তাহারে মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট এবং প্লাবন ভূমি উপকেন্দ্রটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত এবং বৈষম্যের শিকার।

নড়বড়ে গবেষণার নিয়েও এই উপকেন্দ্রের ইনচার্য ড. ডেভিড রিন্টু দাসের নেতৃত্বাধীন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তাগণ নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে একের পর এক বিলুপ্ত এবং বিলুপ্তপ্রায় দেশীয় ছোট মাছের কৃত্রিম প্রজনন করতে সক্ষম হয়েছে। শেখ হাসিনা সরকারের মৎস্য দপ্তরের যুগান্তকারী কিছু পদক্ষেপের ফলে উপজেলার মৎস্য উৎপাদন দিন দিন সম্প্রসারিত হচ্ছে। ব্যাপক অবদান রাখছে বেকারত্ব দূরীকরণ এবং আমিষের ঘাটতি পূরণে। শিল্পায়নে দূরদর্শী বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা সরকারের উদার শিল্পনীতির কারণে সারাদেশের মতো সান্তাহারসহ আদমদীঘি উপজেলায় বেসরকারি খাতে শিল্পায়ন গড়ে উঠছে দিনকে দিন।

অ্যাগ্রো ফুড এবং প্লাস্টিক পণ্য এবং মৎস্য হ্যাচারিসহ নানা শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়তে গিয়ে ক্রমান্বয়ে কমে যাচ্ছে বিস্তর আবাদি জমি। অথচ, রেলের বিপুল পরিমাণ পতিত জমিতে শিল্পায়ন করা হলে আবাদি জমি রক্ষা করা সহজ হবে। দেশের বৃহত্তম রেলওয়ে জংশনের মধ্যে সান্তাহার একটি। সান্তাহারের বৃহৎ ট্রানশিপমেন্ট ইয়ার্ড বিলুপ্ত করা হয়েছে অনেক আগে। এই প্রতিষ্ঠানের সর্ব দক্ষিণে খাদ্য শস্য সাইলো থেকে শুরু করে বিলুপ্ত ইয়ার্ড, রাসায়নিক সারের বাফার স্টক গুদাম এবং খাদ্য সাইলো সড়কের পশ্চিম দিক দিয়ে থাকা রেলওয়ের পরিত্যক্ত ড্রাইভার কলোনি, সুইপার কলোনি এবং ইয়ার্ড কলোনি জুড়ে রয়েছে রেলওয়ের বিপুল পরিমাণ পতিত জমি। এ সব জমিতে শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হলে কর্মস্থান হবে হাজার হাজার মানুষের। বদলে যাবে এলাকার অর্থনৈতিক চেহারা। 
২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে উন্নয়নের রোল মডেল বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা; এশিয়ার মধ্যে প্রথম নির্মিত মাল্টি স্টোরিড হাউস বা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বহুতল বিশিষ্ট চাল সংরক্ষণাগার উদ্বোধন করতে আসেন। সে সময় সান্তাহার স্টেডিয়ামে করা তার বিশাল জনসভায় উপজেলাবাসীর পক্ষ থেকে দেওয়া মানপত্রে রেলওয়ের উল্লেখিত বিশাল পরিমাণ পতিত জমিতে শিল্পপায়নমূলক প্রকল্প গ্রহণের দাবি দেওয়া হয়েছিল। সেসব দাবির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ইতিবাচক মনোভাব এখনো রয়েছে বলে জানা গেছে। যে কোনো সময় মিলতে পারে আরও বড় আকারের উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের সুখবর। 
এছাড়া শেখ হাসিনার একান্ত ইচ্ছাতে আদমদীঘির প্রায় সাড়ে ৬শ’ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪ বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করা ছাড়াও আরও প্রায় সমপরিমাণ অর্থ ব্যয়ে আঞ্চলিক মহাসড়ক, গ্রামীণ সড়ক, ব্রিজ-কালভার্ট, অনেকগুলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বহুতল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে এবং নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। 
মোট কথা বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সময়োপযোগী উন্নয়নমূলক কাজ করার ফলে মানুষের জীবন যাত্রামানের প্রভূত উন্নয়ন ঘটেছে। উপজেলায় ইতিমধ্যে প্রায় আড়াইশ’ ভূমি ও গৃহহীন পরিবারকে জমিসহ বাড়ি নির্মাণ করে দিয়ে ভূমি ও গৃহহীনমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে।

×