ঢাকা, বাংলাদেশ   সোমবার ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩০

প্রচণ্ড তাপদাহে বিপর্যস্ত মেহেরপুরের জনজীবন 

নিজস্ব সংবাদদাতা, মেহেরপুর 

প্রকাশিত: ১৫:০২, ১১ মে ২০২৩

প্রচণ্ড তাপদাহে বিপর্যস্ত মেহেরপুরের জনজীবন 

প্রচণ্ড তাপদাহে বিপর্যস্ত জনজীবন 

একদিকে প্রচণ্ড তাপদাহ অন্যদিকে বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গেল এক সপ্তাহ ধরে বয়ে যাওয়া তাপদাহ সেই সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে বৈদ্যুতিক লোডশেডিং। এতে করে মেহেরপুরের জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। 

বিশেষ করে খেটে খাওয়া মানুষেরা বিপাকে পড়েছে বেশি। আবহাওয়া অফিস বলছে, আরো কয়েকদিন এমন বৈরী আবহাওয়া থাকতে পারে। আর স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, এ মুহুর্তে অতিরিক্ত পানি পান করা, তরল খাবার খাওয়া এবং ঝুঁকি না নিয়ে রোদ্রের মধ্যে চলা চলে সাবধানতা অবলম্বন করা উচিৎ।

শীতের সময় প্রচন্ড শীত আর গরমের সময় প্রচন্ড গরম বিরাজ করে মেহেরপুরে। তবে এবার একটু বেশি গরম পড়ছে। গেল এক সপ্তাহে জেলায় তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠানামা করছে। সকাল থেকেই তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করে। একটানা বিকেল পর্যন্ত বয়ে চলা এই আবহাওয়ায় জনজীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া কেউ রাস্তাঘাটে বের হচ্ছে না। সব থেকে বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ। 

মেহেরপুর সদর উপজেলার কুলবাড়িয়া গ্রামের মিলন হোসেন বলেন, আমরা প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হতে পারছি না। প্রচন্ড গরমের কারণে নাভিশ্বাস হয়ে উঠেছে। বার বার পানি পিপাসা লাগছে। আবার অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছে। 

ঝাউবাড়িয়া গ্রামের মুকুল হোসেন বলেন, আমি মাঠ পর্যায়ে একটি চাকুরি করি। নিয়মিত আমাকে মাঠে কাজ করতে যেতে হয় কিন্তু এই গরমে হাপিয়ে উঠেছি। আর পারছি না। এমন গরমে কাজ করা অনেক কঠিন হয়ে পড়েছে। আবার সেই সাথে বিদ্যুতের চরম লোডশেডিং রয়েছে। সব মিলিয়ে আমরা অতিষ্ট হয়ে পড়েছি।

শহরের শরবত বিক্রেতা মখলেসুর বলেন, এই গরমে শরবতের চাহিদা বেড়েছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বেচা কেনা হয়। প্রচন্ড গরমের কারণে আমাদেরও কাজ করতে কষ্ট হচ্ছে। তবুও উপায় নেই পেট তো চালাতে হবে। তাই কাজও করতে হবে।

চাষি রবিউল ইসলাম বলেন, এই গরমে আমরা জমিতে কাজ করতে পারছি না। অনেক কষ্ট হচ্ছে। খুব সকালে বের হয়ে কোন রকমে কাজ করে আবার ১২টার মধ্যে কাজ শেষ করতে হচ্ছে। নয়তো রোদের তাপ আরো বেশি হওয়ায় মাঠে কাজ করা যাচ্ছে না। ফসলে বার বার সেচ দিতে হচ্ছে। এতে আমাদের খরচও বেশি হচ্ছে। আবার গরমের কারণে লেবারও পাওয়া যাচ্ছে না। কাজ না করলে আমরা ফসল কিভাবে পাবো। কিভাবে আমাদের পরিবার চালাবো। 

রিক্সা চালক সোহেল রানা বলেন, আগে আমরা একটু কাজ করে খেতে পেরেছি। সংসারটাও একটু ভালো চলেছে কিন্তু এই কয়দিন একে বারে অচলাবস্থা হয়ে গেছে। গরমে রিক্সাও চালাতে পারছি না। শরীরে পারছে না। আবার রাস্তা ঘাটে মানুষের আনাগোনাও কম। খুব কষ্টে দিন কাটছে আমাদের। 

মেহেরপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্বাধায়ক ডা. মো: হাসিবুস সাত্তার বলেন, এই গরমে হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা বেশি। অনেকেই হাসপাতালে হিটস্ট্রোক নিয়েও ভর্তি হচ্ছে। গরমের কারণে রোগির সংখ্যাও বাড়ছে। এই গরমে ফাস্টফুড জাতীয় খাবার খাওয়া যাবে না। এতে করে পেটের সমস্যা দেখা দিতে পারে। ঘন ঘন পানি পান করা এবং রোদে প্রয়োজন ছাড়া বের না হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। এছাড়া বাইরে বের হলে ছাতা ব্যবহার করতে হবে।


 

টিএস

×