৯ এপ্রিল ২০২০, ২৬ চৈত্র ১৪২৬, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 
সর্বশেষ

সংবাদপত্রে করোনা ভাইরাস ছড়ায় না ॥ নোয়াব

প্রকাশিত : ২৬ মার্চ ২০২০

বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় সকল মানুষ আতঙ্কিত ও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। এই আতঙ্কের পেছনে কারণ নিঃসন্দেহে উপলব্ধি করা যায়। করোনাভাইরাসের বিস্তারের মাত্রা এবং প্রাণঘাতী এই রোগে মৃত্যুর ক্রমবর্ধমান সংখ্যা সেই সঙ্গে ভাইরাসটি যে গতিতে ছড়াচ্ছে তা এখনও গবেষণাহীন থাকায় পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটছে। এই সংবেদনশীল মুহূর্তে বাংলাদেশ সংবাদপত্র মালিক সমিতি- নিউজ পেপারস এ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব) সকলের সঙ্গে আন্তরিক সহমর্মিতা ও একাত্মতা প্রকাশ করছে। এটি ভয়াবহ সময় শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, সমগ্র বিশ্বের জন্য। আমরা দৃঢ়বিশ্বাস ও গর্বের সঙ্গে সবাইকে বলতে চাই যে, আমরা সংবাদপত্রসমূহের পক্ষ থেকে যে কোন জাতীয় জরুরী পরিস্থিতি ও দুর্যোগে জনগণের সঙ্গে রয়েছি। করোনাভাইরাসের সর্বশেষ ভয়াবহতার প্রেক্ষাপটে দৈনিক পত্রিকাসমূহ প্রাণঘাতী রোগটি সম্পর্কে সহায়ক, প্রতিকারমূলক ও সচেতনতা সৃষ্টিকারী খবর প্রকাশ করছে। দৈনিকসমূহ নিয়মিতভাবে রোগটি সম্পর্কে চলমান গবেষণা, অনুসরণীয় নতুন স্বাস্থ্যবিধি ও প্রক্রিয়া সাফল্যের কাহিনীসহ প্রতিবেদন আকারে প্রকাশ করছে। দুঃখের সঙ্গে আমরা লক্ষ্য করছি যে, মানবতার এই নাজুক সময়ে এক শ্রেণীর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, অনির্ভরযোগ্য তথ্য ছড়ানোর মাধ্যমে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে, সংবাদপত্র করোনাভাইরাস ছড়াতে পারে এ ধরনের ভিত্তিহীন ও অনুমাননির্ভর ধারণা থেকে বহু পাঠক পত্রিকা পড়া থেকে বিরত থাকছেন। প্রকৃতপক্ষে এসব ধারণার কোন ভিত্তি নেই। ইউনাইটেড স্পেটস জার্নাল অব মেডিসিন নিউইংল্যান্ড থেকে প্রকাশিত তাদের গবেষণায় দেখিয়েছে যে, করোনাভাইরাস সর্বোচ্চ তিন ঘণ্টা থাকে বাতাসে, কার্ডবোডে থাকে একদিন এবং প্লাস্টিক ও স্টেইনলেস স্টিলে থাকে দুই বা তিনদিন।

অবশ্য দীর্ঘকালীন গবেষক প্রফেসর ক্যারোলিন মাখামার জন হপকিন্স ইউনিভার্সিটির ওয়েবসাইটে জানিয়েছেন যে, কোন জিনিসের উপরিভাগে করোনাভাইরাসের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা সামান্যই। তাই সংবাদপত্র বা কাগজ করোনাভাইরাসকে বেঁচে থাকতে সহায়তা করেÑ এ ধরনের গবেষণা তথ্য পাওয়া যায়নি।

বিশ্বস্বাস্থ্য বলেছে, বাণিজ্যিক পণ্যে এ ধরনের দূষণের সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন তাপমাত্রায় বহন করা পণ্যসমূহে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি নেই বললেই চলে। ইউএস সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল এ্যান্ড প্রিভেনশন জানিয়েছে, সংবাদপত্রের মাধ্যমে করোনাভাইরাস বিস্তারের কোন সুযোগ নেই। এমনকি নোয়াব পত্রিকা এজেন্ট হকারদের মধ্যে মাস্ক, গ্লাভস এবং স্যানিটাইজার বিতরণের মাধ্যমে সংবাদপত্রসমূহের পক্ষ থেকে সচেতনতা সৃষ্টি করতে শুরু করেছে।

এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও নোয়াব অবাহত রাখবে। এ সময়ে প্রকৃত ঘটনা জানা গুরুত্বপূর্ণ, করোনা ভাইরাস থেকে কাউকে রক্ষার সর্বোত্তম উপায় হচ্ছে এ সম্পর্কে সর্বশেষ ও নির্ভরযোগ্য তথ্য জানা। সংবাদ প্রকাশ একটি পেশাদারি কাজ। একটি তথ্য প্রকাশের পূর্বে অভিজ্ঞ ও বিজ্ঞ হাতে অতীব যতেœর সঙ্গে প্রতিটি বিষয় পরীক্ষা করা হয়। যে কোন তথ্যের জন্য সংবাদপত্র হচ্ছে বিশ্বব্যাপী নির্ভরযোগ্য খবরের উৎস। করোনাভাইরাসের এই সন্ধিক্ষণে সংবাদপত্র পাঠকের পাশে জাগ্রত বন্ধুর মতো রয়েছে প্রকৃত নিরাপত্তা, যতœ ও সার্বিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে- সকলের সুস্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করা। আমরা সবাইকে সংবাদপত্র পড়ার জন্য অনুরোধ করছি। -নিউজ পেপার্স ওনার্স এ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব)।

প্রকাশিত : ২৬ মার্চ ২০২০

২৬/০৩/২০২০ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



শীর্ষ সংবাদ: