২৯ মার্চ ২০২০, ১৫ চৈত্র ১৪২৬, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 
সর্বশেষ

মাহাথিরের পদত্যাগ

প্রকাশিত : ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২০

গত কয়েক দিনের রাজনৈতিক সঙ্কটের মুখে অকস্মাৎ পদত্যাগ করেছেন মালয়েশিয়ার জনপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ। উল্লেখ্য, তিনি এখন বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক প্রধানমন্ত্রী, যার বয়স ৯৪। ইতোপূর্বে তিনি ১৯৮১-২০০৩ সাল পর্যন্ত দীর্ঘদিন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। বলা হয় তার শাসনামলেই দেশটিতে অভূতপূর্ব অর্থনৈতিক উন্নয়ন সাধিত হয়। যে কারণে তিনি অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী প্রধানন্ত্রীও বটে। সে সময়ে তার রানিং মেট তথা উপ-প্রধানমন্ত্রী ছিলেন আনোয়ার ইব্রাহিম, যাকে বলা হতো মাহাথিরের উত্তরাধিকারী। তবে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব তথা অর্থনৈতিক সঙ্কট মোকাবেলায় ব্যর্থ হওয়ার অজুহাতে আনোয়ারকে বরখাস্ত করেন মাহাথির। তদুপরি তাকে কারাদ-ে দ-িত করা হয় দুর্নীতি, এমনকি সমকামিতার অভিযোগে। পরিবর্তে ক্ষমতায় বসেন মাহাথিরের দল প্রিভুমি বারসাতুর নেতা নাজিব রাজ্জাক। তখন রাজনীতির বিধাতা নিশ্চয়ই মুচকি হেসেছিলেন। নিজের দলের নেতা দুর্নীতিগ্রস্ত প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজ্জাককে ক্ষমতাচ্যুত করতে এক সময়ের শত্রু আনোয়ারের সঙ্গেই পাপাতান হারাপান নামে জোট বেঁধে ২০১৮ সালে ক্ষমতায় বসেন মাহাথির মোহাম্মদ। উদ্দেশ্য ছিল, ক্ষমতা ভাগাভাগি করে নেয়া। অপ্রিয় হলেও সত্য যে, ক্ষমতার কুর্সি কেউ সহজে ছাড়তে চান না। বয়স বেশি হলেও মাহাথির সহজে রাজি হবেন, এমনটি ভাবা বাতুলতা। আর তাই ক্রমশ দূরত্ব তৈরি হচ্ছিল আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে। ইতোপূর্বে ভারতের বিরুদ্ধে কাশ্মীর ইস্যু তুলে দু’দেশের সম্পর্ক তিক্ত করে তোলেন মাহাথির। বিতর্কিত ধর্মীয় নেতা জাকির নায়েককে রাজনৈতিক আশ্রয় দিয়েও সৃষ্টি হয় জটিলতা। ভারত পাম তেল আমদানি বন্ধ করে দেয়ায় মালয়েশিয়াও আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়। ফলে মাহাথিরের পদত্যাগ প্রায় অনিবার্য হয়ে ওঠে। দেশটির রাজা আবদুল্লাহ অব ফাহাং পদত্যাগপত্র গ্রহণ করলেও অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে বলেছেন মাহাথিরকে। অতঃপর মালয়েশিয়ার পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী কে হচ্ছেন তা নিয়ে শুরু হয়েছে পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা ও বিতর্ক। একই সঙ্গে জোট ও দল ভাঙ্গা গড়ার রাজনীতিও। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে যে, আপাতত আনোয়ার ইব্রাহীম প্রধানমন্ত্রী না হলেও তার স্ত্রী উপপ্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি ওয়ান আজিজাহ্ ইসমাইল হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। মূলত এর মাধ্যমে আগামীতে আনোয়ার ইব্রাহিমেরই প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথ প্রশস্ত হলো, যদি না দেশটির রাজনীতিতে কোন নাটকীয় পরিবর্তন ঘটে।

মালয়েশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর ও হৃদ্যতাপূর্ণ। সে দেশে বৈধ-অবৈধভাবে কয়েক লাখ বাংলাদেশী বসবাস করছে, যারা অবদান রাখছে সে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সমৃদ্ধিতে। তদুপরি বাংলাদেশ মালয়েশিয়ার পামতেলসহ কয়েকটি পণ্যের বড় আমদানিকারক। আগামীতে সে দেশে জনশক্তি প্রেরণের সম্ভাবনাও প্রবল, যার মধ্যে রয়েছে নারী ও পুরুষ উভয়ই। এখন থেকে সরকার টু সরকার (জিটুজি) পদ্ধতিতেই বাংলাদেশের সব বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সি শ্রমিক তথা নারী ও পুুরুষ কর্মী পাঠাতে পারবে মালয়েশিয়ায়। এর পাশাপাশি দেশটিতে বসবাসরত ৫ লাখেরও বেশি অবৈধ কর্মীকে বৈধতা দানেরও সুযোগ রয়েছে। সে দেশের নতুন সরকার বিষয়টি সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দিতে পারে। আগামীতে নতুন সরকারের সঙ্গে আরও গভীর ও হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে উঠবে বলেই প্রত্যাশা।

প্রকাশিত : ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২০

২৭/০২/২০২০ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


শীর্ষ সংবাদ: