৭ এপ্রিল ২০২০, ২৪ চৈত্র ১৪২৬, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 
সর্বশেষ

চিকিৎসা করাতে পারছেন না ভাষাসৈনিক শহীদুল্লাহ

প্রকাশিত : ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২০
  চিকিৎসা করাতে  পারছেন না ভাষাসৈনিক শহীদুল্লাহ
  • টাকার অভাব

স্টাফ রিপোর্টার, ময়মনসিংহ ॥ টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছেন না সাবেক গণপরিষদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ভাষাসৈনিক খোন্দকার আব্দুল মালেক শহীদুল্লাহ। চিকিৎসার অভাবে যেকোন সময় নিভে যেতে পারে সহায়সম্বলহীন এই ভাষাসৈনিকের অমূল্য জীবন প্রদীপ- এমন আশঙ্কা পরিবারের সদস্যসহ সহযোদ্ধাদের। তাই দাবি উঠেছে তার উন্নত চিকিৎসার।

পারিবারিক সূত্র জানায়, গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হন ভাষাসৈনিক ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক খোন্দকার আব্দুল মালেক শহীদুল্লাহ। এসময় তার একটি পা অবশ হয়ে যায়। এরপর থেকে পড়ে আছেন বিছানায়। সে সময় ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হলেও অবস্থার কোন উন্নতি না হওয়ায় ফিরে যান মুক্তাগাছার বাড়িতে। নিজ বাড়ির বিছানাতেই এখন সময় কাটছে তার। আগেই হার্টের সমস্যাসহ নানা জটিল রোগ বাসা বাঁধে ভাষাসৈনিক শহীদুল্লাহর শরীরে। টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছেন না তিনি। এজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহায়তা চান এই ভাষাসৈনিক ও তার পরিবারের সদস্যরা। তার স্ত্রী সুরাইয়া মালেক জানান, জীবনভর মানুষের সেবায় নিবেদিত ভাষাসৈনিক খোন্দকার আব্দুল মালেক শহীদুল্লাহ সন্তান ও পরিবারের জন্য কিছুই করেননি। বেকার সন্তানদেরও সামথূ নেই সহায়সম্বলহীন ভাষাসৈনিকের চিকিৎসা করানোর। মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ভাতার সামান্য কটা টাকাই তার খাওয়া, পরা ও চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার উৎস। পাড়াপড়শিসহ সহযোদ্ধাদেরও প্রত্যাশা সরকার তার দায়িত্ব নিতে এগিয়ে আসবে।

মুক্তাগাছা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার আবুল কাশেম জানান, বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন ও মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে খোন্দকার মালেক থাকতেন সামনের কাতারে। রাজনীতি আর কর্মী- সমর্থকসহ দেশ নিয়েই ছিল তার সব ভাবনা। এজন্য পরিবার ও নিজের জন্য কিছুই করতে পারেননি। বসতভিটাই তার একমাত্র সম্বল। খোন্দকার মালেকের উন্নত চিকিৎসা সেবার জন্য সরকার ও রাষ্ট্র দায়িত্ব নেবে এমন দাবি এই সহযোদ্ধার। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় উদ্যোগের কথা জানালেন জেলা প্রশাসক মিজানুর রহমান।

জেলা প্রশাসক জানান, সরকার ও স্থানীয় প্রশাসন খোন্দকার মালেকের জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছুই করবে। ইতোমধ্যে মুক্তাগাছা উপজেলা প্রশাসন থেকে তাকে নগদ ৩০ হাজার টাকার সহায়তা দেয়া হয়েছে। জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ হাইস্কুলে নবম শ্রেণীতে পড়ার সময় ভাষার জন্য আন্দোলনে নেমে ছাত্রত্ব হারান সাবেক এই গণপরিষদ সদস্য। ফলে পরবর্তীতে আর এসএসসি পরীক্ষা দিতে পারেননি তিনি। পড়ালেখার সুযোগ বঞ্চিত খোন্দকার মালেক রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন সেই কিশোর বয়সেই। ভাষা আন্দোলনের সিঁড়ি বেয়ে আসা মহান মুক্তিযুদ্ধেও বিশেষ ভূমিকা রাখেন। সর্বশেষ মুক্তাগাছা পৌরসভার মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন সদা হাশিখুশি খোন্দকার মালেক।

প্রকাশিত : ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২০

২১/০২/২০২০ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



শীর্ষ সংবাদ: