৬ এপ্রিল ২০২০, ২৩ চৈত্র ১৪২৬, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 
সর্বশেষ

মাহবুব তালুকদারের শপথ ভঙ্গ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে ইসি

প্রকাশিত : ২৮ জানুয়ারী ২০২০
  • সাংবিধানিক পদে থেকে অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বলা সমীচীন নয় ॥ তথ্যমন্ত্রী

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার কমিশনের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে জনসম্মুখে কথা বলায় তার শপথ ভেঙ্গেছে কি না সে বিষয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন। সোমবার সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এ কথা বলেন।

মাহবুব তালুকদারের ‘নির্বাচন কমিশনেই লেভেল প্লেইং ফিল্ড নেই’ এ মন্তব্যে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে মন্ত্রী বলেন, নির্বাচন কমিশনার পদটি একটি সাংবিধানিক পদ, যেমন হাইকোর্টের বিচারপতিরও সাংবিধানিক পদ। হাইকোর্টের কোন বিচারপতি যেমন তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয় কখনও জনসম্মুখে উপস্থাপন করেন না। কারণ, সেটি নিয়ম নয় এবং সাংবিধানিক পদে থেকে তা করা সমীচীন নয়। কারণ, এগুলো একান্তই অভ্যন্তরীণ বিষয়। সুতরাং সাংবিধানিক পদে থেকে নিজেদের কর্মপরিবেশ নিয়ে নিজেদের ফোরামে কথা বলাই বাঞ্ছনীয়। সেটি জনসম্মুখে বলা সাংবিধানিক পদধারী হিসেবে তিনি যে শপথ নিয়েছেন সেই শপথের বরখেলাপ কিনা সেই প্রশ্ন অনেকেই রেখেছেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ইভিএম হচ্ছে একটি আধুনিক প্রযুক্তি। পুরো ভারতবর্ষে তাদের সাধারণ নির্বাচন ইভিএমের মাধ্যমে হয়েছে। ইভিএম বিষয়ে তেমন কোন অভিযোগ উত্থাপিত হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রে ইভিএমের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ হয়। বিএনপি কেন আধুনিক প্রযুক্তিতে ভোটগ্রহণের বিরোধিতা করছে তা আমার বোধগম্য নয়। বিএনপি সবসময় আধুনিক প্রযুক্তির বিরোধিতা করে। তারা সম্ভবত প্রযুক্তিকে ভয় পায়, অথবা তারা নির্বাচনে পরাজয়ের আভাস লক্ষ্য করে নিজেদের মুখ রক্ষার জন্য নানা ধরনের অভিযোগ তুলে এখনই নির্বাচনটাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এসব প্রশ্ন উপস্থাপন করছে।

হাছান মাহমুদ বলেন, তারা ইভিএমের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে গিয়েছিল। তারা সর্বোচ্চ আদালতে ইভিএমের বিষয়ে নালিশ নিয়ে গিয়েছিল হাইকোর্ট তাদের পক্ষে রায় দেয়নি। ওই নালিশ হাইকোর্ট রিজেক্ট করে দিয়েছে। একই নালিশ বিদেশীদের সামনে গিয়ে উপস্থাপন করা, সে তো আদালত আবমাননার শামিল। যে কোন নির্বাচন নিয়ে বিদেশীদের কাছে নালিশ করা নির্বাচনী প্রোপাগান্ডা। এসব ছোটখাট ঘটনা যেগুলো হচ্ছে সেগুলো নিয়ে বিদেশীদের কাছে নালিশ করা এটিও তো এক প্রকার নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন।

তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, নালিশ থাকলে তা জনগণ ও ভোটারদের কাছে উপস্থাপন করবেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিষয়-আশয় বিদেশী রাষ্ট্রদূতদের কাছে উপস্থাপন করা, অনেকেই মনে করেন এটিও এক প্রকার নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের শামিল।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগ নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ করবে কিনা এ প্রশ্নের জবাবে হাছান মাহমুদ বলেন, দলীয় ফোরামে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। পুরান ঢাকার গোপীবাগে সংঘর্ষের ঘটনা বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তথ্যমন্ত্রী বলেন, কে প্রথম হামলা শুরু করেছে, তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখে ব্যবস্থা নেবে ইসি। এটা সরকারের বিষয় নয়। তবে উস্কানিমূলক স্লোগান দেয়াও এক প্রকার নির্বাচনের আচরণবিধি লঙ্ঘন।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর প্রচারে কাভারেজ দেয়া হলেও বিএনপির প্রার্থীর কোন খবর আসে না কেন- এমন প্রশ্নের জবাবে হাছান মাহমুদ বলেন, এসব সংস্থার সবগুলোই স্বাধীনভাবে কাজ করে। এগুলো মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত হয় না। মন্ত্রণালয় শুধু দেখভাল করে। সেখানে যদি তারা (বিএনপি) প্রচারের বিষয়গুলো উপস্থাপন করে নিশ্চয়ই সেই সংস্থাগুলো এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে পারে।

প্রকাশিত : ২৮ জানুয়ারী ২০২০

২৮/০১/২০২০ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



শীর্ষ সংবাদ: