২১ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

নারীর স্বাস্থ্য ॥ ‌পেট না কেটে স্থায়ী জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি


মহিলাদের স্থায়ী জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতিকে টিউবেকটমি বা লাইগেশন বলা হয়ে থাকে। এই পদ্ধতিতে অপারেশনের মাধ্যমে মহিলাদের ডিম্ববাহী নালিটি কেটে বেঁধে দেয়া হয়। ফলে স্বামীর শুক্রাণু স্ত্রীর ডিম্বানুর সঙ্গে মিলিত হতে পারে না এবং বাচ্চা তেরি হতে পারে না। প্রচলিত পদ্ধতিতে নাভীর নিচে তলপেটে অপারেশনের জায়গাটুকু অবস করে দুই ইঞ্চির মতো কেটে এই পদ্ধতি সম্পন্ন করা হয়। অপারেশনের তিন চার ঘণ্টা পর বাসায় ফিরে যাওয়া যায়। বর্তমানে সর্বাধুনিক ল্যাপারোস্কপির মাধ্যমে শুধু নাভিতে একটি ছোট ছিদ্র করে ডিম্ববাহী নালিটি রাবারের একটি ব্যান্ড বা একটি ক্লিপ দিয়ে বন্ধ করে দেয়া হয়। এই পদ্ধতিতে কোন কাটাছেঁড়া বা সেলাইয়ের প্রয়োজন হয় না বলে পেটে কোন দাগও থাকে না। পদ্ধতি গ্রহণ করার পর পরই বাসায় যাওয়া যায়। কোন বিশ্রামের প্রয়োজন হয় না। দাম্পত্য সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতির কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। এসব সুবিধার কারণে ল্যাপারোস্কপির মাধ্যমে মহিলাদের স্থায়ী জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি পৃথিবীব্যাপী জনপ্রিয়। যে সব মহিলার কাক্সিক্ষতসংখ্যক সন্তান আছে, ভবিষ্যতে আর মা হতে চান না তাদের জন্য এটি একটি পছন্দনীয় স্থায়ী জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি। মনে রাখতে হবে বেশি বয়সের মায়েরা বিশেষ করে পঁয়ত্রিশোর্ধ বয়সের মায়েরা, যাদের উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ বা ডায়াবেটিস আছে অথবা বংশে এসব রোগের ইতিহাস আছে তাদের জন্য জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি ঝুঁকিপূর্ণ। কাজেই এই ধরনের মায়েরা যদি আর বাচ্চা না নিতে চান তাহলে তাদের জন্য টিউবেকটমি সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি।

ভ্রণহীন গর্ভধারণ

সাধারণত মাসিক চক্রের মাঝামাঝি সময়ে কোন স্ত্রীর ডিম্বাণু স্বামীর শুক্রাণু দ্বারা নিষিক্ত হলে একটি ভ্রণ বা জীবনের সৃষ্টি হয়। এই ভ্রণের কিছু কোষ বিভাজিত হয়ে গর্ভফুল বা পাসেন্টা এবং গর্ভথলি বা স্যাক তৈরি করে। গর্ভফুল এক ধরনের হরমোন তৈরি করে। প্রস্রাবে বা রক্তে উক্ত হরমোনের উপস্থিতির মাধ্যমে জানা যায় একজন মহিলা গর্ভধারণ করেছেন কিনা। এ অবস্থায় যদি ভ্রণটি আর অগ্রসর না হয়ে বিলুপ্ত হয়ে যায় তবে এ ধরনের গর্ভধারণকে ভ্রণহীন গর্ভধারণ বা বাইটেড ওভাম বলা হয়।

কী কারণে বাইটেড ওভাম হয়ে থাকে?

বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা গেছে ভ্রণের জেনেটিক বা ডিএনএ ঘটিত ত্রুটির কারণে এরকম ঘটনা ঘটে থাকে। স্বামী বা স্ত্রী কাউকে এ জন্য দায়ী করা ঠিক নয়।

কিভাবে বাইটেড ওভাম নির্ণয় করা যায়?

বাইটেড ওভাম গর্ভাবস্থার প্রথম দিকেই ঘটে থাকে যখন অনেক মহিলাই জানতে পারেন না যে তিনি গর্ভবতী। মাসিক বন্ধ হয়ে যাওয়া, তলপেটে সামান্য ব্যথাসহ অল্প রক্তক্ষরণ ইত্যাদি লক্ষণ থাকে। আলট্রাসনোর মাধ্যমে জরায়ুতে শুধু গর্ভথলি বা স্যাক দেখা যায় কিন্তু হৃদস্পন্দনসহ ফিটাল পোল বা পরিণত ভ্রণ দেখতে পাওয়া যায় না।

বাইটেড ওভাম হলে কী করণীয়?

বাইটেড ওভাম হলে প্রাকৃতিক নিয়মেই তা জরায়ু থেকে বের হয়ে আসে। তাছাড়া পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হলে চিকিৎসক মুখে খাওয়ার ওষুধ দিয়েও জরায়ু থেকে সবকিছু বের করার ব্যবস্থা করতে পারেন। শতকরা প্রায় পাঁচ ভাগ ক্ষেত্রে ডি এ্যান্ড সির প্রয়োজন হতে পারে।

শেষ কথা

প্রথম তিন মাসে যে পরিমাণ গর্ভ নষ্ট হয় তার অর্ধেক হয় এই বাইটেড ওভামের কারণে। পূর্বে বাইটেড ওভাম হয়েছে এমন মহিলারা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পরবর্তীতে সুস্থ সন্তানের জন্ম দিয়ে থাকেন। তবে বার বার বাইটেড ওভামের ঘটনা ঘটলে স্বামী-স্ত্রীর দরকারী পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরই কেবল সন্তান ধারণের চেষ্টা করা উচিত।

লেখক : সহযোগী অধ্যাপক, প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিভাগ

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়

০১৯৭৯০০০০১১