১২ ডিসেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

কারিগরি শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবিত প্রকল্পে বিনিয়োগ করুন


স্টাফ রিপোর্টার ॥ কারিগরি শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবিত বিভিন্ন প্রকল্পে বিনিয়োগে এগিয়ে আসার জন্য ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন অডিটরিয়ামে ‘স্কিলস কম্পিটিশন-১৭’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী এ আহ্বান জানান। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের অধীনে কারিগরি শিক্ষা অধিদফতরের আওতায় বাস্তবায়নাধীন ‘স্কিলস এ্যান্ড ট্রেনিং এনহ্যান্সমেন্ট প্রজেক্ট (স্টেপ) এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

কারিগরি শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক অশোক কুমার বিশ্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মোঃ আলমগীর, অতিরিক্ত সচিব একেএম জাকির হোসেন ভূঞা, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. মোস্তাফিজুর রহমান, জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কাউন্সিলের সচিব এবিএম খোরশেদ আলম, পেটেন্ট ডিজাইন ও ট্রেডমার্ক অধিদফতরের রেজিস্ট্রার সানোয়ার হোসেন, বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র অপারেশন্স অফিসার ড. মোখলেছুর রহমান এবং স্টেপ প্রকল্প পরিচালক এ বিএম আজাদ প্রমুখ।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, স্কিলস কম্পিটিশন আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য হচ্ছে কারিগরি শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বিকাশের পথ প্রশস্ত করা, শিল্প-সংযোগ প্রতিষ্ঠা করা এবং কলকারখানাসমূহকে উদ্ভাবনী প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করার মধ্য দিয়ে দেশের আর্থ-সামাজিক অগ্রযাত্রায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখা। ২০১৪ সাল থেকে ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের শিক্ষার্থীদের মেধা ও উদ্ভাবনী শক্তির বিকাশের লক্ষ্যে স্টেপ এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে আসছে।

এবারের স্কিলস কম্পিটিশনের প্রাতিষ্ঠানিক পর্ব দেশব্যাপী ১৬২ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে আগামী ২১ অক্টোবর, আঞ্চলিক পর্ব দেশের ১৩ অঞ্চলে একযোগে ১৮ নবেম্বর এবং জাতীয় পর্যায়ে ৯ ডিসেম্বর ঢাকায় হবে। অনুষ্ঠানে বিগত তিন বছরের সেরা ৩০ উদ্ভাবনী প্রকল্প প্রদর্শন করা হয়। প্রকল্পগুলোর বাণিজ্যিক উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের সম্ভাব্যতা পর্যালোচনা করাই এ প্রদর্শনীর অন্যতম লক্ষ্য। প্রদর্শনীতে শিল্পকারখানার মালিক, বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, ভেঞ্চার গ্রুপ, মেধাস্বত্ব সংরক্ষণ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও কারিগরি শিক্ষা পরিচলনাকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে উদ্ভাবনী প্রকল্পগুলো পরিদর্শন করেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষা হওয়া উচিত দক্ষতা নির্ভর। কারণ দক্ষতা অর্জন করতে না পারলে শিক্ষা নিয়ে অনেককেই বেকারত্বের যন্ত্রণা ভোগ করতে হয়। দক্ষতাবিহীন শিক্ষা ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের জন্য বোঝাস্বরূপ। বর্তমান সরকার শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। আর এর মধ্যে কারিগরি শিক্ষাকে সর্বাধিক অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, দক্ষতা নির্ভর কারিগরি শিক্ষাই কেবল পারে দেশকে দারিদ্র্যের দুষ্ট চক্র থেকে মুক্ত করে সরকারের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মধ্য ও উচ্চ আয়ের দেশে রূপান্তর করতে। এ লক্ষ্যে বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে এবং কারিগরি শিক্ষাকে আধুনিকায়নের কর্মসূচী হাতে নিয়েছে।

শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যদি আপনারা আমাদের ছাত্র/ছাত্রীদের উদ্ভাবনী প্রকল্পে বিনিয়োগ করেন তবে তারা আরও বেশি আবিষ্কারের দিকে মনোযোগ দেবে এবং দেশ, কাল ও বাজারের চাহিদা অনুযায়ী নতুন নতুন প্রকল্প উদ্ভাবন করবে। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার এরই মধ্যে কারিগরি শিক্ষায় ১৪ শতাংশের অধিক ভর্তি হার নিশ্চিত করেছে। সরকার এই হার ২০২০ সালের মধ্যে ২০ শতাংশ ও ২০৩০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশে উন্নীত করতে নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে। যদি আমরা ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ ও ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশের মর্যাদা পেতে চাই তবে আমাদের ছেলে-মেয়েদের কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলার কোন বিকল্প নেই।

আধুনিক পণ্য তৈরি করবে বাংলাদেশী শিক্ষার্থীরা

সকালে অপর এক অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিদেশী পণ্য আমদানি কমাতে কারিগরি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞ করে তোলা হচ্ছে। এই জ্ঞান ও মেধার সমন্বয়ে দেশেই আধুনিক মানের পণ্য উৎপাদন করা হবে। মহিলা পলিটেকনিক কলেজে স্যামসাংয়ের অর্থায়নে নতুন ল্যাব ও শর্টকোর্স উদ্বোধনের সময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, দেশের চাহিদা অনুয়ায়ী জ্ঞানলব্ধ করতে চাই, সেই লক্ষ্য সামনে রেখেই কারিগরি শিক্ষাকে এগিয়ে নেয়া হচ্ছে। এ উদ্দেশে দেশীয় প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বিদেশী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করা হচ্ছে। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রারা শিক্ষা বিভাগের সচিব আলমগীর হোসেন বলেন, কারিগরি শিক্ষায় অগ্রগতির লক্ষ্যে দেশী-বিদেশী প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে আসতে হবে। এখন স্যামসাং এগিয়ে এসেছে। আশা করছি দেশের বিভাগীয় পর্যায়ের সব প্রতিষ্ঠানে একটি করে ল্যাব স্থাপনে তারা এগিয়ে আসবেন।

অনুষ্ঠানে স্যামসাংয়ের কান্ট্রি ম্যানেজার সিং ওয়াং ইয়ং বলেন, মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে মহিলা পলিটেকনিকে আধুনিক মানের ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে। এতে বাংলাদেশে স্যামসাংয়ের মার্কেট সমৃদ্ধ হবে। একই সঙ্গে কারিগরি শিক্ষার্থীরা আরও অভিজ্ঞ হবেন। মহিলা পলিটেকনিকের শিক্ষার্থীদের টিভি, ফ্রিজ, এয়ার কন্ডিশনার, ওয়াশিং মেশিন ও মোবাইল ফোনের ওপর প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে স্যামসাং কর্তৃপক্ষ। কারিগরি শিক্ষা অধিদফতরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক অশোক কুমার বিশ্বাসের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন- কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান, মহিলা পলিটেকনিকের অধ্যক্ষ রেবেকা ইয়াসমিন প্রমুখ।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: