২০ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৪ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

জাতীয় মজুরি কাঠামো


শ্রমের জন্য নিবেদিতপ্রাণ শ্রমিক- যার শ্রমে-কর্মে গড়ে ওঠে প্রতিষ্ঠান। তার জীবন জীবিকার বিনিময়ে বেড়ে ওঠে প্রতিষ্ঠানের পরিধি। সেই শ্রমিকের জীবনধারা উন্নত করা না হলে তার জীবন যেমন হয়ে ওঠে কষ্টকর, তেমনি প্রতিষ্ঠানের বিকাশও হয় সঙ্কুচিত। তাই তাদের জীবন ধারার মানোন্নয়ন জরুরী। সরকার সে পদক্ষেপই নিয়েছে। সেক্ষেত্রে বাড়ানো হচ্ছে শ্রমিকদের বেতন ভাতা। একই সঙ্গে বাড়ছে তাদের নানা সুযোগ-সুবিধাও। রাষ্ট্রায়ত্ত কলকারখানার শ্রমিকদের জন্য অবশেষে ঘোষিত হতে যাচ্ছে ন্যূনতম মজুরি। আগামী ডিসেম্বর নাগাদ তা ঘোষিত হচ্ছে। দেরিতে হলেও তা অত্যন্ত সুখবর অবশ্যই শ্রমিকদের জন্য। সরকারী চাকরিজীবীদের মতোই গড়ে শতভাগ মজুরি বাড়ছে শ্রমিকদের। এসব সুবিধা নির্ধারণের জন্য গঠিত জাতীয় মজুরি ও উৎপাদনশীলতা কমিশন ইতোমধ্যে প্রতিবেদন পেশ করেছে। অর্থ বিভাগের অভিমতের পর তা মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদনের জন্য এখন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। কমিশন মজুরির পাশাপাশি অন্যান্য ভাতা বিভিন্ন হারে বাড়ানো ও স্থায়ী কমিশন গঠনের সুপারিশ করেছে। জাতীয় বেতন স্কেলের মতো শ্রমিকদের এই মজুরি কাঠামো কার্যকর হতে যাচ্ছে। যা ২০১৫ সালের এক জুলাই থেকে কার্যকরের বিধান রাখা হয়েছে। সরকার আশা করছে, শ্রমিকরা ন্যায্য মজুরি পেতে যাচ্ছে। এ নিয়ে কোন অসন্তোষের কারণ নেই। কারণ, কমিশনে শ্রমিকদের প্রতিনিধিও ছিল। তাদের মতামত নিয়ে কাঠামো তৈরি হয়েছে।

গত কয়েক বছরে দেশে ভোগ্যপণ্যের দাম বেড়েছে। কিন্তু সে অনুযায়ী বাড়েনি আয়। এখনও দেশে দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করে বহু মানুষ। তবে দারিদ্র্য বিমোচনে নানা কর্মসূচী বাস্তবায়ন কার্যক্রম চালু থাকায় দারিদ্র্য হ্রাস পাচ্ছে। অপরদিকে দেশ দ্রুত শিল্পায়নের পথে অগ্রসর হচ্ছে। সে কারণে শ্রমিকদের সুযোগ-সুবিধার দিকে লক্ষ্য রাখা উচিত। এ কথা বললে অত্যুক্তি হবে না যে, এ সমাজে শ্রমিকরা এখনও নানাভাবে বঞ্চনার শিকার। শ্রমিকদের ন্যায্য বেতন না দিলে তাদের কাছ থেকে সন্তোষজনক কাজ পাওয়া সম্ভব নয়। শ্রমিক যেমন তার কাজের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ সংরক্ষণ করেন, তেমনি কর্তৃপক্ষেরও উচিত শ্রমিকদের স্বার্থ দেখা। এ যেন দিবে আর নিবে, মেলাবে মিলিবে। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোতে বর্তমানে প্রায় পঁচাশি হাজার শ্রমিক রয়েছে। আর শ্রমিকের মজুরি কাঠামো নতুন করে নির্ধারণের জন্য ২০১০ সালের জানুয়ারি মাসে জাতীয় মজুরি ও উৎপাদনশীলতা কমিশন গঠন করা হয়। এই কমিশন শ্রমিকদের মজুরি প্রায় সত্তর শতাংশ বাড়িয়ে ছিল। ওই সময় সর্বোচ্চ মজুরি পাঁচ হাজার ছয় শ’ টাকা এবং সর্বনিম্ন চার হাজার এক শ’ পঞ্চাশ টাকা নির্ধারণ করে মজুরি কাঠামো ঠিক করা হয়। ২০১৫ সালে গঠিত কমিশন ন্যূনতম মজুরি আট হাজার তিন শ’ টাকা ও সর্বোচ্চ এগারো হাজার ছয় শ’ টাকা করার সুপারিশ করে। সাত বছর পর এই মজুরি বাড়তে যাচ্ছে। শ্রমিকদের জন্য ১৬টি গ্রেডে এই মজুরি সুপারিশ করা হয়েছে। বাড়ি ভাড়া ছাড়াও তাদের জন্য বেশ কয়েক ধরনের ভাতা দেয়ার কথা বলা হয়েছে। সরকারী চাকরিজীবীদের মতো মূল বেতনের কুড়ি শতাংশ নববর্ষ ভাতার সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে কমিশন প্রভিডেন্ড ফান্ড, গ্রুপ ইন্স্যুরেন্স স্কিমেরও সুপারিশ করেছে। অধিকাংশ শিল্প প্রতিষ্ঠান লোকসানী হলেও বাস্তবতা বিবেচনা করে সরকার শ্রমিকদের জন্য একটি গ্রহণযোগ্য মজুরি কাঠামো ও ভাতা প্রদানের যে পদক্ষেপ নিয়েছে, তা অবশ্যই প্রশংসনীয়। যা শ্রমিকদের চাওয়াকেই পূর্ণতা দেবে। এর সফল বাস্তবায়নের পাশাপাশি উৎপাদনশীলতা বাড়ানোও জরুরী।