২৩ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

দশ বছর পেরিয়ে নোবিপ্রবি


বাংলাদেশের জনসংখ্যার একটি বড় অংশের আবাস উপকূলীয় অঞ্চলে। নদী মাতৃকার কারণে এ অঞ্চলের বাসিন্দাদের অনেকেই বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষা থেকে পিছিয়ে। তাদের আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষায় দক্ষ করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ২০০১ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দক্ষিণাঞ্চলে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আইন পাস করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সেই সুবাদে ২০০১ সালের ১৫ জুলাই নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন পাস এবং ২০০৩ সালে তা কার্যকর হয়। অবশেষে ২০০৬ সালের ২২ জুন শিক্ষাকার্যক্রম চালু করা হয় নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের। গত ২২ জুন বিশ্ববিদ্যালয়টি ১০ বছর পেরিয়ে এগারো বছরে পদার্পণ করেছে।

নোয়াখালীর মূল শহর মাইজদি থেকে ৮ কিলোমিটার দক্ষিণে সোনাপুর চরজব্বর সড়কের পশ্চিম পাশে সবুজে ঘেরা ১০১ একর জায়গাজুড়ে বিশ্ববিদ্যালয়টি। ক্যাম্পাসজুড়ে সবুজের সমারহ মনে করিয়ে দেয় যেন শ্যামল বাংলার শ্যামলতম অংশ এটি। এ ছাড়া বিভিন্ন ঋতুতে এ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন রূপলাবণ্য যেন চিরায়ত বাংলার এক প্রতিচ্ছবি। অবসর সময়ে পুরো ক্যাম্পাস শিক্ষার্থীদের আড্ডায় হয় মুখরিত। বিশ্ববিদ্যালয় পার্ক, হতাশার মোড়, ময়না-দ্বীপ, শিউলিতলা, লন্ডন রোড, পুকুরপাড়ের জায়গাগুলোতে শিক্ষার্থীদের পদচারণা বেশি লক্ষ্য করা যায়।

বয়সে তরুণ হলেও ক্যাম্পাসজুড়ে বেশ কয়েকটি স্থাপনা রয়েছে। প্রবেশ মুখেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতিস্তম্ভ, প্রশাসনিক ভবনের সামনে মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি ভাস্কর্য, ফাউন্টেনপেন আকৃতির শহীদ মিনার, উপাচার্যের ভবন, বিশ্ববিদ্যালয় অডিটরিয়াম, সুশীতল ছায়াঘেরা বিশ্ববিদ্যালয় পার্ক। ইতোমধ্যে সেন্ট্রাল লাইব্রেরি ও দৃষ্টিনন্দন মসজিদ, তিনটি হলসহ আরও বেশ কয়েকটি স্থাপনা নির্মাণের কাজ চলছে। পরিবহনের জন্য আছে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থা।

যাত্রার শুরুতে চারটি বিভাগ, ১৩ জন শিক্ষক, ১৮০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়টি। তবে একাদশ শিক্ষাবর্ষে এসে মোট তিনটি অনুষদে আছে ১৪টি বিষয়। বিষয়গুলো হলো- ফিশারিজ এ্যান্ড মেরিন সায়েন্স, ফার্মেসি, মাইক্রোবায়োলজি, এ্যাপ্লাইড ম্যাথমেটিকস, ফুড টেকনোলজি এ্যান্ড নিউট্রিশন সায়েন্স, এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স এ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট, এগ্রিকালচার, কম্পিউটার সায়েন্স এ্যান্ড টেলিকমিউমিকশন ইঞ্জিনিয়ারিং, এ্যাপ্লাইড কেমিস্ট্রি এ্যান্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, ইনফরমেশন এ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং, ইংরেজী, বিজনেস এডমিনিস্ট্রেশন, ইকোনমিক্স, বাংলাদেশ এ্যান্ড লিবারেশন স্টাডিজ। এ ছাড়াও ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজি (আইআইটি) এবং ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন সায়েন্স নামে দুটি পরিপূর্ণ ইনস্টিটিউট আছে বিশ্ববিদ্যালয়ে। বর্তমানে মোট ১৬২ জন জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে সুপরিচিত গবেষক শিক্ষক ও চার সহস্রাধিক শিক্ষার্থী আছে বিশ্ববিদ্যালয়ে। এ ছাড়াও আগামী শিক্ষাবর্ষে আরও চারটি বিভাগের শিক্ষাকার্যক্রম শুরুর অপেক্ষায় আছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন বিভাগ ও ইনস্টিটিউট খোলার পাশাপাশি শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মানোন্নয়নে পৃথিবীর বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে এর শিক্ষা সমন্বয় কার্যক্রম চালু করা হয়েছে।

পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধুলা, সামাজিক-সাংস্কৃতিক দিক দিয়েও যথেষ্ট সক্রিয় এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। প্রতিধ্বনি, ল্যাম্পপোস্ট, মশাল, ব্লাড ডোনার সোসাইটি, স্তবক, সাংবাদিক সমিতি উল্লেখযোগ্য।

দশ বছর পূর্তি উপলক্ষে উপাচার্য ড. এম অহিদুজ্জামান বলেন, ‘আমি মনে করি দশম বছরটি ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবর্তনের বছর। আমি যোগদানের পর পরই বিশ্ববিদ্যালয়কে সেশনজট মুক্ত করার পদক্ষেপ নিয়েছি। ইউজিসি থেকে ২৩৮ কোটি ৪৮ লাখ টাকার উন্নয়ন বিল পাশ করিয়েছি। ফলে ক্লাসরুম, ল্যাবরুম ও আবাসনের যে সমস্যা ছিল তা অচিরেই দূর হবে। তাছাড়া ইতোমধ্যে ইউজঊঘ-এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট চলে এসেছে। ঈদের পর পরই শিক্ষার্থীরা এর সুবিধা ভোগ করবে।’

তিনি আরও বলেন ‘বাংলাদেশে আমরাই প্রথম বাংলাদেশর এ্যান্ড লিবারেশন ওয়ার স্টাডিজ বিভাগ চালু করেছি এবং প্রত্যেক বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি বাধ্যতামূলক কোর্স হিসেবে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস নামক কোর্স চালু করার ফলে শিক্ষার্থীরা বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশ সম্পর্কে আরও বেশি জানতে পারছে।

উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয় সিনেটের সিদ্ধান্ত মতে এবারের বিশ্ববিদ্যালয় দিবস এবং প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ২২ জুনের পরিবর্তে ১৫ জুলাই পালন করা হবে।

নাজমুস সাকিব সাদী