২৩ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৮ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

সার্ক সাংস্কৃতিক রাজধানী


সার্কের সাংস্কৃতিক রাজধানী তথা কালচারাল ক্যাপিটালের মর্যাদা পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশের একটি শহর। সংবাদটি আশা জাগানিয়া এবং গর্বিত হওয়ার মতো। মুক্তবুদ্ধি ও মুক্তসংস্কৃতি চর্চার চারণক্ষেত্র হিসেবে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রয়েছে। এখানকার পরিবেশ মুক্তপ্রাণের সন্ধান করে। ইতিহাস, ঐতিহ্য আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক লীলাভূমি এ দেশ। শুধু দেশীয় বা আঞ্চলিক সংস্কৃতিই নয়, বিশ্ব সংস্কৃতিরও আবহ রয়েছে এদেশে। আসলে ইতিহাস-ঐতিহ্যে বিচ্ছিন্ন কোন সংস্কৃতির অবস্থান নেই। সংস্কৃতি হলো রাজনীতি ও অর্থনীতির প্রতিফলন। সমাজের অর্থনীতি ও রাজনীতির ওপর তার সাংস্কৃতিক রূপ ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য নির্ভরশীল। যদিও অর্থনীতিই সমাজের ভিত্তিস্বরূপ। তার ওপরই গড়ে ওঠে রাজনীতি-দর্শন-সংস্কৃতি, বুদ্ধিবৃত্তিক ও সৃজনশীল বিষয়াবলী- যা বিকাশমান হয় বিনিময় বা সম্প্রসারণের মাধ্যমে। হাজার বছরের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রয়েছে আমাদের। এই অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে সাংস্কৃতিক বিকাশ তথা বিনিময়ে দক্ষিণ এশিয়া আঞ্চলিক সহযোগিতা সমিতি (সার্ক) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। সেই ধারাবাহিকতায় গত বছর থেকে সার্কের কালচারাল ক্যাপিটাল ঘোষণার রেওয়াজ শুরু হয়। এবার সার্কের কালচারাল ক্যাপিটাল ঘোষণার সময় পিছিয়েছে। তবে আশার কথা, অক্টোবর নাগাদ বাংলাদেশের তিন জেলা শহরের মধ্যে একটিকে বেছে নিয়ে এক বছরের জন্য কালচারাল ক্যাপিটাল ঘোষণা করবে সার্কের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান সার্ক কালচারাল সেন্টার। এইজন্য দেশের তিনটি ঐতিহ্যবাহী জেলা বগুড়া, কুষ্টিয়া ও কুমিল্লাকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

সার্কের প্রথম সাংস্কৃতিক রাজধানী ঘোষণা করা হয় সার্কের ৮ম অন্তর্ভুক্ত দেশ আফগানিস্তানের ঐতিহাসিক নগরী বামিয়ানকে। গত বছরের জানুয়ারি মাস থেকে বামিয়ান নগরী সার্কের সংস্কৃতির সাজে সেজেছে। গত বছর ডিসেম্বরে এক বছর পূর্ণ হওয়ার পর চলতি বছর সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়েছে। আফগানিস্তানের ওই নগরীতে সার্কভুক্ত আট দেশের সাংস্কৃতিক কার্যক্রম শেষ হওয়ার সঙ্গেই বাংলাদেশের নাম ঘোষিত হবে। সে ব্যাপারে ব্যাপক প্রস্তুতিও নেয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর পক্ষ থেকে। এরই মধ্যে দেশের সর্ব উত্তরের পঞ্চগড় জেলার বাংলাবান্ধা ট্রানজিট পয়েন্টকে স্থলবন্দরে রূপান্তর করে সার্কভুক্ত চারটি দেশের যাত্রী ও যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। বাংলাবান্ধা সীমান্তের ওপারে ভারতীয় অংশের দশ কিলোমিটার পরই পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ি। একই পয়েন্ট থেকে নেপাল ও ভুটানের দূরত্ব যথাক্রমে ৪০ ও ১শ’ ৩০ কিলোমিটার। বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক রাজধানী থাকাকালীন চার দেশের সড়ক যোগাযোগ খুবই সহজ হবে। তবে শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও মালদ্বীপের লোকজনকে উড়াল পথেই আসতে হবে। তিনটি জেলার সার্বিক অবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন জরিপ ও বিশ্লেষণ করে এখন পর্যন্ত উত্তরাঞ্চলের প্রাচীন নগরী মহাস্থানগড়কে কেন্দ্র করে বগুড়া কালচারাল ক্যাপিটাল হিসেবে তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছে। রাজধানী ঢাকা থেকে যাতায়াতের সুব্যবস্থা, উন্নত পথঘাট, আবাসন ও মিলনায়তন এসব দিক বিবেচনায় আড়াই হাজার বছরের প্রাচীন এই এলাকাকেই শীর্ষাবস্থানে বেছে নেয়া হয়েছে।

বাংলাদেশের কোন নগরীকে সার্ক কালচারাল ক্যাপিটাল ঘোষণায় সার্কভুক্ত দেশগুলোতে মানুষে মানুষে যোগাযোগের অপূর্ব সুযোগ সৃষ্টি হবে। আমাদের শিল্প-সাহিত্য সংস্কৃতি কত সমৃদ্ধ ইতিহাসের কত গভীরে গ্রোথিত তা দেখে যাবে সার্কভুক্ত দেশের মানুষও। এই কার্যক্রমে পর্যটনেরও ব্যাপক বিকাশ ঘটতে পারে। কালচারাল ক্যাপিটাল হিসাবে বাংলাদেশের তিন জেলার যে স্থানই নির্বাচিত হোক, দেশের মানুষ এতে খুশি হবে তাতে কোন সন্দেহ নেই।