মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২১ আগস্ট ২০১৭, ৬ ভাদ্র ১৪২৪, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

অন্ধকারে রইব না

প্রকাশিত : ৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৬

মশিউর রহমান

শিক্ষার্জনের অন্যতম বাহন বই। বই পড়লে জ্ঞান বাড়ে। শরীর, মন উভয়ই ভাল থাকে। যারা বই পড়ে এটা তাদের নেশা। আলো যেমন অন্ধকার দূর করে, বইও তেমন মনের আঁধার দূরীভূত করে। তাই বেশি বেশি বই পড়ে নিজেকে জ্ঞানের আলোয় উদ্ভাসিত করি। বইপড়া নেশা হলেও সকলের মাঝে এর প্রবণতা লক্ষ করা যায় না। এ নেশা সবাই অর্জন করতে পারে না। বই পড়লে শুধু চলবে না। এর থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেকে উদার ও উন্নত হতে হবে। বই শিক্ষা দেয় জীবন পরের তরে। তেমনি বই পড়ে পরের স্বার্থে এগিয়ে যেতে হবে। তবে পরিবার, সমাজ, দেশ, রাষ্ট্র তথা সমগ্র বিশ্ববাসী সুফল লাভ করবে। বই হলো নিঃস্বার্থ। বই শিক্ষা দেয়, শিক্ষিত করে তোলে। শিক্ষার প্রাথমিক বলয়ের মাঝে গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষার শুরু পরিবারে। পরিবারে প্রধান ভূমিকা মা। মায়ের হাতে শিক্ষার বুনিয়াদ। নেপোলিয় বোনাপার্টের অমর উক্তি- আমাকে একটি শিক্ষিত মা দাও, আমি তোমাদেরকে শিক্ষিত জাতি উপহার দেব। শিক্ষা নিতে হলে বই পড়তে হবে। এর কোন বিকল্প নাই। প্রাথমিকভাবে মা বই ধরিয়ে অ আ, ক, খ বলতে শেখায়। আস্তে ধীরে, বড় হয়। মা, সঠিক তদারকি করলে কোন সন্তান ভূলুণ্ঠিত হতে পারে না। মায়ের সুশিক্ষার অভাবে বড় হয়ে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় শিক্ষার গতি লাইনচ্যুত হয়। এই হচ্ছে আজ বাস্তবতা ও চরম সত্য। বই এমন এক জিনিস যার মাধ্যমে ভাল-মন্দ বুঝতে শিখি। বই অতুলনীয়। আজ বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে বই থেকে ছিটকে পড়েছি। বই পড়ার আগ্রহ কম। জ্ঞানের অভাবে অভাগা জাতি দিন দিন অধঃপতনে যাচ্ছে। এ দেশে প্রচুর বই আছে। পাঠক কম। পাঠক বৃদ্ধির জন্য প্রচার খুব দরকার। এ জন্য পরিবার থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয়ভাবে পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন। বই পড়তে হবে। রুচি ও মন-মানসিকতার পরিবর্তন করতে হবে। মন, মগজে ধারণ করে হৃদয়ে লালন করে এগোতে হবে। তাহলে পরিত্রাণ সম্ভব।

ভাষার মাসে বইয়ের সমাহার। বিশাল আয়োজনে মেলা বসে। মাসব্যাপী চলে। প্রতিদিন অগণিত দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে। বইপোকা তেমন চোখে পড়ে না। এ হলো আমাদের ব্যর্থতা, যে পরিমাণে আগমন ঘটে সে তুলনায় বই পাঠকের ঘরে যায় না। এ ঘেরাটোপ থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। দিন দিন যেন বেসামাল রেলগাড়ির মতো লাইনচ্যুত হয়ে পড়ছি। আমরা বই না পড়লে তাহলে দেশ-জাতি এগোবে কিভাবে? তাই সবাই মিলে বই পড়ার জন্য তাগিদ দিতে হবে। সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে। তাহলে সম্ভব উন্নত দেশ ও জাতি গঠন করা। বই পড়ার মাধ্যমে সব অশুভ শক্তিকে দূর করতে হবে। এই হোক আগামীর প্রত্যাশা। তাই বেশি বেশি বই পড়ি। উদার মন নিয়ে এগিয়ে আসি সকলের তরে। এই হোক আগামী প্রজন্মের জন্য অঙ্গীকার।

কুড়িগ্রাম সদর থেকে

প্রকাশিত : ৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৬

০৪/০২/২০১৬ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


শীর্ষ সংবাদ: