২৩ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই ঘন্টায়  
Login   Register        
ADS

ন্যাস্টি এ্যামনেস্টি


বাংলায় একটি প্রবাদ রয়েছে- ‘টাকায় বাঘের চোখও মেলে’। আর একুশ শতকে এসে নয়া প্রবাদ রচিত হলো : ‘টাকায় এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও বিক্রি হয়।’ নামে মানবাধিকারের রক্ষক হলেও আসলে তারা টাকার বিনিময়ে, তথাকথিত মানবাধিকার রক্ষায় শশব্যস্ত হয়ে পড়ে। তাই গণহত্যাকারী, যুদ্ধাপরাধী এবং মানবতার শত্রুদের রক্ষার জন্য তারা অসত্যকে সত্য, বাস্তবতাকে অবাস্তবে পরিণত করতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করে না। তাই সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদের ধারকে রূপান্তরিত হয়ে পড়েছে সংগঠনটি। নব্য হানাদারবাহিনী ও রাজাকারে পরিণত হওয়া আন্তর্জাতিক সংগঠনটি একাত্তরে রাজাকার, আল বদর, আল শামস যেভাবে কথা বলত, সেই একই ভাষায় কথা বলছে। ওদের ঔদ্ধত্য সীমাহীন, স্পর্ধাও চরমে।

মুক্তিযুদ্ধকালের মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের পক্ষে কথা বলে এবং মুক্তিযোদ্ধাদের বিচার চেয়ে এ্যামনেস্টি প্রমাণ করেছে, এটি একটি মানবতাবিরোধী ও জঙ্গী সংগঠন। অর্থের বিনিময়ে এরা পারে না হেন কাজ নেই। যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষার জন্য তাদের যে আবদার তা মূলত বাংলাদেশের আইন ও সংবিধানকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন। যুক্তরাষ্ট্র যখন ইরাক, আফগানিস্তান ও সিরিয়ায় বোমা মেরে নারী, শিশুসহ অসংখ্য মানুষকে হত্যা করছে, তখন এ্যামনেস্টি একটা টু শব্দও করে না। অথচ বাংলাদেশে যখন কোন যুদ্ধাপরাধীর রায় কার্যকরের সময় আসে, তখন তারা বেশ সক্রিয় হয়ে যায়, হয়ে ওঠে সোচ্চার। এতদিন বলার চেষ্টা করেছে তারা মৃত্যুদ-ের বিরুদ্ধে, তাই বিচার বন্ধ চায়। কিন্তু যুদ্ধাপরাধী ছাড়াও তো অনেকের মৃত্যুদ- হচ্ছে। তাদের বিষয়ে তাদের কোন ভাষ্য মেলে না। বাংলাদেশে একাত্তরের গণহত্যাকারী, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধকারী ও যুদ্ধাপরাধীদের চলমান বিচারের বিরুদ্ধে এ্যামনেস্টি যে ভাষায় বিবৃতি দিয়েছে, যুদ্ধাপরাধীদের দল জামায়াতে ইসলামী এবং তাদের সহযোগীরা গত পাঁচ বছর ধরে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে একই ভাষায় কথা বলেছে। রাজাকারদের রক্ষার জন্য তারা যেভাবে মায়াকান্না জুুড়েছে, গণহত্যার ভিকটিমরা যে চার দশকের অধিককাল বিচারের দাবিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে মাথা ঠুকেছে, সে বিষয়ে তারা কোন উদ্বেগ বা সহমর্মিতা প্রকাশ করেনি। এমনকি একাত্তরের গণহত্যা চলাকালেও এ্যামনেস্টি এর নিন্দা করে গণহত্যাকারীদের বিচার ও শাস্তি দাবি করেনি। হঠাৎ করে একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধাদের বিচারের দাবি জানিয়ে সংস্থাটি গণহত্যাকারী পাকিস্তানী হানাদারদের পক্ষে অবস্থান নেয়ার নেপথ্যে আর্থিক লেনদেনই মুখ্য। জামায়াত-বিএনপি কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে ‘লবিস্ট’ নিয়োগ করেছে যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষা এবং সরকারকে উৎখাত করার জন্য। এ্যামনেস্টির ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য বাংলাদেশের স্বাধীনতার চেতনার বিরুদ্ধে। একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধারাও যুদ্ধাপরাধ করেছে বলে শুধু প্রশ্ন তোলেনি, মুক্তিযোদ্ধাদের যুদ্ধাপরাধী হিসেবে বিচারের দাবি তোলার পাশাপাশি যুদ্ধাপরাধীদের মুক্তির জন্য তারা সোচ্চার হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সময়কালে মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারের শুরু থেকেই দাতাদের ঋণের ওপর নির্ভর করে চলা এ সংগঠনটি সেসব কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধীর বাঁচানোর জন্য উঠে পড়ে লাগে এবং তার অংশ হিসেবে নানা সময় মিথ্যা বানোয়াট ধৃষ্টতাপূর্ণ ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বক্তব্য দিয়ে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালকে বিতর্কিত করার চেষ্টা চালিয়ে আসছে। যা প্রমাণ করে আদতে তারা কোন মানবাধিকার রক্ষার সংগঠন নয় যেন প্রভাবশালী কুখ্যাত দানবদের বাঁচানোর এজেন্ডাপ্রাপ্ত একটি দানবাধিকার সংগঠন মাত্র! সংগঠনটির এই ন্যাস্টি কাজ বন্ধ করার জন্য সরকারকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে এদের অপকর্ম তুলে ধরতে হবে। রক্তে অর্জিত বাংলাদেশের স্বাধীনতা নিয়ে কটাক্ষ করার অধিকার কারও নেই। থাকতে পারে না।