২০ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

শেষ মুহূর্তে ঈদ বাজার ॥ গৃহবধূদের দখলে


জনকণ্ঠ ডেস্ক ॥ শেষ মুহূর্তে ঈদের বাজার নারীদের দখলে চলে গেছে। বিশেষ করে নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও নিম্ন বিত্ত পরিবারের গৃহবধূরা প্রিয়জনের জন্য সামর্থ্য মতো কেনাকাটা করতে এখন ঈদের বাজারে ভিড় করছে। স্টাফ রিপোর্টার ও নিজস্ব সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর-

খুলনা ॥ মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদ-উল- ফিতর দরজায় কড়া নাড়ছে। উৎসব উদযাপনের জন্য সকলের এখন ফুরসতহীন ব্যস্ততা। কেনাকাটা করতে খুলনার বিভিন্ন মার্কেট ও ব্যবসাকেন্দ্রে সর্বস্তরের মানুষের উপচেপড়া ভিড়। জামা-কাপড় থেকে শুরু করে জুতা-স্যান্ডেল, প্রসাধনী, আতর, টুপি, ঈদকার্ড কোন কিছুই কেনাকাটায় বাদ যাচ্ছে না। খুলনায় এবারও মহিলাদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে শাড়ি এবং মেয়েদের কাছে লম্বা কামিজ ও পালাজ্জোর কদর অনেক বেশি। বাজারমুখো জনস্রোত বৃদ্ধি পাওয়ায় নগরীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। বাজার এলাকার কয়েকটি রাস্তায় যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার নগরীর কেডিএ নিউমার্কেট, এসি মার্কেট, জলিল টাওয়ার, রেলওয়ে মার্কেটসহ বিভিন্ন মার্কেট ও বাজার ঘুরে দেখা যায় নারী-পুরুষ-শিশু, কিশোর-কিশোরী, তরুন-তরুণীসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ ঈদ শপিং করছেন। অভিজাত বিপণি কেন্দ্র থেকে শুরু করে ফুটপাথের দোকান সর্বত্রই মানুষে ঠাসা।

কক্সবাজার ॥ মালয়েশিয়ায় মানবপাচার রোধকল্পে দালালদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের ধরপাকড় অভিযান অব্যাহত থাকায় মানবপাচারকারীরা লাপাত্তা হয়ে পড়েছে। এতে সাধারণ মানুষ ঈদের বাজারে কেনাকাটা করার সুযোগ পাচ্ছে। গত কয়েক বছর ধরে ইয়াবা ও মানবপাচারকারীদের টাকার গরমে হতদরিদ্ররা ঈদের বাজারে সল্প মূল্যের পণ্যাদি কিনতে পারেনি। মানবপাচারের গডফাদার শাহপরীদ্বীপের শরীফ হোছন, সোনারপাড়ার আবুল কালাম, সানা উল্লাহ, বেলাল মেম্বার, নুরুল কবির, ফয়েজ সিকদার, হুমায়ুন রশিদ বাপ্পু, মোসলেম উদ্দিন, রেজিয়া প্রকাশ রেবি ম্যাডাম ও জালালসহ অন্তত তিন শতাধিক দালাল এলাকা ছাড়া হওয়ায় উখিয়া ও টেকনাফের বিপণি বিতানসমূহে ঈদের কেনাকাটা বেশ জমে উঠেছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ ॥ ওরা দেশে ঈদ বাজার করে না। তাই এবারও নানান অজুহাত খাড়া করে দেশের বাইরে ভারতের কলিকাতা, বোম্বে, মাদ্রাজ ও দিল্লী গেছেন। অনেকে আবার পরিবেশের দোহাই দিয়ে গেছে দার্জিলিং। উদ্দেশ্য ঈদ বাজার। তবে কেউ ঘোষণা দিয়ে বলেনি ঈদ বাজার করতে যাচ্ছি। স্থানীয়ভাবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী কিংবা খোদ রাজধানী ঢাকাও ওদের কাছে পাড়া গায়ের মতো। ঈদ বাজারের উপযুক্ত স্থান নয়।

মাদারীপুর ॥ সময় যতই ঘনিয়ে আসছে ততই জমে উঠেছে মাদারীপুরে ঈদের কেনাকাটা। বাহারি রঙের পোশাক সাজিয়ে বিক্রি করছেন দোকানিরা। আর সব শ্রেণীর মানুষ ছুটছে ঈদের পোশাক কিনতে। মাদারীপুর শহরের প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র পুরানবাজারের বিপণি বিতানগুলোতে চলছে ঈদের পোষাক কেনাকাটার উৎসব। সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ক্রেতাদের পদচারণায় মুখরিত শহরের আমিন সুপার মার্কেট, নিউমার্কেট, হাওলাদার মার্কেট, বিথি মিনি বাজার, সিটি মার্কেটসহ প্রতিটি বিপণি বিতান।

বরগুনা ॥ ঈদকে সামনে রেখে শেষ মুহূর্তে বরগুনায় জমে উঠেছে ঈদ বাজার। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত দোকানে দোকানে ক্রেতাদের ভিড় দেখা যাচ্ছে। দিনরাত তাই ব্যস্ত সময় পার করছেন দোকানিরা।

শেরপুর ॥ শেরপুরে ঈদ বাজারে শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছে নিম্নবিত্ত থেকে শুরু করে নিম্নবিত্ত পর্যন্ত সকল শ্রেণীর মানুষ। ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে শেরপুরে ঈদের কেনাবেচাও তত জমে উঠেছে। শেরপুর জেলা শহরের সকল মার্কেট, বিপণি বিতানসহ ফুটপাথের দোকানগুলোয় এখন সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ঈদের কেনাকাটা করতে উপচে পড়া ভিড় দেখা যাচ্ছে। পোশাকের পাশাপাশি ভিড় জমেছে বেড়েছে ইলেকট্রিক যন্ত্রপাতি বিক্রির শোরুমগুলোতেও। বিশেষ করে বিপণিবিতানগুলো নারী ক্রেতাদের দখলে থাকছে। এবারের ঈদ বাজারে মহিলা ক্রেতারা কিনছেন অপেরা সিল্ক, জর্জেট, টিস্যু শাড়ি, কাতান, জুট ও ঢাকাইয়া জামদানী, টাঙ্গাইলের তাঁতের ও সুতির নকশি শাড়ি।

বাগেরহাট ॥ বাগেরহাটে ক্রেতাদের পদচারণায় ঈদবাজার শেষমুহূর্তে অভূতপূর্ব মুখরিত। কেনাকাটার ধুম পড়েছে। এখানে ঈদবাজারের প্রায় প্রতিটি দোকানে উপচেপড়া ভিড়। নতুন নতুন অসংখ্য দোকান। তবুও প্রতিটি দোকানি মহাব্যস্ত। ক’দিন আগেও যে দোকানে দু’জন মাত্র কর্মচারী ছিল, এখন সেই দোকানে ৬/৮ জন। তবুও ফুসরত নেই। ছোট-বড় সব দোকানই রং-বেরঙের বাহারি সাজে, নকশায় সেজেছে, আলোক ঝলকানিতে ঝলমল করছে। জেলা সদর থেকে উপজেলা প্রায় প্রতিটি মার্কেটে একই অবস্থা। উপকূলীয় এ জেলায় এমন জমজমাট ঈদবাজার দৃশ্যত অভূতপূর্ব।