১৮ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৪ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

নাড়ির টানে ঘরে ফেরা


ড. এনইউ জামি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। প্রতি ঈদেই নাড়ির টানে বাড়ি যান। মা-বাবার বয়স হয়েছে। তাই ছুটি মিললেই ছুটে যান মায়ের আদর আর বাবার স্নেহ নিতে। এবার ঈদে বাড়ি ফেরার পেছনে বিশেষ কারণ আছে। ঈদের পরে মালা পরাবেন জীবনের সুখ-দুঃখের সাথীকে। তাই ঘরে ফেরা অন্য বারের চেয়ে এবার ভিন্ন আনন্দের। বাসের টিকেটের আশায় লাইনে দাঁড়িয়ে অনিয়ম দেখে ব্যথিত হন। একজন জানান, বাড়তি টাকা দিলে টিকেট মিলবে। লোকটির কথা শুনে বড্ড অভিমান হয় তাঁর। সুদর্শন দেখে ছাত্র মনে করেছে হয়ত তাকে? শ্যেন দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকেন। ছাত্রছাত্রীদের নৈতিকতার শিক্ষা দেন যে মানুষটি তিনি কী করে আদর্শচ্যুত হবেন! অনেকেই বাড়তি টাকা দিয়ে টিকেট কিনে মনের আনন্দে ফিরছেন। দুপুর গড়িয়ে বিকেল। এক কাউন্টার থেকে অন্য কাউন্টারে ঘুরছেন। গরমে জামা ভিজে একাকার। কিন্তু না! টিকেট মিলল না। হতাশা নিয়ে বাসার দিকে পা বাড়ালেন। ইফতার সারলেন রাস্তায়। পরের দিন ছুটি নিয়ে গেলেন টিকেটের জন্য। কিন্তু ‘পূর্ণিমার চাঁদ’ হাতে পেলেন না। রাতে হবু সহধর্মিণী ফোন করে জানতে চাইলেন কবে আসবে সখা? তার ইচ্ছে দু’জনে একসঙ্গে বিয়ের কেনাকাটা করবে। ট্রেনের টিকেটের জন্য সেহরি খেয়েই কমলাপুর স্টেশনে গিয়ে দেখেন মানুষের ঢল। একজন টেরর জানালেন লাইনের সামনের দিকে জায়গা করে দেবে। বিনিময়ে...। কর্তব্যরত কর্মী জানালেন বাড়তি টাকা দিলে ভেতর থেকে টিকেট এনে দেবে। দুপুর গড়িয়ে কাউন্টারের সামনে গিয়ে জানতে পারলেন কাক্সিক্ষত তারিখের টিকেট শেষ! হবু স্ত্রীর কাছে মুঠোফোন জানতে চাইলেন ঈদের আগের দিন রাতের টিকেট কাটবেন কিনা? মনে কষ্ট পেলেও জবাব পেলেনÑ ‘হ্যাঁ’। টিকেট হাতে পেয়ে ভাবলেন রাতের ট্রেনটি যথাসময়ে স্টেশনে আসবে তো? নাকি প্রতি বছরের মতো এবারও পরের দিন সকালে আসবে! এক অজানা শঙ্কা এসে ভর করে তরুণ শিক্ষকের মনে। তারাবি শেষে ড. এনইউ জামি ডায়েরিতে লেখেনÑ ‘এই শহরের লাখো মানুষ প্রিয়জনের সঙ্গে খুশির ঈদ উদ্যাপনে শেকড়ের টানে বাড়ি ফিরবেন। অথচ বাস, রেল, লঞ্চের টিকেট পাওয়া থেকে রাস্তায় অপেক্ষা করে নানা বিড়ম্বনা। আতঙ্ক আর শঙ্কায় থাকেন ঈদে ঘরমুখো মানুষ। মানুষের এই ভোগান্তি দীর্ঘদিনের। সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তারা বড় গলায় বলেন, ‘এবারের ঈদে মানুষ নিরাপদে ঘরে ফিরতে পারবেন।’ অথচ টিকেটপ্রাপ্তি ও বাড়তি ভাড়া গোনার ভোগান্তি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা গাড়ির জন্য অপেক্ষা করা। রাস্তার খানাখন্দ ও যানজটের কারণে ৬ ঘণ্টার পথ ২৪ ঘণ্টা লাগে পৌঁছাতে। বাস, ট্রেন ও লঞ্চ দুর্ঘটনায় প্রাণহানি প্রতিবছই ঘটছে। যেন দেখার কেউ নেই? কখনও মনে হয় ‘উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ’। সরকারী পরিবহন বিআরটিসি বাস, লঞ্চ, রেলের সংখ্যা অপ্রতুল। রাস্তার পরিধি বাড়ানোর দাবি এবং প্রয়োজনীয়তা দীর্ঘদিনের। প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ যেখানে ডিজিটাল সুবিধা পাচ্ছে, সেখানে যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রতি অনীহা কেন? এ কথা ভুললে চলবে না যে, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থাই অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।

আহা! মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যদি জনগুরুত্বপূর্ণ এই বিষয়টির প্রতি নজরদারি বাড়াতেন?’

তেজগাঁও, ঢাকা থেকে