২২ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

বোমাক্রান্ত পাঠ্যবই ও পরীক্ষা


কী অপরাধ তাদের- সেই ফুটফুটে একদা হাসিহাসি মুখ, উচ্ছ্বাসে কলরবে মত্ত হওয়া শিক্ষার্থীরা যেমন জানে না, তেমনি জানে না তাদের অভিভাবক এবং শিক্ষকরাও। তাদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাটি দিতে হচ্ছে ধুঁকে ধুঁকে। জীবনকে পেট্রোলবোমায় আতঙ্কের ভেতর দিয়ে পরীক্ষার হলে প্রবেশ করতে হয়। ভয় হয়। চোখে ভাসে পাকিস্তানের পেশোয়ারে স্কুলে আত্মঘাতী বোমা হামলায় ১৪১ শিক্ষার্থীর নির্মম মৃত্যুর দৃশ্য। হরতাল ডেকে পরীক্ষা বন্ধ করে দিয়ে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে পরীক্ষার সময়ও অবরোধ চালু রেখে পরীক্ষার্থী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে যেন যুদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। একতরফা এ যুদ্ধের আয়োজন রাজনৈতিক সাইন বোর্ডের কথিত আন্দোলন নামক বায়বীয় বিষয়কে সামনে রেখে। কোথাও কোন আন্দোলনের চিহ্ন নেই। আছে চোরাগোপ্তা হামলা। আর এ কাজটি করে থাকে সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গীবাদে বিশ্বাসী ধারক-বাহকরা।

জঙ্গীবাদীদের প্রধান শত্রু শিক্ষাদীক্ষা। নাইজেরিয়ার জঙ্গী সংগঠন ‘বোকো হারাম’ শিক্ষাব্যবস্থার বিরুদ্ধে। সংগঠনটি নামের অর্থই পশ্চিমা শিক্ষা পাপ। তাই তারা শতাধিক স্কুল শিক্ষার্থীকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। আফগানিস্তানেও তালেবান, আল কায়েদারা মেয়েদের শিক্ষার বিরুদ্ধের পাশাপাশি পুরুষদের উচ্চশিক্ষারও বিরুদ্ধে ছিল। বাংলাদেশেও জঙ্গীবাদীদের সহায়ক এবং সন্ত্রাসবাদে বিশ্বাসী বিএনপি-জামায়াত জোট শিক্ষার বিরুদ্ধে, যা মানুষের মৌলিক অধিকার, তার বিপরীতে যুদ্ধংদেহী অবস্থান নিয়েছে। এসএসসি পরীক্ষার প্রথম দিন থেকেই টানা ৫ দিনের হরতাল ডেকে তারা পরীক্ষায় প্রতিকূলতা তৈরি করে। এখনও পরীক্ষা চলছে, তাই আবারও হরতাল ডেকে শিক্ষার পথে কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গত ১ জানুয়ারি দেশের শিক্ষার্থীরা নতুন ক্লাসের নতুন বই হাতে পেয়েছে। কিন্তু বই পেলেও ক্লাস আর হয় না। পেট্রোলবোমা তাদের শিক্ষার পথকে সঙ্কুচিত করে দিয়েছে। ক্লাস হচ্ছে না, বন্ধের এই সময়গুলো অপচয় হচ্ছে। শিক্ষার সময়গুলো পেরিয়ে যাচ্ছে। শত অনুরোধে বিএনপি- জামায়াত নাশকতামূলক কর্মসূচী প্রত্যাহার বা স্থগিত করেনি। উপরন্তু তাদের নেতা তো বলেই ফেলছেন- কীসের পরীক্ষা? আগে গণতন্ত্র আসুক। কিন্তু কীসের গণতন্ত্র, তা স্পষ্ট নয়। জঙ্গী সন্ত্রাসীদের জোর করে ক্ষমতায় বসার গণতন্ত্র সম্ভবত।

দেশের কোমলমতি শিশু ও স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের চরম শত্রু বিএনপি-জামায়াত জোট জঙ্গীপনা বিকাশে প্রাথমিক শিক্ষা বোর্ডের বিনামূল্যে প্রদানের বইভর্তি ট্রাকে পেট্রোলবোমা মেরেছে। আগুনে ট্রাকসহ ৩৭ হাজার ৮শ’ ৮টি বিনামূল্যের পাঠ্যপুস্তক পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। শিক্ষার্থীরা এই শিক্ষাবিরোধী তৎপরতাকে রুখতে জনগণের সমর্থন পাবেই। শিক্ষাবিরোধী এই ধারা কঠোর হস্তে দমন করা হবে- মানুষ এটাই চায়।