ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১০ ফাল্গুন ১৪৩০

মিরপুরে বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড টেস্ট

প্রথম দিনে স্পিনেই ১৫ উইকেটের পতন

মো. মামুন রশীদ

প্রকাশিত: ২২:২৪, ৬ ডিসেম্বর ২০২৩

প্রথম দিনে স্পিনেই ১৫ উইকেটের পতন

নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে উইকেট শিকারের উল্লাস বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের

মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম ২২ গজের এক বিস্ময়কর মঞ্চ। এখানে ব্যাটারদের নাজেহাল হওয়ার মতো প্রচুর রসদ রয়েছে যা স্পিনারদের জন্য অজান্তেই সুফল হয়। অনেক প্রস্তুতিও এখানে অকেজো হয়ে যায়। বাংলাদেশের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টে নামার আগে তাই মানসিকভাবে এবং শারীরিক শ্রম ঢেলে ভালোভাবেই প্রস্তুতি নিয়ে নেমেছে সফরকারী নিউজিল্যান্ড। কিন্তু তা শুধু বোলিংয়ের সময়েই কার্যকর হয়েছে তাদের জন্য। তাই স্পিনারদের দাপটে না বলে আসলে বাংলাদেশী ব্যাটারদের বদান্যতায় স্বাগতিক দলকে বুধবার শুরু হওয়া দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিনেই ১৭২ রানে গুটিয়ে দিয়েছে।

কিন্তু পরে আবার ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশী স্পিনারদের দাপটে ৫৫ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়েছে তারা। এদিন দুই দল মিলিয়ে স্পিন ভেল্কিতে ১৫ উইকেটের পতন ঘটায়। পেসার হিসেবে একমাত্র উইকেট নিয়েছেন নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক টিম সাউদি এবং আরেকটি মুশফিকুর রহিমের বিরল ‘অবস্ট্রাক্টিং দ্য ফিল্ড’ থেকে এসেছে। মিরপুরে এর আগে ২৬ টেস্ট হয়েছে, কখনোই একদিনে এত বেশি উইকেটের পতন ঘটতে দেখা যায়নি। আর তাই স্বল্প পুঁজি নিয়েও প্রথম দিন শেষে মিরপুর টেস্টের নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশের। মিরপুরে স্পিনাররা সহায়তা পান এটাই নৈমিত্তিক ঘটনা। টেস্টের একেবারে প্রথম দিন থেকেই ভয়াল রূপ ধারণ করতে দেখা যায়নি।

কিন্তু সিরিজ জিততে মরিয়া বাংলাদেশ হোম অ্যাডভান্টেজ নিয়ে কিউইদের কুপোকাত করার জন্য ঘূর্ণিজাল বিছিয়েছে। সেই গোলকধাঁধায় প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নিজেরাই বিপাকে পড়ে বাংলাদেশ। লেগস্পিনার ইশ সোধিকে বসিয়ে বাঁহাতি স্পিনার মিচেল স্যান্টনারকে নিয়েছে নিউজিল্যান্ড। প্রথম টেস্টে বাংলাদেশের বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল বিধ্বংসী ছিলেন। তাই আরেক বাঁহাতি স্পিনার এজাজ প্যাটেলকেও রেখেছে কিউইরা। সেটা বেশ কার্যকর পদক্ষেপ হিসেবেই প্রমাণ হয়েছে। প্রথম ওভার থেকেই বল ধীরগতিতে এবং নিচু হয়ে আসতে শুরু করে। তখনই শঙ্কা তৈরি হয় ব্যাটারদের সাফল্য পাওয়ার ব্যাপারে। কিছুক্ষণ পরই তা সত্য হতে শুরু করে। যদিও জাকির হাসান অহেতুক তুলে মারতে গিয়ে (২৪ বলে ৮) স্যান্টনারের শিকার হয়েছেন। পরের ওভারেই মাহমুদুল হাসান জয়কে (৪০ বলে ১৪) সাজঘরে ফেরান এজাজ।

দু’জন মিলে বেসামাল করে দেন বাংলাদেশী ব্যাটারদের। তবে স্বাগতিক ব্যাটারদের বাজে শট নির্বাচন এবং মুশফিকের বিরল ‘অবস্ট্রাক্টিং দ্য ফিল্ড’ থেকে সাজঘরে ফেরাটাও বড় ভূমিকা রেখেছে। তাই স্যান্টনার-এজাজ বাংলাদেশের ৪৭ রানে ৪ উইকেট তুলে নিয়েছেন। কিন্তু শাহাদাত হোসেন দিপুকে নিয়ে ৫৭ রানের জুটি গড়ে মুশফিক ভালো একটি অবস্থানে নিয়ে যাচ্ছিলেন স্বাগতিকদের। কিন্তু ইনিংসের ৪১তম ওভারে পেসার কাইল জেমিসনের করা অফস্টাম্পের ওপরের বল দারুণভাবে ডিফেন্ড করেও সেটি লাফিয়ে উঠলে হাত দিয়ে সজোরে ধাক্কা দেন তিনি এবং কিউই ফিল্ডারদের আবেদনে মুশফিককে আউট দেওয়া হয়। সেটাই বড় টার্নিং পয়েন্ট ম্যাচের। 
এরপর গ্লেন ফিলিপসের অফস্পিনেও বিপর্যস্ত হয়েছেন বাংলাদেশী ব্যাটাররা। তিনি ১০২ বলে ২ চারে ৩১ রান করা শাহাদাত হোসেন দিপুকে, নুরুল হাসান সোহানকে (১৬ বলে ৭) ও তাইজুলকে (১২ বলে ৬) শিকার করেছেন। আর ভালো খেলতে থাকা মিরাজকে ফিরিয়েছেন স্যান্টনার। ৪২ বলে ২ চারে ২০ রান করেন মিরাজ। মাত্র ৬৬.২ ওভারে ১৭২ রানে থামে বাংলাদেশের ইনিংস। স্যান্টনার ও ফিলিপস ৩টি করে এবং এজাজ ২টি উইকেট নেন। কিউই স্পিনাররা ৮ উইকেট নিয়েছেন। এরপর তারা ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই মিরাজ আর তাইজুলের দ্বিমুখী আক্রমণে কোণঠাসা হয়ে যায়।

উইকেটের যে চরিত্র দেখা গেছে তাতে করে এখানে টিকে থাকার লড়াই চালিয়ে গেলে ব্যর্থতা আসবে। তাই কিউই ব্যাটাররা দ্রুত রান তোলার পরিকল্পনায় ব্যাট চালিয়েছেন। এতেই উইকেটও হারাতে হয়েছে তাদের। আর মিরপুরের রাজা মিরাজ এবং দুর্দান্ত তাইজুল ঠিকই একের পর এক সাফল্য এনে দিয়েছেন দলকে। ১৪ বলে ১১ রান করা ডেভন কনওয়েকে বোল্ড করে শুরুটা করেছেন মিরাজ। পরে টম লাথাম (২০ বলে ৪) ও হেনরি নিকোলস (১০ বলে ১) তাইজুলের শিকার হয়েছেন। আর কেন উইলিয়ামসন (১৪ বলে ১৩) ও টম ব্লান্ডেলকে (০) তুলে নেন মিরাজ। আলোর স্বল্পতার জন্য দিনের ৮.২ ওভার খেলা বাকি থাকতেই খেলা শেষ হয়েছে।

আর চরম দুর্দশা থেকে আপাতত রক্ষা পেয়েছে কিউইরা। মিরপুরে টেস্টের প্রথম দিন থেকেই কখনো এর আগে স্পিনাররা বিভীষিকাময় পরিস্থিতি তৈরি করতে পারেননি। এমনকি টেস্টের প্রথম দিনেই মিরপুরে এদিনই সর্বাধিক ১৫ উইকেটের পতন ঘটেছে। সেটি হয়েছে স্পিনারদের বদৌলতেই, উইকেটও তাদের জন্য উদার হস্তে সহায়তা দিয়ে চলেছে।

×