ঢাকা, বাংলাদেশ   বুধবার ১৭ এপ্রিল ২০২৪, ৪ বৈশাখ ১৪৩১

দৈনিক জনকণ্ঠ ফ্যাশন পাতা

জলি রহমান

প্রকাশিত: ২২:৫২, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

দৈনিক জনকণ্ঠ ফ্যাশন পাতা

বছর ঘুরে আবার এলো প্রিয় প্রতিষ্ঠান দৈনিক জনকণ্ঠের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

বছর ঘুরে আবার এলো প্রিয় প্রতিষ্ঠান দৈনিক জনকণ্ঠের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। ১৯৯৩ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি একজন মুক্তিযোদ্ধা ও বিচক্ষণ মানুষের সম্পাদনায় এর যাত্রা। ফ্যাশন, শিক্ষাসাগর এবং যাপিত জীবনের মতো অনেক ফিচার পাতার শুরু জনকণ্ঠের মাধ্যমে। সময়ের পালাক্রমে সকল শিল্পই হয় বিকশিত। তেমনি পত্রিকা শিল্পও এখন অনেক বিস্তৃত। রয়েছে জাতীয় দৈনিক পত্রিকাসহ অসংখ্য অনলাইন পত্রিকা। ফিচার পাতায় এসেছে নানা রূপ ও বৈচিত্র্য। তবে এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, বেশ কিছু ফিচার পাতার কর্ণধার দৈনিক জনকণ্ঠ।
পত্রিকার সূচনালগ্ন থেকে সাপ্তাহিকভাবে প্রকাশিত হয় সকল ফিচার পাতা। দৈনিক জনকণ্ঠের প্রয়াত প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক আতিকউল্লাহ খান মাসুদ স্যার প্রতিটি পাতার মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছেন তার দূরদৃষ্টি। শুরু থেকেই দেশের পাঁচটি বিভাগীয় শহর (ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, বগুড়া ও সিলেট) থেকে একযোগে প্রকাশিত হয়েছিল দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকা। নীতির প্রশ্নে আপোসহীন এ পত্রিকা আলোড়ন সৃষ্টি করে দেশজুড়ে। বর্তমানে বহু পত্রিকার মধ্যেও মানুষ এক নামেই চেনে দৈনিক জনকণ্ঠকে।

প্রথম দর্শনেই যে কেউ ভেবে নেবে জনকণ্ঠ ভবন কোনো স্বপ্নচারীর সাজানো বাগান। দূরদৃষ্টিসম্পন্ন প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদকের অকাল প্রয়াণ হয় ২০২১ সালের ২২ মার্চ। চলে গেলেন সবাইকে কাঁদিয়ে। আজও অশ্রুভরা নয়নে স্মরণ করি। সময়ের আবর্তে এর জন্মলগ্ন এলেই নিজেকে গর্বিত মনে হয় দীর্ঘ ৩১ বছরের পথচলায় আমিও এখানে কর্মরত আট বছর যাবত। শুরু থেকে অর্থনীতি পাতা করলেও পরবর্তীতে যোগ হয় ফিচার পাতা ফ্যাশনও। বহুদিনের এ পথ চলায় জড়িয়ে আছে আনন্দ, হাসি ও কান্নার নানা স্মৃতি।

জনকণ্ঠে প্রকাশিত ফিচার পাতা ‘ফ্যাশন’ নানা মাত্রায় রূপ পেয়েছে বর্তমানে। আজকাল বিভিন্ন সংবাদপত্রে ফ্যাশন নিয়ে পাতা সাজানো হচ্ছে নিত্যনতুন আঙ্গিকে। তবে এ পথের কর্ণধার জনকণ্ঠ। হাল ফ্যাশনে কখন কি এলো এসবের খবর জানতে আজও মানুষ চোখ রাখে ফ্যাশন পাতায়। ঈদের মতো বড় বড় উৎসবেও সচেতন মানুষ কেনাকাটার আগে প্রচার মিডিয়া থেকে দেখে নেয় নতুন কি এলো এ বছরে। তাই ফ্যাশনপ্রেমীদের কাছে ফ্যাশন পাতার চাহিদা ও জনপ্রিয়তা বাড়ছে ক্রমান্বয়ে।

প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছেও পৌঁছে যাচ্ছে দেশ-বিদেশের ফ্যাশন ধারার খবর। তৈরি হয়েছে ফ্যাশন সাংবাদিকতায় একদল সংবাদকর্মী। যারা পোশাক-আশাকের নানা খবর জাতীয় দৈনিক ও অনলাইন পোর্টালে প্রকাশ করছে। পত্রিকার পাতায় চোখ বুলালেই পাওয়া যাচ্ছে ফ্যাশন নিয়ে নান্দনিক ফিচার। ফলে সময়োপযোগী করে নিজেকে সাজায় ফ্যাশনপ্রেমীরা। জনকণ্ঠের ডিজিটাল প্লাটফর্ম পত্রিকায় দিয়েছে ভিন্ন মাত্রা। এতে মোবাইল, কম্পিউটার অথবা ল্যাপটপ যে কোনো ডিভাইজে জনকণ্ঠ লিখে সার্চ দিলেই পাওয়া যায় দেশের সকল খবরাখবর। যা চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের আশীর্বাদও বটে।
চলছে ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের দিনেই যাত্রা শুরু করেছিল দৈনিক জনকণ্ঠ। পত্রিকার প্রতিটি পাতার মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও পৌঁছে যাচ্ছে যুগোপযোগী নানা সংবাদ। চলতি মাসের তিনটি উৎসব পহেলা ফাল্গুন, ভ্যালেন্টাইনস ডে এবং ভাষা শহীদ দিবস। এ কারণে ব্যস্ত সময় কাটায় দেশীয় ফ্যাশন হাউসগুলো। তৈরি করে নিত্যনতুন নান্দনিক পোশাক। ঋতু অনুযায়ী পোশাকে থাকে ভিন্ন ভিন্ন রঙের সমন্বয়।

১৪ ফেব্রুয়ারি বসন্তের বাসন্তী ও বিশ্ব ভালোবাসা দিবসের লাল রং পোশাকে থাকে নজরকাড়া। আর একুশে ফেব্রুয়ারির দিনটিতে থাকে সাদা-কালো রঙের একচ্ছত্র আধিপত্য। বাঙালিরা বরাবরই ফ্যাশন সচেতন। আর পত্রিকার ফ্যাশন সংবাদ তাদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে হাল ফ্যাশনের নান্দনিকতা। যখন যে ফ্যাশনের চল আসে তা খুব সহজেই ছড়িয়ে পড়ে সবার মধ্যে। এক্ষেত্রে সবসময়ই মুখ্য ভূমিকা পালন করে মিডিয়া বা সংবাদমাধ্যম।

বাংলাদেশ পোশাক শিল্পে অনেক উন্নত। রপ্তানি আয়ের সিংহভাগ আসে এ শিল্প থেকে। দেশেই তৈরি হয়েছে অনেক ফ্যাশন হাউস, যারা দেশীয় কাপড় দিয়ে পোশাক বানায়। এরা নিজেদের প্রমোট করতে দৈনিক পত্রিকা ও অনলাইন নিউজে নিয়মিত সংবাদ সংগ্রহ করে। পাশ্চাত্য ফ্যাশনের নানা উপাখ্যান প্রকাশের ফলে ডিজাইনাররা সহজেই মানুষের চাহিদা অনুযায়ী পোশাকের ডিজাইন করতে পারে। এজন্য দেশীয় পোশাকেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে আধুনিক তরুণ-তরুণীরা।

আরামদায়ক পোশাকের গুরুত্ব বাড়ছে বিশ^জুড়ে। পোশাকের ফিটিং হবে এমন যেন দেখতে ভালো লাগে এবং স্বাচ্ছন্দ্যময় হয়। এক সময় খুব চাহিদা ছিল জর্জেট কাপড়ের। মধ্যে কিছুকাল এর ব্যবহার তেমন দেখা যায়নি। এখন আবার জর্জেট ও সিনথেটিক মিক্সড কটন কাপড়গুলোর বাড়ছে চাহিদা। বর্তমানে বেশ জনপ্রিয় কটন কাপড়। আগে বাঙালি নারীরা ঘরে-বাইরে সবসময় শাড়ি পরলেও সালোয়ার কামিজ আসার পর থেকে শাড়ি পরার প্রচলন অনেকটা কমে যায়।

হাল ফ্যাশনে থ্রি পিসের তুলনায় বেড়েছে সিঙ্গেল কামিজ, ওয়ান পিস, কুর্তি ইত্যাদির চাহিদা। এগুলোতে ডিজাইন করা হচ্ছে ট্র্যাডিশনাল ও ফিউশন টাইপের। পুরুষরা এক সময় ধুতি-পাঞ্জাবি পরত। এরপর তারা পাঞ্জাবি-পায়জামা পরতে শুরু করল। লুঙ্গি ছিল তাদের প্রিয় পোশাক। এখনো এর জনপ্রিয়তা থাকলেও বিবর্তনের ধারায় এসেছে ট্রাউজার, ফিউশনধর্মী প্যান্ট এমন অনেক কিছু। তারা এখন শার্ট-প্যান্ট পরছে স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে।

কয়েক দশক আগেও পাঞ্জাবি ছিল ধর্মীয় পোশাক। হয়তো নামাজের জন্য বা ঈদের জন্য গায়ে জড়াতেন। আর মুরব্বিরা পাঞ্জাবি পরতেন বেশি। এখন ক্যাজুয়াল পোশাকে পরিণত হয়েছে এটি। ফ্যাশনের বিভিন্ন ধারার সঙ্গী হয়ে আছে জনকণ্ঠের ফিচার পাতা ফ্যাশন।
কৃতজ্ঞতা অনুভব করি আমাদের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত সম্পাদক স্যারের প্রতি যিনি এ ফিচার পাতার গুরুদায়িত্ব দিয়েছেন। নিজের সর্বোচ্চ দেওয়ার সাধনা থাকে সবসময়ই। এখন এ কর্মস্থল আমার কাছে শুধু একটি প্রতিষ্ঠান নয়, দ্বিতীয় আরেকটি পরিবার।

প্রয়াত সম্পাদক আতিকউল্লাহ খান স্যারের যোগ্য সহধর্মিণী শামীমা এ খানের সম্পাদনায় পত্রিকা পেয়েছে ভিন্নমাত্রা। জনকণ্ঠের প্রথম চলাটা ছিল সাফল্যম-িত। উত্থান-পতনের দোলাচলে আবার সেই হারানো ঐতিহ্য ফিরে আসছে এই প্রতিষ্ঠানে। পেছনে রয়েছে একদল সংবাদকর্মীর নিরলস প্রচেষ্টা। যারা সার্বক্ষণিক নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করছেন। এমন একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মী হতে পেরে গৌরবান্বিত।

×